
বাংলাদেশে বুধবারই গঠিত হতে পারে নোবেল জয়ী অর্থনীতিবিদ মহম্মহ ইউনুসের নেতৃত্বে অন্তবর্তীকালীন সরকার
শেষ আপডেট: 7 August 2024 13:51
অমল সরকার
বাংলাদেশে বুধবারই গঠিত হতে পারে নোবেল জয়ী অর্থনীতিবিদ মহম্মহ ইউনুসের নেতৃত্বে অন্তবর্তীকালীন সরকার। ইউনুসকে মাথায় রেখে আপাতত দেশ চালাবেন ১৫ সদস্যের উপদেষ্টামণ্ডলী। যাঁরা রাষ্ট্রপতি মহম্মদ সাহাবুদ্দিনের কাছে দায়বদ্ধ থাকবেন।
যদিও বাংলাদেশের সংবিধানে অন্তবর্তীকালীন সরকারের কোনও সংস্থান নেই। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সংস্থানও বিলোপ হয়ে গিয়েছে ২০১০ সালে। তাহলে অন্তবর্তীকালীন সরকার গঠন হবে কোন আইনে? ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক এবং বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনে ছাত্রদের পাশে থাকা আসিফ নজরুল বিবিসি-কে জানিয়েছেন, পরবর্তী সময়ে সংসদে বিল এনে অন্তবর্তী সরকারকে অনুমোদন দেওয়া সম্ভব। অতীতে অনেক জটিল পরিস্থিতি এইভাবে সামলানো হয়েছে।
জানা গিয়েছে, ১৫ সদস্যের উপদেষ্টা মণ্ডলীতে দু’জন ছাত্র প্রতিনিধি থাকবেন। এছাড়া মুক্তিযোদ্ধা, সংখ্যালঘু এবং ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর প্রতিনিধিরাও থাকবেন। নয়া সরকার দায়িত্ব নেওয়ার আগে দ্য ওয়াল-কে একান্ত সাক্ষাৎকালে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক নাসিফা জান্নাত জানিয়েছেন তাঁরা কেমন বাংলাদেশে চান। কী প্রত্যাশা মহম্মদ ইউনুসের কাছে।
মঙ্গলবার দিনভর বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি মহম্মদ সাহাবুদ্দিনের সঙ্গে বৈঠকে সেনা, প্রশাসন, শিক্ষক, রাজনৈতিক নেতাদের সঙ্গে আন্দোলনকারী ছাত্রদের যে ১৩ প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন নাসিফা তাঁদের একজন।
ঢাকা থেকে ফোনে দ্য ওয়াল-কে নাসিফা বলেন, ‘আমরা বেটার বাংলাদেশ ও অ্যাডভান্স বাংলাদেশ চাই। অন্তবর্তীকালীন সরকারের কাছে আমাদের প্রত্যাশা তারা এমনভাবে কাজ করবে যাতে বেটার বাংলাদেশ, অ্যাডভান্স বাংলাদেশের ভিত স্থাপিত হয়।’ তিনি বলেন, ‘এতদিন যে বাংলাদেশ ছিল তার থেকে ভিন্ন একটা দেশ চাই আমরা, যেখানে সবাই মুক্তকণ্ঠে তাদের কথা বলতে পারবে।’ তাঁর কথায়, ‘এটাই ছিল আমাদের আন্দোলনের অঙ্গীকার।’
নাসিফা বলেন, ‘আমরা বৈষম্যের বিরোধিতায় পথে নেমে ছিলাম। তাই অন্তবর্তী সরকারের উপদেষ্টা বাছাইয়ে আমরা সকলের প্রতিনিধিত্ব চেয়েছিলাম। সেটা হয়েছে। সরকারিভাবে তালিকা প্রকাশিত হলেই তা স্পষ্ট হবে।’
কেন তাঁরা ইউনুসকেই প্রধান উপদেষ্টা হিসাবে চাইলেন? নাসিফা বলেন, ‘এই মুহূর্তে আমাদের দেশের দুটি সমস্যা প্রধান। একটি আইন-শৃঙ্খলা। যা দ্রুত স্বাভাবিক করা দরকার। দ্বিতীয় হল, বেহাল আর্থিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক করা। ইউনুস স্যার অর্থনীতির পণ্ডিত এবং গোটা বিশ্ব তাঁকে জানে। অন্তবর্তী সরকার গঠিত হলেও সেই সরকার যথেষ্ট ওজনদার হবে তিনি প্রধানের দায়িত্বে থাকায়। আমরা মনে করি, তিনি দায়িত্ব নেওয়ার পর আন্তর্জাতিক দূনিয়া বাংলাদেশের ব্যাপারে ইতিবাচক হবে।’
তাঁরা কি মহম্মদ ইউনুসকে আগামী দিনে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী পদেও দেখতে আগ্রহী? নাসিফা বলেন, ‘ওঁর মতো মানুষ তো অবশ্যই যোগ্য। তবে এই মুহূর্তে আমরা অন্তবর্তীকালীন সরকারের প্রধান হিসাবেই চেয়েছি। আমাদের প্রত্যাশা পূরণ হয়েছে। আমরা আশাবাদী তাঁর হাত ধরে পরবর্তী নির্বাচনের আগেই গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে প্রয়োজনীয় সংস্কার করে ফেলা হবে।’
অন্তবর্তী সরকার গঠনে সেনা প্রধান ওয়াকার উজ জামান সক্রিয় ভূমিকা নিয়েছেন। অতীতে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়ও তৎকালীন সেনা প্রধান যথেষ্ট সক্রিয় ছিলেন। তা নিয়ে বিতর্কও তৈরি হয়েছিল। এবারের অন্তবর্তী সরকার কি সেনার নিয়ন্ত্রণ মুক্ত থাকতে পারবে? নাসিফা বলেন, ‘আমরা আশাবাদী অতীতের পুনরাবৃত্তি হবে না।’
শেখ হাসিনা দেশ ছাড়ার পর বাংলাদেশ জুড়ে নৈরাজ্য, খুন, লুঠতরাজ চলছে। গণভবনে লুঠতরাজ করা হয়। পুড়িয়ে দেওয়া হয় শেখ মুজিবুরের ২৩ ধানমণ্ডির বাড়ি, যেটি ছিল জাতীয় সংগ্রহালয়। এসব কারা করল? নাসিফা বলেন, ‘এই সব ঘটনার সঙ্গে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতৃত্ব ও সমর্থকদের কোনও সম্পর্ক নেই।’ তাঁর কথায়, ‘দুটি কারণে এইসব ঘটনা ঘটেছে। এক. প্রধানমন্ত্রী দেশ ছাড়ার পর দমবন্ধকর পরিস্থিতির অবসান হয়। সাধারণ মানুষের ক্ষোভের আগুন ঝড়ে পড়ে সরকারি স্থাপনার উপর। দ্বিতীয়ত, কিছু অপশক্তি ছাত্রদের অর্জনের কৃতিত্ব নিতে এটা করেছে। একই সঙ্গে তাদের উদ্দেশ্য ছিল ছাত্রদের আন্দোলনকে কালিমালিপ্ত করার। আমরা দেশের সব জায়গায় বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের তরফে কমিটি গড়েছি এই ধরনের ঘটনা প্রতিহত করতে। অবস্থা অনেকটাই সামাল দেওয়া গিয়েছে।’