
ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 3 November 2024 15:36
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বকেয়া অর্থের পরমাণ বেড়ে হয়েছে ৭১৮৪ কোটি টাকা। ৭ নভেম্বর অর্থাৎ আগামী বৃহস্পতিবারের মধ্যে বিলের টাকা না মেটালে বাংলাদেশকে বিদ্যুৎ দেবে না আাদানি গ্রুপ। ভারতের এই বিদ্যুৎ কোম্পানি ২০২২ থেকে বাংলাদেশকে বিদ্যুৎ বিক্রি করে আসছে।
ঝাড়খণ্ডের গোড্ডায় অবস্থিত আদানিদের আধুনিক প্ল্যান্ট থেকে বাংলাদেশকে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়। এজন্য ইন্দোনেশিয়া থেকে উন্নতমানের কয়লা আমদানি করে আদানি গ্রুপ। চুক্তি অনুযায়ী প্রতিদিন ১৪৯৬ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ করে আদানি গ্রুপ। সুত্রের খবর, গত ৩১ অক্টোবর থেকে গৌতম আদানির কোম্পানি পরিমাণ অর্ধেক করে ৭২৪ মেগাওয়াট সরবরাহ করছে।
বাংলাদেশের বিদ্যুৎ সংশ্লিষ্ট মহলের আশঙ্কা, আদানি গোষ্ঠী বকেয়া মেটানো নিয়ে নরম মনোভাব না নিলে অন্ধকারে ডুবে যেতে পারে দেশের বিস্তীর্ণ এলাকা। আদানি পাওয়ার বর্তমানে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় বিদ্যুৎ সরবরাহকারী সংস্থা। এর পরে আছে বাংলাদেশের পায়রা (১,২৪৪ মেগাওয়াট), রামপাল (১,২৩৪ মেগাওয়াট) এবং এসএস পাওয়ার আই (১,২২৪ মেগাওয়াট) বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী কোম্পানির বিদ্যুৎ।
বিদ্যুৎ সমস্যা অবশ্য নতুন নয়। বিগত মাস দুই হল বিদ্যুৎ ঘাটতি চলছে। দিনে চার পাঁচ ঘণ্টা করে বিদ্যুৎ থাকছে না দেশিয় সংস্থাগুলি উৎপাদন কমিয়ে দেওয়ায়। কয়লা ও জ্বালানি তেলের অভাবে উৎপাদন কমাতে হয়েছে। সরকারি সুত্রের খবর ডলার সংকটের কারণে এই সংকট তৈরি হয়েছে। কারণ সরকারের রাজস্ব আয় কমে গিয়েছে। ৫ অগাস্ট গণ অভ্যুত্থানের পর দেশ জুড়ে চলা নৈরাজ্যের ফলে কলকারখানা, ব্যবসা বাণিজ্যের বিপুল ক্ষতি হয়। অনেক সংস্থা, কোম্পানি বন্ধ হয়ে আছে। তারা সরকারকে রাজস্ব মেটাচ্ছে না।
রাশিয়ার টাকায় দুটি পরমাণু বিদ্যুৎ উৎপাদন ইউনিট তৈরি হচ্ছে। সেই প্রকল্পের কাজও থমকে গিয়েছে বাংলাদেশ সরকার ঋণের কিস্তি মেটাতে না পারায়।
গত সপ্তাহে আদানিদের কাছ থেকে বিল মেটানো নিয়ে চূড়ান্ত নোটিস পাওয়ার পর বাংলাদেশ সরকার দেশের কৃষি ব্যাঙ্ক মারফত ৭১০ কোটি টাকা মেটানোর উদ্যোগ নিলেও চুক্তিতে উল্লেখ না থাকায় তা কার্যকর হয়নি। ফলে বিল জট কাটেনি।