Date : 14th Apr, 2026 | Call 1800 452 567 | info@thewall.in
সরকারি গাড়ির চালককে ছুটি দিয়ে রাইটার্স থেকে হাঁটা দিলেন মন্ত্রীছত্তীসগড়ে পাওয়ার প্ল্যান্টে ভয়ঙ্কর বিস্ফোরণ! মৃত অন্তত ৯, ধ্বংসস্তূপের নীচে অনেকের আটকে পড়ার আশঙ্কাস্কি, ক্যান্ডেললাইট ডিনার আর পরিবার, বিয়ের জন্মদিনে কোন স্মৃতিতে ভাসলেন আলিয়া? পরপর দু’বার ছাঁটাই! চাকরি হারিয়ে 'বিহারি রোল' বানানো শুরু, এখন মাসে আয় ১.৩ কোটিনববর্ষে সস্তায় পেটপুরে খাওয়া! দুই বাংলার মহাভোজ একই থালিতে, হলিডে ইন-এ শুরু হচ্ছে ‘বৈশাখী মিলনমেলা’কষা মাংস থেকে কাটলেট! নববর্ষে তাজের সমস্ত হোটেলে জিভে জল আনা ভোজ, রইল সুলুকসন্ধানপিএসএল ছেড়ে আইপিএলে আসার কড়া মাশুল! ২ বছরের জন্য সাসপেন্ড কেকেআরের এই পেসার রণবীর-দীপিকার ৮ বছরের দাম্পত্যে বিচ্ছেদ! স্বামীর সঙ্গে বাড়তে থাকা দূরত্বই কি ডিভোর্সের কারণ?'বিজেপির কথায় চললে আমাদের কাছেও তালিকা থাকবে', পুলিশ কর্তাদের চরম হুঁশিয়ারি ব্রাত্য বসুর!একসময় নীতীশকেই কুর্সি থেকে সরানোর শপথ নিয়েছিলেন! তাঁর ছেড়ে যাওয়া পদেই বসলেন শকুনি-পুত্র

দুর্নীতি, কোটা আন্দোলনে জেরবার বাংলাদেশ, চর্চায় নেতা-আমলার কোটি টাকার গরু, ১৫ লাখের ছাগল

বেআইনিভাবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে গরুগ বিমানে চাপিয়ে আমদানি করা হয়েছিল।

দুর্নীতি, কোটা আন্দোলনে জেরবার বাংলাদেশ, চর্চায় নেতা-আমলার কোটি টাকার গরু, ১৫ লাখের ছাগল

শেষ আপডেট: 12 July 2024 21:22

অমল সরকার 

গত ইদে বাংলাদেশে শোরগোল ফেলে দিয়েছিল সামাজিক মাধ্যমের একটি পোস্ট। এক তরুণ ছাগলের সঙ্গে তাঁর ছবি পোস্ট করে জানায় কুরবানির জন্য পশুটি ১৫ লাখ টাকায় কিনেছে। ছাগলের দাম ১৫ লাখ জেনে চমকে ওঠেন দেশবাসী। প্রশ্ন ওঠে কে এই তরুণ, কী তাঁর টাকার উৎস। 

সেই ছাগল ঢাকার যে খামার থেকে তরুণ কিনেছিল সেখানে দেশটির দুর্নীতি দমন কমিশনের গোয়েন্দারা হানা দিয়ে আবিস্কার করেন ছয়টি ব্রাহমা জাতের গরু, যেগুলির প্রতিটির দাম এক কোটি টাকা। বেআইনিভাবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে গরুগুলি বিমানে চাপিয়ে আমদানি করা হয়েছিল। প্রশ্ন উঠেছে, দৈত্যাকৃতি গরুগুলি কি বিমান বন্দর কর্তৃপক্ষ, গোয়েন্দা এবং শুল্ক বিভাগকে ফাঁকি দিয়ে বাংলাদেশে ঢুকে পড়েছিল। 

বেআইনি পথে বিপুল সম্পদ করেছেন পুলিশের সাবেক প্রধান বেনজির আহমেদ

এদিকে, ভারতে যখন ডাক্তারি-সহ মেডিক্যাল কোর্সের সর্ব ভারতীয় পরীক্ষা নিট-ইউজি’র প্রশ্ন ফাঁসের অভিযোগ ঘিরে রাজনীতি তপ্ত তখন বাংলাদেশেও একই পরিস্থিতি। দেশটির পাবলিক সার্ভিস কমিশন বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস-সহ একাধিক চাকরির বাছাই পরীক্ষা নিয়ে থাকে। সেই সব পরীক্ষার প্রশ্নপত্র লাখ লাখ টাকার বিনিময়ে বিক্রির এক চক্র সামনে এসেছে। দুর্নীতি দমন কমিশন সৈয়দ আবেদ আলি নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে। সে পাবলিক সার্ভিস কমিশনের চেয়ারম্যানের সাবেক গাড়ি চালক। তদন্তে জানা গিয়েছে ঘুষের টাকায় বিপুল সম্পত্তি করেছে একদা কুলির কাজ করা সাদেক আলি। এখনও পর্যন্ত শুধু ঢাকাতেই তাঁর পঞ্চাশ কোটি টাকার সম্পত্তির হদিশ পেয়েছেন গোয়েন্দারা। 

