Date : 15th Apr, 2026 | Call 1800 452 567 | info@thewall.in
TCS Scandal: যৌন হেনস্থা, ধর্মান্তরে চাপ! নাসিকের টিসিএসকাণ্ডে মালয়েশিয়া-যোগে আরও ঘনাল রহস্যক্যান্ডিডেটস জিতে বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপে গুকেশের মুখোমুখি সিন্দারভ, ড্র করেও খেতাবের লড়াইয়ে বৈশালীIPL 2026: চেন্নাইয়ের বিরুদ্ধে হেরে টেবিলের তলানিতে কেকেআর! গুরুতর বদলের ইঙ্গিত রাহানের নববর্ষের 'শুভনন্দন'-এও মুখ্যমন্ত্রীর SIR তোপ! বাংলায় পয়লা বৈশাখের শুভেচ্ছা প্রধানমন্ত্রীরইরানের সব পণ্যবাহী জাহাজ চলাচল বন্ধ করে‌ দেওয়া হয়েছে, দাবি আমেরিকার, চিন্তা ইরানি ল্যান্ডমাইনও Poila Baisakh: দক্ষিণেশ্বর থেকে কালীঘাট, নববর্ষে অগণিত ভক্তের ভিড়, পুজো দিতে লম্বা লাইনপয়লা বৈশাখেই কালবৈশাখীর দুর্যোগ! মাটি হতে পারে বেরনোর প্ল্যান, কোন কোন জেলায় বৃষ্টির পূর্বাভাসমেয়েকে শ্বাসরোধ করে মেরে আত্মঘাতী মহিলা! বেঙ্গালুরুর ফ্ল্যাটে জোড়া মৃত্যু ঘিরে ঘনীভূত রহস্য UCL: চ্যাম্পিয়নস লিগের শেষ চারে পিএসজি-আতলেতিকো, ছিটকে গেল বার্সা-লিভারপুল‘ইরানকে বিশ্বাস নেই’, যুদ্ধবিরতির মাঝে বিস্ফোরক জেডি ভ্যান্স! তবে কি ভেস্তে যাবে শান্তি আলোচনা?

হাসিনার রায় ঘিরে অস্তিত্ব জানান দেওয়ার বাজি আওয়ামী লিগের, ঢাকা অচল করতে প্রাণপাত নেতাদের

সোমবার থেকে নতুন উদ্যমে পথে নামতে চলেছে আওয়ামী লিগ। ১০ থেকে ১৩ নভেম্বর চারদিন টানা আন্দোলন কর্মসূচি ঘোষণা করেছে শেখ হাসিনার দল। এর মধ্যে ১৩ নভেম্বর বৃহস্পতিবার রাজধানী ঢাকায় লকডাউন পালনের ডাক দিয়েছে দলটি।

হাসিনার রায় ঘিরে অস্তিত্ব জানান দেওয়ার বাজি আওয়ামী লিগের, ঢাকা অচল করতে প্রাণপাত নেতাদের

শেখ হাসিনা।

শেষ আপডেট: 9 November 2025 15:43

দ্য ওয়াল ব্যুরো: সোমবার থেকে নতুন উদ্যমে পথে নামতে চলেছে আওয়ামী লিগ। ১০ থেকে ১৩ নভেম্বর চারদিন টানা আন্দোলন কর্মসূচি ঘোষণা করেছে শেখ হাসিনার দল। এর মধ্যে ১৩ নভেম্বর বৃহস্পতিবার রাজধানী ঢাকায় লকডাউন পালনের ডাক দিয়েছে দলটি। ওই দিন ঢাকার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া প্রথম মামলার রায়ের দিন-তারিখ ঘোষণা করার কথা। পরদিন শুক্র ও শনিবার বাংলাদেশে সরকারি অফিস-আদালতে সাপ্তাহিক ছুটি। আওয়ামী লিগ নেতাদের ধারণা, পরের রবিবার থেকে যে কোনও দিন হাসিনার বিরুদ্ধে সাজা ঘোষণা করে দেওয়া হতে পারে। দলও সেই মতো মহম্মদ ইউনুস সরকারকে জবাব দিতে তৈরি হচ্ছে।

মানবতা বিরোধী অপরাধের এই মামলায় হাসিনার সঙ্গে সহ-অভিযুক্ত তাঁর সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল এবং সাবেক পুলিশ প্রধান চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন। সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও সহ-অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে খুন, অপহরণ, পুলিশকে আন্দোলনকারীদের উপর মারণাস্ত্র ব্যবহারের অনুমতি দেওয়ার মতো গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে।

দলের সর্বোচ্চ নেত্রীর বিরুদ্ধে সাজা ঘোষণার মুখে দেশে অস্তিত্ব জাহির করার পরিকল্পনা নিয়েছে আওয়ামী লিগ। চলতি বছরের ১২ মে থেকে আওয়ামী লিগের কার্যকলাপ নিষিদ্ধ। তারপর থেকে দফায় দফায় ধরপাকড় চলছে দেশে। আওয়ামী লিগের লাখের বেশি নেতা-কর্মী-সমর্থক কারাবন্দি। দলের দাবি এখন পর্যন্ত প্রায় ৪০ কর্মী জেলে মারা গিয়েছেন। তাঁদের উপর লাগাতার নিপীড়ন, নির্যাতন চালানো হয়।

