আওয়ামী লিগের সঙ্গে থাকা ফজলুর রহমান কিশোর বয়সে অস্ত্রহাতে মুক্তিযুদ্ধে শামিল হন। ছিলেন মুজিব বাহিনীর অন্যতম সদস্য। স্বাধীন বাংলাদেশ গঠনে শেখ মুজিব ও ভারতের ভূমিকা নতমস্তকে স্বীকার করেন এই প্রবীণ বিএনপি নেতা। এখনও নিজেকে শেখ মুজিবুর রহমানের সৈনিক বলে থাকেন।

শেষ আপডেট: 26 August 2025 19:59
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বিএনপি তাদের প্রবীণ নেতা ফজলুর রহমানকে আপাতত দল থেকে তাড়িয়েই দিল। দলীয় পদই শুধু নয়, কেড়ে নেওয়া হয়েছে দলের প্রাথমিক সদস্য পদও। সোমবার রাতেই এই প্রবীণ নেতাকে মৌখিকভাবে সিদ্ধান্ত জানিয়ে দিয়েছিল দল। মঙ্গলবার একটু আগে বহিষ্কারের চিঠি ধরানো হয়েছে তাঁর হাতে।
সোমবার দুপুরেই দ্য ওয়াল-এর খবরে বলা হয়েছিল দল থেকে তাড়িয়ে দেওয়া হবে খালেদা জিয়ার অন্যতম উপদেষ্টা প্রবীণ আইনজীবী তথা মুক্তিযোদ্ধা ফজলুর রহমানকে।আপতত তিন মাডের জন্য বহিষ্কার করা হয়েছে এই নেতাকে। বলা হয়েছে তিনি মুক্তিযোদ্ধা এবং প্রবীণ নেতা হওয়ায় শোধরানোর সুযোগ দেওয়া হল। সেই সঙ্গে টিভি টক শো'তে তাঁকে সযত আচরণ করতে বলা হয়েছে।
বিএনপির প্রথমসারির এই নেতা খালেজা জিয়ার উপদেষ্টা হলেও ফজলুর রহমান বরাবর শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তিনি একমাত্র বিএনপি নেতা যিনি প্রকাশ্যে বলে থাকেন বাংলাদেশের স্বাধীনতার প্রথম ঘোষক শেখ মুজিবুর রহমান। তাঁর বার্তাই রেডিওতে পাঠ করেছিলেন জিয়াউর রহমান। পরবর্তীকালে যিনি দেশের রাষ্ট্রপতি হন এবং বাংলাদেশে জাতীয়তাবাদী পার্টি অর্থাৎ বিএনপি তৈরি করেন।
একদা ছাত্র লিগ, আওয়ামী লিগের সঙ্গে থাকা ফজলুর রহমান কিশোর বয়সে অস্ত্রহাতে মুক্তিযুদ্ধে শামিল হন। ছিলেন মুজিব বাহিনীর অন্যতম সদস্য। স্বাধীন বাংলাদেশ গঠনে শেখ মুজিব ও ভারতের ভূমিকা নতমস্তকে স্বীকার করেন এই প্রবীণ বিএনপি নেতা। এখনও নিজেকে শেখ মুজিবুর রহমানের সৈনিক বলে থাকেন।
দলের সঙ্গে তাঁর বিরোধের কারণ গত বছরের জুলাই বিল্পব নিয়ে ব্যক্তিগত অবস্থান, যা বিএনপির দলগত অবস্থানের বিপরীত এবং শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লিগের বয়ানকেই মান্যতা দেন তিনি। এই অভিযোগে গত শনিবার তাঁকে কারণ দর্শানোর নোটিস ধরায় বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্ব। জুলাই বিপ্লব নিয়ে তাঁর বক্তব্যকে উদ্ভট এবং উশৃঙ্খল বলে বর্ণনা করেছে বিএনপি।
ফজলুর রহমান গণ-অভুত্থান এবং হাসিনা সরকারের পতনকে জামাত-ই-ইসলামির ষড়যন্ত্র বলে বর্ণনা করেন। তাঁর কথায়, গণ-অভ্যুত্থান কোনও সাধারণ রাজনৈতিক ঘটনা নয়। বরং একটি সুপরিকল্পিত ষড়যন্ত্র। ষড়যন্ত্রকারী হল ‘কালো শক্তি’ জামায়াত।
একটি টেলিভিশন শো-তে তিনি বলেছেন, ‘যারা ৫ অগস্ট ঘটাইছে, সেই কালো শক্তির নাম হল জামায়াতে ইসলাম। তাদের যে অগ্রগামী শক্তি তার নাম হইল ইসলামী ছাত্রশিবির। সারজিস আলমরা, যারা ওই এইটার (অভ্যুত্থানের) অভিনয় করছে, ৫ অগস্টের অভিনেতা যারা, আমি তাদেরকে নেতা বলতে চাই না। তাদের আমি অভিনেতা বলব। সেই আলবদর, আল শামস, জামায়াতে ইসলাম আমরা মনে করেছিলাম ৫৪ বছর পর পূর্বপুরুষের পরাজয়ের গ্লানি তারা ভুলে গেছে। কিন্তু না, সেই পরাজয়ের গ্লানি দ্বিগুণ আকারে তাদের মধ্যে এসেছে।’
বিএনপি-র সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর পাঠানো কারণ দর্শানোর নোটিসে বলা হয়েছিল, ‘আপনি জুলাই-অগস্ট ঐতিহাসিক গণ অভ্যুত্থান নিয়ে ক্রমাগত কুরুচিপূর্ণ ও বিভ্রান্তিকর বক্তব্য দিয়ে আসছেন। আত্মদানকারী শহিদদের নিয়ে যে বক্তব্য দিচ্ছেন তা সম্পূর্ণরূপে দলীয় আদর্শ ও গণঅভ্যুত্থানের চেতনার পরিপন্থী। এই গণঅভ্যুত্থানের বিরুদ্ধে এবং গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলন নিয়ে আপনার বক্তব্য জনমনে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। আপনার বক্তব্য দলের সুনাম ক্ষুণ্ণ করার সুপরিকল্পিত চক্রান্তের প্রয়াস বলে অনেকেই মনে করেন।’
চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, ‘আপনি জনগণের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দিয়ে কথা বলছেন। জুলাই-অগস্ট গণঅভ্যুত্থানে বিএনপির সাড়ে চারশোর অধিক নেতাকর্মীসহ ছাত্র-জনতার প্রায় দেড় হাজারের অধিক মানুষ শহিদ হয়েছেন এবং তিরিশ হাজারেরও বেশি মানুষ গুরুতর আহত হয়েছেন। গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের জন্য গণ-অভ্যুত্থানে ছাত্র-জনতার এ ধরনের বীরোচিত ভূমিকাকে আপনি প্রতিনিয়ত অপমান করছেন।’