ছাগল কাণ্ডে নাম জড়িয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সদস্য মতিউর রহমানের

এদিকে, একের পর এক দুর্নীতির ঘটনায় বাংলাদেশ সরকার যখন ব্যতিব্যস্ত তখন দিন দিন তীব্র হচ্ছে দেশটিতে চলমান কোটা বিরোধী আন্দোলন। বাংলাদেশে সরকারি চাকরির ৫৬ শতাংশ সংরক্ষিত। তারমধ্যে ৩০ শতাংশ সংরক্ষিত মুক্তিযোদ্ধা এবং তাঁদের পরিবারের জন্য। বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনকারীরা কোটা তুলে দেওয়ার দাবিতে গত একমাস ধরে ঢাকা-সহ বাংলাদেশের প্রথমসারির শহরগুলির গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা আটকে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে। তাদের  সিংহভাগই কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়া অথবা শিক্ষিত বেকার। তাদের দাবি, সরকারকে আইন করে কোটা তুলে দিতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আন্দোলনকারীদের ক্যাম্পাসে ফিরে যাওয়ার আর্জি জানালেও তাতে কাজ হয়নি। আন্দোলনকারীদের ক্লাস রুমে ফিরে যেতে বলেছেন দেশটির প্রধান বিচারপতি ওবায়দুল হাসানও। তিনি কোটা সংক্রান্ত হাই কোর্টের রায়ে এক মাসের জন্য স্থগিতাদেশ জারি করে আপাতত আন্দোলনকারীদের স্বস্তি দিয়েছেন। কিন্তু তাঁর আর্জিতেও আন্দোলনকারীরা দমেনি। তাদের দাবি, আদালত নয়, সরকারকে পদক্ষেপ করতে হবে।

শুক্রবার ঢাকা মহানগর পুলিশ কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে আন্দোলনকারীদের বলেছে, আইন হাতে তুলে নিলে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অবরোধ তুলে নিতে আর্জি জানিয়েছে মহানগর পুলিশ কমিশনার হাবিবুর রহমান।  

এদিকে, ছাগল কাণ্ডে যে তরুণ চর্চায় আসে জানা যায় তাঁর নাম মুশকিরুর রহমান ওরফে ইফাত। সামাজিক মাধ্যমে একের পর এক ছবি পোস্ট করে নানাজন তুলে ধরে কলেজ পড়ুয়া ইফাতের বিলাসবহুল জীবনের নানা দিক। দামি গাড়ি চড়া, পাঁচতারা হোটেলে খাওয়াদাওয়া, হই-হুল্লোড় করে জীবন কাটানোর নানা দিক সামনে আসে। আরও জানা যায় সে বাংলাদেশের জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সদস্য মতিউর রহমানের দ্বিতীয় স্ত্রীর প্রথম সন্তান। 

একজন সরকারি আধিকারিক মতিউরের বিপুল টাকার উৎস কী? কত টাকা বেতন পান তিনি? এই সব প্রশ্নের অনুসন্ধান করতে গিয়ে সামনে আসে জমানা নির্বিশেষে তাঁর অবৈধ রোজগার এবং মাথায় রাজনীতির প্রভূদের আশীর্বাদ থাকার বিষয়টি। রাজস্ব বোর্ডের মতো গুরুত্বপূর্ণ দফতরে উঁচু পদে থাকা সত্ত্বেও নিজেই শেয়ারের ব্যবসা খুলে বসেছেন মতিউর এবং একাধিকবার তাঁর বদলির আদেশ রদ হয়েছে। অভিযোগ, এক-দু’বার এমনকী সেনা কর্তারাও হস্তক্ষেপ করেছেন বদলি ঠেকাতে। তবে সেই কর্তারা এখন অবসরপ্রাপ্ত। 

প্রশ্ন ফাঁস কাণ্ডে ধৃত আবেদ আলি

কিন্তু ছাগলের দাম ১৫ লাখ কেন? ঢাকার যে খামার থেকে ছাগলটি কেনা হয়েছিল সেই সাদিক অ্যাগ্রোর মালিক ইমরান হোসেন সংবাদমাধ্যমকে বলেছেন, ছাগলটি উচ্চবংশীয়। সেই কারণে অত দাম। তিনিই জানান, গত বছর ইদে ইফাত মোট ৩০ লাখ টাকার পশু কিনেছিল। তারমধ্যে দুটি ছাগল, দুটি গরু এবং দুটি ভুট্টি বা বেটে গরু। রিফাত কাণ্ডে একদিকে যেমন অস্বস্তিতে পড়েছেন তাঁর বাবা মতিউর, অন্যদিকে, শাসক দল আওয়ামী লিগের লোকজনও বিড়ম্বনার শিকার। রিফাতের মায়ের মামা বাড়ির লোকজন বরিশালে শাসক দলের গুরুত্বপূর্ণ নেতা। তাঁদের একজন সদ্য অনুষ্ঠিত উপজেলা নির্বাচনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী।

