আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১–এর এজলাস থেকে ইতিমধ্যেই রায় পড়া শুরু হয়েছে, যা সরাসরি সম্প্রচার করছে বাংলাদেশ টেলিভিশন।
.jpeg.webp)
জায়ান্ট স্ক্রিনের সামনে ভিড়
শেষ আপডেট: 17 November 2025 13:07
দ্য ওয়াল ব্যুরো: জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধে শেখ হাসিনার (Sheikh Hasina Verdict) বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলার রায় ঘোষণা (Sheikh Hasina News) পর্ব শুরু হয়ে গিয়েছে। সেই ঐতিহাসিক মুহূর্ত সরাসরি দেখতে সোমবার সকাল থেকেই ঢাকার টিএসসি প্রাঙ্গণে ভিড় জমতে শুরু করে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রের সামনে বসানো হয়েছে জায়ান্ট স্ক্রিন। রায় ঘোষণার প্রতিটি মুহূর্ত চোখের সামনে দেখতে জড়ো হয়েছেন বহু মানুষ (Bangladesh News)।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১–এর এজলাস থেকে ইতিমধ্যেই রায় পড়া শুরু হয়েছে, যা সরাসরি সম্প্রচার করছে বাংলাদেশ টেলিভিশন। দুপুর সাড়ে ১২টার পর থেকেই কার্যক্রম তৎপর। আদালতে প্রথমেই শোনানো হয় বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থার রিপোর্টের অংশবিশেষ। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তুলে ধরা হয় গণ–অভ্যুত্থান চলাকালে শেখ হাসিনার বিভিন্ন টেলিফোন আলাপ। কিছুক্ষণ আগে প্রচারিত হয়েছে সে সময়কার তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনুর সঙ্গে তাঁর ফোনালাপও।
২০১৯ সালের আন্দোলনের সময় হত্যাকাণ্ড-সহ মানবতাবিরোধী অপরাধের ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলাগুলির মধ্যে এটি প্রথম যার রায় ঘোষণা হচ্ছে। সেই কারণেই টিএসসি–র বাতাসে আজ চাপা উত্তেজনার ছায়া।
এই মামলায় মূল অভিযুক্ত অপসারিত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তার পাশাপাশি অভিযুক্ত প্রাক্তন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান এবং পুলিশের প্রাক্তন আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন। তিনজনের বিরুদ্ধে আনা হয়েছে পাঁচটি অভিযোগ—
তিন অভিযুক্তের মধ্যে শেখ হাসিনা এবং আসাদুজ্জামান বর্তমানে পলাতক। দু’জনেই ভারতে অবস্থান করছেন বলে ট্রাইব্যুনাল সূত্রের দাবি।
রায় ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে টানা কয়েক মাস ধরে দেশজুড়ে আলোচিত থাকা এই মামলার পরিণতি জানা যাবে। ক্যাম্পাসে তাই আলোচনা, ফিসফাস, উদ্বেগ—সব মিলিয়ে সোমবার দুপুর যেন আরও ভারী হয়ে উঠছে।
এদিকে, বাংলাদেশের বহুল আলোচিত ‘মানবতাবিরোধী অপরাধ’ মামলার রায় ঘোষণার দিনেই সমর্থকদের উদ্দেশে আবেগঘন বার্তা দিয়েছেন দেশের অপসারিত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা (Sheikh Hasina )। সোমবার রায় ঘোষণার আগে তিনি দাবি করেন, তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলি ‘ভুয়ো’। তা ছাড়া বিচার প্রক্রিয়া তো চালাচ্ছেন “অবৈধ ও অসাংবিধানিকভাবে ক্ষমতা কুক্ষিগত করা” মহম্মদ ইউনুসের অন্তর্বর্তী সরকার।
এক অডিও বার্তায় হাসিনা অভিযোগ করেন, তাঁর দল আওয়ামী লীগকে ধ্বংস করার ষড়যন্ত্র চলছে। তিনি বলেন—“তারা চায় আওয়ামী লীগ রাজনীতি না করুক। দলটিকে নিষিদ্ধ করতে চায়। কিন্তু এত সহজ নয়। আওয়ামী লীগ এই দেশের মাটি আর মানুষের মধ্য থেকে উঠে এসেছে। কোনও অবৈধ ক্ষমতাদখলকারীর পকেট থেকে নয়।”