আগামী ২৬ অগস্ট শুনানির জন্য সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদ সিদ্ধান্ত ঘোষণার পর। তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠন করা হয় তিন মাসের জন্য। সেই সরকারের কাজ মূলত নির্বাচন পরিচালনা করা। আইন অনুসারে সর্বশেষ অবসরপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতির তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হওয়ার কথা।

শেষ আপডেট: 21 August 2025 13:31
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বাংলাদেশে পরবর্তী জাতীয় সংসদ নির্বাচন কি তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে হতে চলেছে? নির্বাচনের আগেই কি বিদায় নিচ্ছে মহম্মদ ইউনুসের সরকার?
বৃহস্পতিবার সকালে এই প্রশ্ন বাংলাদেশের রাজনৈতিক মহলে ঘুরপাক খেতে শুরু করেছে তত্ত্বাবধায়ক সরকার সংক্রান্ত মামলাটি আগামী ২৬ অগস্ট শুনানির জন্য সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদ সিদ্ধান্ত ঘোষণার পর। তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠন করা হয় তিন মাসের জন্য। সেই সরকারের কাজ মূলত নির্বাচন পরিচালনা করা। আইন অনুসারে সর্বশেষ অবসরপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতির তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হওয়ার কথা। বর্তমান প্রধান বিচারপতির আগামী মাসে অবসর নিতে পারেন। সেক্ষেত্রে তিনিই হতে পারেন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান।
গত ১৫ অগস্ট শেখ হাসিনা দলের সভায় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে ভোট করার দাবি তোলেন। প্রসঙ্গত, ২০০৮ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচনে বিপুল ভোটে নির্বাচিত হয়ে ক্ষমতায় আসে আওয়ামী লিগ। ২০১০-এ বাংলাদেশ হাই কোর্ট এক রায়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল করলে শেখ হাসিনা সরকার সংবিধান সংশোধন করে ওই বিধানটি বাদ দেয়। ফলে ২০১৪, ২০১৮ এবং ২০২৪-এর জাতীয় সংসদ নির্বাচন তত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে হয়নি।
গত বছর হাসিনা সরকারের পতনের পর বাংলাদেশ হাই কোর্টই ওই ব্যবস্থা ফেরানোর রায় দিয়েছে। এখন সুপ্রিম কোর্ট হাই কোর্টের রায় বহাল রাখলে জাতীয় সংসদ নির্বাচন তত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে হওয়ার সম্ভাবনা বেশি।
বৃহস্পতিবার বিএনপি ও জামাত এবং বাংলাদেশের পাঁচজন বিশিষ্ট নাগরিকের দায়ের করা মামলাটি নিয়ে প্রধান বিচারপতি ২৬ অগস্ট শুনানির দিন ধার্য করেন। শেখ হাসিনা কেন তাঁর সরকারের বাতিল করা সরকার ব্যবস্থা ফেরাতে চান? আওয়ামী লিগের ব্যাখ্যা হাসিনা আইন-আদালতের উপর আস্থাশীল রাজনীতিক। হাই কোর্ট বলায় তিনি তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা সংবিধান থেকে বাদ দিয়েছিলেন। এখন হাই কোর্টই ওই ব্যবস্থা ফেরানোর কথা বলায় হাসিনা তা মেনে নিয়েছেন।