রিফাতের পোস্ট ঘিরে গোটা বিষয়টি রাতারাতি অন্যদিকে মোড় নিয়েছে। ছাগল রহস্য উদঘাটনে গিয়ে বাংলাদেশ দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) আবিস্কার করে সাদেক অ্যাগ্রো সরকারি জমি দখল করে খামার বানিয়েছে। তাছাড়া বেআইনিভাবে আমদানি করা গরু-ছাগলও পাওয়া যায়। দুদক কর্তারা বিদেশি পশুগুলিকে সরকারি খামারে পাঠানোর পর ঢাকা পুরসভা সাদেক অ্যাগ্রোর খামারের বেআইনি অংশ ভেঙে দিয়েছে। 

বাজেয়াপ্ত পশুগুলির মধ্যে এখন শিরোনামে ব্রাহমা গরু। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে কী করে ওই গরু বাংলাদেশে ঢুকল তা নিয়ে রাজনীতি সরগরম। সাদেক অ্যাগ্রো থেকে বাজেয়াপ্ত হওয়া ছয়টি ব্রাহমা গরুর প্রতিটির দাম এক কোটি টাকা। গরুগুলির ওজন গড়ে ১৩০০ কেজি। তাই বলে গরুর দাম এক কোটি! 

এই ক্ষেত্রেও বংশপরম্পরাকেই হাতিয়ার করেছেন খামার মালিক। তদন্তে উঠে আসে, কোটি টাকায় গরু কেনার খদ্দেরের অভাব ছিল না। নেতা-আমলা ব্যবসায়ীদের একাংশ বুক করেছিল কোটি টাকার গরু। কিন্তু ছাগল কাণ্ডের পর তাঁরা আর টাকার গরম দেখানোর সাহস করেননি। 

কিন্তু মার্কিন গুরু বাংলাদেশে ঢুকল কী করে? তদন্তে জানা যায়, বছর তিন আগে গরুগুলিকে ঢাকা বিমানবন্দরে বাজেয়াপ্ত করেছিল বাংলাদেশের শুল্ক দফতর। কারণ, বাংলাদেশে ওই গরু আমদানি নিষিদ্ধ। সেগুলি কী করে সাদেক অ্যাগ্রোর খামারে গেল সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে জানা যাচ্ছে, সেখানেও প্রভাব খাটায় রাজনীতি। 

মাস দুই হল বাংলাদেশে দুর্নীতি ও রাজনীতি সংক্রান্ত আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন দেশটির পুলিশ বাহিনীর সাবেক প্রধান বেনজির আহমেদ। ঢাকার একটি সংবাদপত্রে অবসরপ্রাপ্ত ওই পুলিশ কর্তার বিপুল সম্পত্তির বিষয়টি জানাজানি হতেই তিনি বেপাত্তা। এখনও পর্যন্ত জমি-বাড়ি-ফ্ল্যাট, ব্যাঙ্ক এবং শেয়ার বাজারে জমা অর্থ যোগ করে বেনজিরের নামে-বেনামে হাজার কোটি টাকার বেশি সম্পদের হদিশ পাওয়া দিয়েছে। 

কর্মরত অবস্থাতেই নানা অনিয়নমের অভিযোগে নাম জড়িয়েছিল বাংলাদেশের সাবেক সেনা প্রধান আজিজ আহমেদের। অবসর গ্রহণের পর তাঁর বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে মার্কিন প্রশাসন। এই নিষেধাজ্ঞার অর্থ আজিজ বা তাঁর পরিবারের কেউ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে যেতে পারবেন না এবং সে দেশে তাঁদের কোনও সম্পত্তি থাকলে তা বাজেয়াপ্ত হয়ে যাবে। আজিজ এবং বেনজিরের ক্ষেত্রেও রাজনীতিকদের প্রশ্রয়, আশ্রয়ের কথাই সামনে এসেছে। দেশটিতে ২০০৯ থেকে ক্ষমতায় আছে আওয়ামী লিগ। তাৎপর্যপূর্ণ হল হালে নানা অনিয়নে নাম জড়ানো প্রাক্তন ও বর্তমান আমলারা বিএনপি জমানাতেও সমান সক্রিয় ছিলেন এবং তখনও দুর্নীতি, অনিয়মে নাম জড়ায় তাঁদের।


```