Date : 14th Apr, 2026 | Call 1800 452 567 | info@thewall.in
'নিষিদ্ধ' ভারতীয় গানে প্রয়াত আশা ভোঁসলেকে শেষ শ্রদ্ধা! পাক চ্যানেলকে শোকজ, সমালোচনা দেশের ভিতরেই হরমুজ মার্কিন নৌ অবরোধে কোণঠাসা ইরান! তেল রফতানি প্রায় থমকে, দিনে ক্ষতি ৪৩৫ মিলিয়ন ডলারIPL 2026: আইপিএল অভিষেকে সেরা বোলিং পারফরম্যান্স! কে এই সাকিব হুসেন? ৪৯ লাখের টিকিট থাকা সত্ত্বেও বোর্ডিং বাতিল! বিমান সংস্থার সিইও-র বিরুদ্ধে FIR-এর নির্দেশ আদালতেরশ্রমিকদের বিক্ষোভে অশান্ত নয়ডা! পাক-যোগে ষড়যন্ত্র? তদন্তে পুলিশ, ধৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ৩০০ নিজেকে ‘যিশু’ সাজিয়ে পোস্ট! তীব্র বিতর্কের মুখে ছবি মুছলেন ট্রাম্প, সাফাই দিয়ে কী বললেন?IPL 2026: পয়লা ওভারেই ৩ উইকেট, স্বপ্নের আইপিএল অভিষেক! কে এই প্রফুল্ল হিঙ্গে?ইরান-মার্কিন বৈঠক ব্যর্থ নেতানিয়াহুর ফোনে! ট্রাম্পের প্রতিনিধিকে কী এমন বলেছিলেন, খোলসা করলেন নিজেইWeather: পয়লা বৈশাখে ঘামঝরা আবহাওয়া! দক্ষিণবঙ্গে তাপপ্রবাহের হলুদ সতর্কতা, আবার কবে বৃষ্টি?হরমুজ ঘিরে ফেলল মার্কিন সেনা! ইরানের 'শ্বাসরোধ' করতে ঝুঁকির মুখে আমেরিকাও, চাপে বিশ্ব অর্থনীতি

অনেক দিন পর মন ভাল করা ভোট দেখল ঢাকা, গোটা দেশেও অবাধ, দাবি প্রশাসনের, ইউনুস বললেন, ইদ মোবারক

সকাল থেকে ঢাকার উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন এলাকা ঘুরে দেখা গেল মানুষ হাসিমুখে বুথে চলেছেন। বুথ ফেরত কয়েকজন জানালেন, ভোটের ব্যবস্থাপনায় খুশি। ধানমণ্ডির এক বাসিনার কথায়, এতটা সুব্যবস্থা আশা করেননি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই ব্যক্তি জানালেন, তিনি ২০১৮ পর্যন্ত আওয়ামী লিগকে ভোট দিয়েছেন। কিন্তু ২০২৪ এর ভোটে বুথে যাননি। ২০১৪ আর ২০১৮-র ভোটে কারচুপি, দিনের ভোট রাতে করার প্রতিবাদে দলের সঙ্গে দূরত্ব তৈরি করে নিয়েছিলেন।

 অনেক দিন পর মন ভাল করা ভোট দেখল ঢাকা, গোটা  দেশেও অবাধ, দাবি প্রশাসনের, ইউনুস বললেন, ইদ মোবারক

শেষ আপডেট: 12 February 2026 19:59

অমল সরকার, ঢাকা

ভোটের তখন আর ঘণ্টা দেড়েক বাকি। ঢাকার শাঁখারি বাজারের (Shakhari Bazar, Dhaka) দোকান-বাজারে এই সময় পথঘাট ফাঁকাই থাকে। বৃহস্পতিবার ভর দুপুরে সেখানে আর পাঁচটা দিনের মতোই সকাল-সন্ধ্যের ব্যস্ততম সময়ের চিত্র। স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে হন হন করে হাঁটছিলেন কল্যাণ শূর। তাঁরা বুথের দিকে ছুটছিলেন। এক ফাঁকে স্বামী-স্ত্রী বলে গেলেন, ‘ভোট হচ্ছে শান্তিতে (vote peacefull)। সকাল থেকে গোলমালের কোনও খবর নেই। বাধার মুখেও পড়েনি কেউ।’

ঢাকার এই এলাকা রাজধানীর প্রাচীন জনপদ এবং হিন্দুরা সংখ্যায় বেশি। ঢাকা-৬ সংসদীয় আসনের অন্তর্গত এই এলাকায় অতীতে অনেক ভোটেই অশান্তির নজির রয়েছে। গলির মুখ থেকে বড় রাস্তায় আসতে চোখে পড়ল সেনা বাহিনীর বিশাল কনভয় (Bangladesh Army)। গলির মুখেও সেনা জওয়ানদের অতন্দ্র প্রহরায় দেখা গেল। ঢাকার বাকি ১৯টি আসনের মতো এখানেও মূল লড়াই বিএনপি ও জামাতের। ভোটারদের বুথে নিয়ে যেতে দুই দলের কর্মীদের তৎপরতা লক্ষ্য করা গেল। বাংলাদেশে বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে সাতটা থেকে বিকাল সাড়ে চারটে পর্যন্ত জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য ভোট নেওয়া হয়। একই সঙ্গে গণভোটের জন্যও আলাদা ব্যালটে ভোট নেওয়া হয়েছে। এখন দুটি ভোটেরই গণনা চলছে।

