
ফাইল চিত্র
শেষ আপডেট: 7 January 2025 23:36
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বাংলাদেশের আর্থিক গোয়েন্দা সংস্থা বাংলাদেশ ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট বা বিএফআইইউ শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা এবং তাঁদের সন্তানদের সকলের ব্যাঙ্ক লেনদেন নিয়ে জোরদার তদন্ত শুরু করেছে। তদন্তের প্রয়োজনে তারা কয়েকটি বিদেশে ব্যাঙ্কের কাছেও সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর বোন এবং পরিবারের সদস্যদের ব্যাঙ্ক লেনদেনের খতিয়ান তলব করেছে। সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর এবং তাঁদের পরিবারের সদস্যদের ব্যাঙ্ক লেনদেন সংক্রান্ত বিশদ তথ্য চেয়ে গতমাসে বাংলাদেশের সমস্ত ব্যাঙ্ক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে নির্দেশ পাঠায় ওই আর্থিক গোয়েন্দা সংস্থা। ব্যাঙ্কের নথিপত্র নিয়ে জোরদার তদন্ত শুরু করেছে বিএফআইইউ।
ঢাকায় বাংলাদেশ সরকারের উচ্চপদস্থ মহল থেকে ‘দ্য ওয়াল’-কে জানানো হয়েছে, সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর বোন ছাড়াও ব্যাঙ্ক লেনদেন সংক্রান্ত হিসাব তলব করা হয় হাসিনার পুত্র সজীব ওয়াজেদ জয়, মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুল, রেহানার দুই মেয়ে টিউলিপ সিদ্দিক ও আজমিনা সিদ্দিক এবং পুত্র রেদওয়ান মুজিব সিদ্দিক ববির ব্যাঙ্ক লেনদেন নিয়ে জোর কদমে তদন্ত চলছে। এই তদন্তের আওতায় আছে বঙ্গবন্ধু মেমোরিয়াল ট্রাস্টও। ট্রাস্টের চেয়ারপারসন শেখ হাসিনা। রেহানা ও তাঁর পুত্র ট্রাস্টের অন্যতম সদস্য। ট্রাস্টকে যাঁরা অর্থ সাহায্য করেছেন তাঁদেরও নোটিস ধরাচ্ছে বিএফআইএউ। এছাড়া হাসিনা ও রেহানার পরিবারের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলিরও ব্যাঙ্ক লেনদেনের হিসাব চেয়েছে বিএফআইইউ।
হাসিনা, তাঁর পুত্র জয় এবং রেহানা ও তাঁর মেয়ে টিউলিপের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ দুর্নীতি দমন কমিশন আগেই তদন্ত শুরু করে। রূপপুর পারমানবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের বরাত দেওয়াতে হাসিনা, রেহানা, জয় এবং টিউলিপ বিপুল অর্থ কমিশন নিয়েছেন বলে অভিযোগ। এই সংক্রান্ত মামলায় বাংলাদেশ হাই কোর্ট দুর্নীতি দমন কমিশনকে তদন্তের নির্দেশ দেয়।
হাসিনার বিরুদ্ধে ব্যক্তিগত দুর্নীতির অভিযোগের তদন্তের পাশাপাশি তাঁর সরকারের সময়ে দেশ থেকে বিপুল টাকা বিদেশে পাচার হয়েছে বলে অন্তর্বর্তী সরকার দাবি করছে। অর্থনীতিবিদ দেবপ্রিয় ভট্টাচার্যের নেতৃত্বে গঠিত কমিশন শ্বেতপত্র প্রকাশ করে দাবি করেছে, হাসিনার পনেরো বছরে প্রতি বছর গড়ে ১৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিদেশে পাচার হয়েছে। প্রতি ডলার ১২০ টাকা দরে বাংলাদেশি মুদ্রায় এর পরিমাণ ১ লাখ ৯২ হাজার কোটি টাকা।
দু সপ্তাহ আগে দুর্নীতি দমন কমিশন জানায়, শেখ হাসিনা, তাঁর পুত্র জয়, বোন শেখ রেহানা, তাঁর মেয়ে টিউলিপ সিদ্দিক বাংলাদেশের ৯টি প্রকল্পে মোট ৮০ হাজার কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন। এরপরই বাংলাদেশ সরকার দাবি করে প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী দেশ থেকে প্রায় আড়াই হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচার করেছেন শেখ হাসিনা এবং তাঁর পুত্র সজীব ওয়াজেদ জয়।
জয় বর্তমানে মার্কিন নাগরিক। তিনি তাঁর ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে ইউনুস সরকারের অভিযোগের জবাবে পাল্টা চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দাবি করেছেন সরকার এখনই আদালতে নথিপত্র পেশ করে দেখায় কোথায়, কীভাবে অর্থ পাচার করা হয়েছে। সম্প্রতি শেখ হাসিনা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ব্রিটেন-সহ আরও কয়েকটি দেশে প্রবাসী বাংলাদেশিদের উদ্দেশে ভার্চুয়াল মাধ্যমে দেওয়া ভাষণে দাবি করেছেন তাঁর বিরুদ্ধে তোলা দুর্নীতির অভিযোগ ভিত্তিহীন। তিনি পাল্টা প্রধান উপদেষ্টার বিরুদ্ধে সরকারি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ তুলেছেন।
অন্যদিকে, টিউলিপ ব্রিটেনের বর্তমান সরকারের মন্ত্রী। তিনি বহু বছর লেবার পার্টির এমপি। এবার মন্ত্রী হয়েছেন। তাঁর বিরুদ্ধে বাংলাদেশে দুর্নীতিতে যুক্ত থাকার অভিযোগ ওঠায় তিনি ব্রিটিশ মন্ত্রিসভার এথিক্স কমিটির মুখোমুখী হয়েছেন। কমিটি তাঁর বিষয়ে এখনও তাদের সিদ্ধান্ত জানায়নি। এদিকে, চিউলিপ ও তাঁর বোনের বিরুদ্ধে নতুন করে অভিযোগ উঠেছে আওয়ামী লিগ ঘনিষ্ঠ ব্যবসায়ীর কাছ থেকে লন্ডনে ফ্ল্যাট নেওয়ার।