
চাকরিতে কোটা বাতিলের দাবিতে উত্তাল বাংলাদেশ
শেষ আপডেট: 5 July 2024 14:55
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সরকারি চাকরিতে কোটা বাতিলের দাবিতে উত্তাল বাংলাদেশ। দেশটির বেশিরভাগ কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে পঠনপাঠন বিঘ্নিত হচ্ছে ধারাবাহিক ছাত্র ধর্মঘটের কারণে। ছাত্রদের আন্দোলনে শামিল হয়েছেন বহু শিক্ষকও। বিশেষ করে ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, সিলেট এবং ঢাকার জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্ররা ধর্মঘট চালিয়ে যাচ্ছে। অনেক শিক্ষাঙ্গনে পঠনপাঠন পুরোপুরি বন্ধ। সরকার বিরক্ত শিক্ষকদের একাংশ এই আন্দোলনে যোগ দেওয়ায়।
ছয় বছর আগে ২০১৮ সালেও একই দাবিতে পথে নেমেছিল কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়ারা। বাংলাদেশে সরকারি চাকরির ৫৬ শতাংশ পদই সংরক্ষিত। এরমধ্যে মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের জন্য সংরক্ষিত পদ ৩০ শতাংশ।
এছাড়া দশ শতাংশ করে কোটা চালু আছে নারী প্রার্থী এবং বিভিন্ন জেলার জন্য। ক্ষুদ্র জনজাতিদের জন্য পাঁচ এবং বিশেষভাবে সক্ষমদের জন্য চালু আছে এক শতাংশ কোটা।
শিক্ষার্থীদের দাবি, কোটার পরিমাণ কমিয়ে ১০ শতাংশ করতে হবে। তাদের প্রশ্ন, মুক্তিযোদ্ধা ও তাদের ছেলেমেয়েরা কোটার সুবিধা গত ৫৩ বছর ধরে পেয়েছেন। এখন তাদের নাতি-নাতনিরাও একই সুবিধা পাবেন, এটা চলতে পারে না।
সরকার আন্দোলনকারীদের দাবির বিরোধী নয়। ২০১৮ সালের আন্দোলনের সময় বাংলাদেশ সরকারের জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় বিজ্ঞপ্তি জারি করে পুরো কোটা বাতিল করে দিয়ে সরকারির চাকরি সকলের জন্য উন্মুক্ত করে দেয়। কিন্তু মুক্তিযোদ্ধা পরিবারগুলির সংগঠন হাই কোর্টে মামলা করার পর আদালতের রায়ে সরকারি আদেশ খারিজ হয়ে যায়। পুরনো কোটা ব্যবস্থা বহাল থাকে। যদিও সরকার সেই রায়ের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে মামলা করেছে। কিন্তু সর্বোচ্চ আদালতে মামলার নিষ্পত্তি হয়নি।
এখন আবার নতুন করে ছাত্র সমাজ পথে নেমেছে। বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ব্যানারে কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়ারা এই আন্দোলন শুরু করেছে। তাদের আন্দোলনের জেরে ঢাকা-সহ দেশটির প্রধান শহরগুলিতে যান চলাচল বিঘ্নিত হচ্ছে। গতমাসে শুরু হওয়া আন্দোলন ক্যাম্পাস থেকে এক রাজপথে শুরু হয়েছে।
আন্দোলনকারীদের সঙ্গে বহু জায়গায় শাসক দল আওয়ামী লিগের ছাত্র সংগঠন ছাত্রলিগের কর্মী-সমর্থকদের গোলমাল হয়েছে। সরকার ও শাসক দলের বক্তব্য, আন্দোলনের নামে পঠনপাঠন বন্ধ রাখা যাবে না।
সূত্রের খবর, বৃহস্পতিবার বেশি রাতে আন্দোলনের অন্যতম নেতা সারজিস আলমকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘অমর একুশে’ হল থেকে বের করে দেওয়ার চেষ্টা করে ছাত্র লিগের নেতারা। যদিও আবাসিক পড়ুয়াদের প্রতিরোধের মুখে তা সম্ভব হয়নি। আন্দোলনকারীদের অন্যতম স্লোগান, ‘কোটা নয়, মেধা, মেধা, মেধা।’