সকালে ঢাকার অভিজাত এলাকা গুলশানের গুলশন মডেল স্কুল ও কলেজের বুথে ভোট দেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। কিছুক্ষণ পর একই বুথে ভোট দেন প্রধান উপদেষ্টা মহম্মদ ইউনুস দুই ভিভিআইপি ভোটারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিশেষ দায়িত্বে ছিল সেনা বাহিনী। বাকি শহরে সেনারা মূলত রাস্তায়, বুথের বাইরে অলিগলিতে টহল দিয়েছে। অভিজাত এই এলাকার সাধারণ ভোটারদের অনেকেই বললেন, অনেক বছর পর এবার ভোটের ব্যবস্থাপনা বেশ ভাল।

ভোট দিলেন বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা মহম্মদ ইউনুস

রাজধানীর ২০টি আসনের মধ্যে বহু চর্চিত হল ঢাকা-৮ আসন। এখানে প্রার্থী সাবেক সাংসদ ও মন্ত্রী মির্জা আব্বাস। বিএনপির এই দাপুটে নেতার বিরুদ্ধে প্রার্থী ছিলেন জাতীয় নাগরিক পার্টির প্রথমসারির নেতা নাসিরুদ্দিন পাটোয়ারি। ঢাকার এই আসনের ভোট নিয়ে সব মহলেই আশঙ্কা ছিল। কিন্তু ভোট গ্রহণপর্ব ছিল শান্তপূর্ণ। দুই শিবিরেই উত্তেজনা, উন্মাদনা বিরাজ করেছে সকাল থেকে। কিন্তু সতর্ক ছিল প্রশাসন। এই আসনের একটি বুথ হয়েছে বড় একটি স্কুলে। ভোট দেওয়ার পর অনেকেই স্কুলের খেলার মাঠে আড্ডায় মেতেছিলেন। পুলিশ কর্মীরা হাত মাইকে অনুরোধ করলেন, ভোট দেওয়া হয়ে গেলে জায়গা ফাঁকা করে দিন। পুলিশের কথায় কাজ না হওয়ায় কিছু সময় পর হাজির হলেন সেন জওয়ানেরা। প্রথমে হাতজোড় করে অনুরোধ, তারপর ঠেলে সরিয়ে দিলেন অপেক্ষমান জনতাকে। তাতে কাউকে অসন্তোষ প্রকাশ করতে দেখা যায়নি।

 

সকাল থেকে ঢাকার উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন এলাকা ঘুরে দেখা গেল মানুষ হাসিমুখে বুথে চলেছেন। বুথ ফেরত কয়েকজন জানালেন, ভোটের ব্যবস্থাপনায় খুশি। ধানমণ্ডির এক বাসিনার কথায়, এতটা সুব্যবস্থা আশা করেননি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই ব্যক্তি জানালেন, তিনি ২০১৮ পর্যন্ত আওয়ামী লিগকে ভোট দিয়েছেন। কিন্তু ২০২৪ এর ভোটে বুথে যাননি। ২০১৪ আর ২০১৮-র ভোটে কারচুপি, দিনের ভোট রাতে করার প্রতিবাদে দলের সঙ্গে দূরত্ব তৈরি করে নিয়েছিলেন। ঢাকা-৫ আসমে তিন মেয়েকে সঙ্গে নিয়ে ভোট দিতে এসেছিলেন আকবর হোসেন। তিনি বললেন, আমি ২০০৮-এর পর আর ভোট দেওয়ার সুযোগ পাইনি। আমার বড় মেয়ে ভোটার হয়েও ২০১৮ থেকে ভোট দেয়নি অনাচারের প্রতিবাদে। ছোট দুই মেয়ে এবারই প্রথম ভোট দিল। তিন কন্যাই বললেন, দারুণ অভিজ্ঞতা। চারধারে উৎসবের আনন্দ।