ধরপাকড় এখনও চলমান। শনিবারই পুলিশ আওয়ামী লিগের এক কর্মীকে গ্রেফতার করে স্রেফ ১৩ নভেম্বর ঢাকায় যেতে ফেসবুকে পোস্ট দেওয়ায়। গ্রেফতারি এড়াতে জেলা থেকে রাজধানী ঢাকার মেস বাড়িতে থাকছিলেন বহু নেতা-কর্মী। দিন দশ হল পুলিশ ও সেনার যৌথ বাহিনী মেস বাড়িগুলিতে অভিযান চালিয়ে বহু নেতা-কর্মীকে আটক করে। ১৩ তারিখ রাজধানী সচল রাখা ইউনুস সরকারের জন্যও বড় চ্যালেঞ্জ। এমনীতে জুলাই সনদ, গণভোট এবং জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে বিএনপি, জামাতের মতো দলগুলির বিপরীত অবস্থান ঘিরে অস্বস্তিকর পরিস্থিতির মধ্যে আছে ইউনুস সরকার। তার উপর আওয়ামী লিগের ঢাকা অচল করতে লকডাউনের ঘোষণায় প্রশাসন বিচলিত। সোমবার থেকেই গোটা দেশে সতর্কতা জারি করা হয়েছে। জেলাগুলিতে বাড়তি ফোর্স পাঠানো শুরু হয়েছে আওয়ামী লিগকে ঠেকাতে। ১৩ তারিখের আগে ঢাকায় পৌঁছাতে নেতা-কর্মীদের আহ্বান জানিয়েছে হাসিনার দল। আওয়ামী লিগকে আটকাতে ঢাকামুখী রাস্তাগুলিতে ব্যারিকেড তৈরি করছে পুলিশ ও সেনা। ব্যারিকেড ভেঙে রাজধানীতে আসতে নেতা-কর্মীদের উৎসাহিত করেছেন আওয়ামী লিগের নেতারা। ফলে বৃহস্পতিবার হাসিনার দলের সঙ্গে ইউনুসের পুলিশ ও সেনার যৌথ বাহিনীর সংঘাত এবং রক্তপাতের আশঙ্কা উড়িয়ে দিচ্ছে না প্রশাসনের একাংশ।

এর মধ্যেই আওয়ামী লিগ সোমবার থেকে টানা চারদিন দেশের জেলা, উপজেলাগুলিতে মিটিং, মিছিল করার ডাক দিয়েছে। অন্যদিকে, ১৩ তারিখ ঢাকার মানুষকে লকডাউন পালন অর্থাৎ বাড়ি থেকে না বেরনোর আহ্বান জানিয়েছে হাসিনার দল। দলের এক প্রবীণ নেতার কথায়, ১৩ নভেম্বর আমরা দেখিয়ে দিতে চাই মানুষ আমাদের পাশে আছে। এত ধরপাকড় সত্ত্বেও আওয়ামী লিগের নেতা-কর্মীরা পথে নামতে প্রস্তুত। নিষিদ্ধ ঘোষণা করে আওয়ামী লিগকে যে নিঃশেষ করা যায়নি সোমবার থেকে ইউনুস সরকার তা টের পাবে। ওই নেতার আত্মবিশ্বাসী মন্তব্য, বঙ্গবন্ধু কন্যাকে সাজা দেওয়া, ফাঁসির আদেশ শোনানোর পরিণতি ভয়ঙ্কর হবে। আওয়ামী লিগের পাশাপাশি মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের যাবতীয় শক্তি এর বিরোধিতা করবে।  

গত বছর ৫ অগস্ট ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার কয়েক মাস পর থেকেই আওয়ামী লিগ নেতারা রাজপথের আন্দোলনে জোর দিয়েছেন। তবে সোমবার থেকে চারদিনের টানা কর্মসূচি এবং শেষ দিন লকডাউনের ঘোষণা দলের অস্তিত্ব জানান দিতে বড় চ্যালেঞ্জ হিসাবে নিয়েছেন নেতারা। দেশে ও দেশের বাইরে থাকা নেতারা দফায় দফায় কর্মী-সমর্থকদের সঙ্গে বৈঠক করছেন। সোশ্যাল মিডিয়াতেও সক্রিয়তা বাড়িয়ে দিয়েছেন নেতারা।

ওয়াবদুল কাদের, জাহাঙ্গীর কবীর নানক, বাহাউদ্দীন নাছিম, এসএম কামাল হোসেন, সুজিত রায় নন্দী, পঙ্কজ নাথ, ছাত্র নেতা সাদ্দাম হোসেন, শেখ ওয়ালি আসিফ ইনান প্রমুখ দিনরাত এক করে দেশের নেতা-কর্মী-সমর্থকদের সঙ্গে দফায় দফায় ভার্চুয়াল বৈঠক করছেন। ছাত্র লিগ এক বিবৃতিতে বলেছে, ১৩ নভেম্বরের সর্বাত্মক ‘লকডাউন’ কেবল একটি দিন নয়; এটি অবৈধ সরকারের প্রতি বাংলার জনতার চূড়ান্ত আঘাত, সাংবিধানিক-নাগরিক-রাজনৈতিক অধিকার পুনরুদ্ধারের ঐতিহাসিক সূচনা এবং আধুনিক, গণতান্ত্রিক, ধর্মনিরপেক্ষ ও প্রগতিশীল বাংলাদেশ গড়ার দৃঢ় প্রত্যয়ের প্রতিফলন। যতক্ষণ না এই অবিচারের সাম্রাজ্যের অবসান হচ্ছে, বর্তমান ঘুণে ধরা সমাজব্যবস্থার ইতি ঘটছে এবং অবৈধ সরকার উৎখাত হচ্ছে, ততক্ষণ পর্যন্ত এই সংগ্রাম অপ্রতিরোধ্য গতিতে চলবে। জনতার জয় অনিবার্য।


```