
বাংলাদেশের সাংসদ আনোয়ারুল আজিম আনার
শেষ আপডেট: 24 May 2024 11:22
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বাংলাদেশের সাংসদ আনোয়ারুল আজিম আনারকে হানিট্র্যাপ করা হয়েছিল বলে কলকাতা পুলিশের সন্দেহ। শুধু তাই নয়, দেহ টুকরো করে তাতে হলুদ মাখিয়ে রাখা হয়েছিল। যাতে শরীরের মাংস খুব দ্রুত পচে না যায়। পুলিশ জানিয়েছে, কোনও মেয়ে বা মহিলাকে দিয়ে প্রলুব্ধ করে নিউটাউনের ফ্ল্যাটে এনে তোলা হয়েছিল আওয়ামি লিগের সাংসদকে। তারপর ভাড়াটে খুনি লাগিয়ে কোতল করা হয় তাঁকে।
পুলিশ আরও জানতে পেরেছে, বাংলাদেশি এক অবৈধ অনুপ্রবেশকারী এই খুন করে। বৃহস্পতিবার রাতে জিহাদ হাওলাদার নামে ওই ব্যক্তিকে গ্রেফতার করে পুলিশ জানতে পেরেছে, খুনের পর সাংসদের গায়ের চামড়া ছাড়িয়ে হাড়-মাংস আলাদা করা হয়েছিল। তাঁর দেহ টুকরো টুকরো করে প্ল্যাস্টিকের প্যাকেটে পুরে শহরের বিভিন্ন অংশে ছড়িয়ে ফেলা হয়েছিল। সব মিলিয়ে তদন্তে এক নারকীয় হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ধীরে ধীরে প্রকাশ্যে আসছে।
ধৃত যুবকের বয়স ২৪ বছর। তদন্তকারীদের সূত্রে খবর, পেশায় কসাই জিহাদ আদতে বাংলাদেশের খুলনার বাসিন্দা। অবৈধভাবে সীমান্ত পেরিয়ে ঢুকেছিল সে। জেরায় ধৃত খুনের কথা স্বীকারও করেছে। মৃতের পরিচয় যাতে বোঝা না যায় তাই শরীরের হাড় এবং মাংস আলাদা করে ফেলা হয়। এর পর হাড় ও মাংস টুকরো টুকরো করে কেটে ফেলে হলুদ গুঁড়ো মাখিয়ে পলিব্যাগে ভরে ফ্ল্যাটের বাইরে গিয়ে ফেলে দেওয়া হয়।
সাংসদ খুনের ঘটনায় সিআইডি ইতিমধ্যেই জুবের নামে আরও এক সন্দেহভাজনকে গ্রেফতার করেছে। সাংসদ খুনের ঘটনায় তিনজনকে গ্রেফতার করেছে বাংলাদেশ পুলিশ। খুনের কিনারা করতে সিআইডির একটি দল বৃহস্পতিবারই ঢাকা পৌঁছে গিয়েছে। জানা গিয়েছে, সেখানেই ধৃতদের জেরা করবেন গোয়েন্দারা।
প্রসঙ্গত, গত ১২ মে চিকিৎসার জন্য কলকাতায় এসেছিলেন আজিম। প্রথমে তিনি উঠেছিলেন বরানগরে এক বন্ধুর বাড়িতে। সেখান থেকে দু’দিন পর নিখোঁজ হয়ে যান। তারপর সংসদ সদস্যের খোঁজ শুরু হয়।
সিআইডির তদন্তে উঠে এসেছে, আজিম কলকাতায় আসার অনেক আগেই এখানে চলে এসেছিলেন অভিযুক্তেরা। শহরে বসেই তাঁরা খুনের ছক কষেছিলেন বলে মনে করা হচ্ছে। দুই অভিযুক্ত কলকাতার সদর স্ট্রিটের একটি হোটেলে ছিলেন গত ২ থেকে ১৩ মে পর্যন্ত। উল্লেখ্য, ১২ তারিখ কলকাতায় আসেন আজিম। অর্থাৎ, তাঁর আসার অন্তত ১০ দিন আগে কলকাতায় এসে পড়েছিলেন ওই দুই অভিযুক্ত। তাঁরা হোটেল ছাড়েন আজিম আসার এক দিন পরেই। গোয়েন্দাদের অনুমান, এই ১০ দিন ধরে শহরে থেকে খুনের পরিকল্পনা করেছিলেন অভিযুক্তেরা।