বিকাল সাড়ে চারটেয় ভোট গ্রহণ শেষ হওয়ার পর প্রধান দুই প্রতিপক্ষ বিএনপি ও জামাত ভোট নিয়ে গুরুতর কোনও অভিযোগ করেনি। দুই দলই জানিয়েছে ছোটখাটো কিছু অভিযোগের খবর তারা পেয়েছে। বিএনপির মিডিয়া সেলের প্রধানের বক্তব্য, অভিযোগগুলি খতিয়ে না দেখে তারা কোনও প্রতিক্রিয়া দেবে না। যদিও সকাল ১১’টা নাগাদ বিএনপি-র প্রবীণ নেতা তথা দলের নির্বাচন কমিটির চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম খান এক বিবৃতিতে বলেন, ভোটদানের হার আশানুরুপ নয়। তিনি ভোটারদের বুথে যেতে আর্জি জানান। জামায়াতে ইসলামিও বড় ধরনের কোনও অভিযোগ করেনি। বিএনপি-র এক মুখপাত্র অবশ্য অভিযোগ করেন, বহু জায়গায় বিগত আওয়ামী লিগ সরকারের সময়ের ভোটের নজির লক্ষ্য করা গেছে। শেষ পর্যম্ত কত শতাংশ ভোট পড়েছে নির্বাচন কমিশন তা নিয়ে চূড়ান্তভাবে সেই পরিসংখ্যান জানায়নি। তবে ভোটদানের হার নিয়ে সংশ্লিষ্ট কোনও মহল থেকেই উদ্বেগ, উৎকণ্ঠা প্রকাশ করা হয়নি।

শান্তিপূর্ণ ভোটের জন্য সব মহলই সেনা বাহিনীকে বাড়তি কৃতিত্ব দিচ্ছে। অম্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতায় আসার পর পরই আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সেনা বাহিনীকে ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতা দেওয়া হয়েছিল। ভোটের বাংলাদেশকে শান্তিপূর্ণ রাখতে তারা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। বাংলাদেশ সেনাবাহিনী এক বিবৃতিতে সেনা বাহিনীর ভূমিকাকে ঐতিহাসিক বলে দাবি করেছে। তারা বলেছে, এই নির্বাচন বাংলাদেশের গণতন্ত্র এবং শান্তির পর্যায়ে উত্তরণ। সকালে আদমজী ক্যান্টনমেন্ট কলেজ ভোটকেন্দ্রে সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান ভোট প্রদান করেন। এছাড়া, রাজধানীর বারিধারা স্কলার্স ইন্টারন্যাশনাল স্কুল এন্ড কলেজ কেন্দ্রে ভোট দেন নৌবাহিনী প্রধান এডমিরাল এম নাজমুল হাসান এবং বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খান।

ভোট গ্রহণ শেষ হওয়ার পর প্রধান উপদেষ্টা মহম্মদ ইউনুস এক বিবৃতিতে বলেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের ওপর অনুষ্ঠিত গণভোট শান্তিপূর্ণ, সুশৃঙ্খল ও উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন হওয়ায় সমগ্র জাতিকে আন্তরিক অভিনন্দন ও কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন। বলে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং জানিয়েছেন। সকালে ভোট দেওয়ার পর নিজের আনন্দ প্রকাশ করতে গিয়ে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ইদ মোবারক।

ভোটগ্রহণ শেষে বিকালে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘ভোটারদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ, রাজনৈতিক দলগুলির দায়িত্বশীল আচরণ, প্রার্থীদের সংযম ও নির্বাচন-সংশ্লিষ্ট সব প্রতিষ্ঠানের পেশাদারত্ব—এই সম্মিলিত প্রচেষ্টাই প্রমাণ করেছে যে গণতন্ত্রের প্রতি আমাদের অঙ্গীকার অটুট। জনগণ তাদের সাংবিধানিক অধিকার প্রয়োগের মাধ্যমে দেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারনে সক্রিয় ভূমিকা রেখেছেন।’ প্রধান উপদেষ্টা আরও বলেছেন, ‘আমি নির্বাচন কমিশন, সশস্ত্র বাহিনী, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, প্রশাসন, পর্যবেক্ষক দল, গণমাধ্যমকর্মী এবং ভোটগ্রহণে সম্পৃক্ত সব কর্মকর্তা-কর্মচারীর প্রতি বিশেষ ধন্যবাদ জানাই। তাঁদের নিষ্ঠা ও পরিশ্রমের ফলেই এই বিশাল গণতান্ত্রিক আয়োজন সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে।’

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘আমি রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীদের প্রতি আহ্বান জানাই—চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণার পরও যেন গণতান্ত্রিক শালীনতা, সহনশীলতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ অটুট থাকে। মতের ভিন্নতা থাকবে, কিন্তু জাতীয় স্বার্থে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।’ তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ আজ আবারও প্রমাণ করেছে—জনগণই সকল ক্ষমতার উৎস। এই নির্বাচন আমাদের জন‍্য মহা আনন্দের ও উৎসবের। এর মধ‍্য দিয়ে নতুন বাংলাদেশের এক অভূতপূর্ব যাত্রা শুরু হলো।’ প্রধান উপদেষ্টা বলেন, এই নির্বাচন দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর। এই ধারা ধরে রাখা সম্ভব হলে গণতন্ত্র উৎকর্ষের শিখরে যাবে। তিনি গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করার এই অভিযাত্রায় একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান।


```