ইতিমধ্যে একাধিক মার্কিন সংস্থার অনুদান দেওয়া বন্ধ করে দিয়ে বাংলাদেশকে বিপাকে ফেলে দিয়েছেন ট্রাম্প।

শেষ আপডেট: 9 July 2025 12:27
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বাংলাদেশের পণ্যের (Bangladeshi goods) উপর ৩৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump)। বুধবার ওয়াশিংটনে মার্কিন কর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে শুল্ক হার কমানোর আর্জি জানাবে বাংলাদেশ। বাংলাদেশের বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন (Trade and Commerce advisor Sheikh Bashiruddin of Bangaldesh) এবং জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমান (Khalilur Rahaman, the Chief Security Advisor of Bangladesh) মার্কিন কর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন।
ওই বৈঠক ঘিরে দেশে বাণিজ্য মহলের তুমুল সমালোচনার মুখে পড়েছে মহম্মদ ইউনুসের সরকার। রপ্তানিকারণ সংস্থাগুলির অভিযোগ, সরকার তাদের অন্ধাকের রেখে মার্কিন কর্তাদের সঙ্গে আলোচনা চালাচ্ছে। অথচ, বাংলাদেশে রপ্তানি বলতে বেসরকারি সংস্থার পণ্যই। মোট রপ্তানির এক শতাংশও সরকারি পণ্য নয়।
রপ্তানিকারক সংস্থাগুলির মধ্যে ৮০১টিকে চিহ্নিত করা হয়েছে যারা ট্রাম্প প্রশাসনের আরোপ করা শুল্ক হারে বিপদের মুখে পড়েছে। আমেরিকায় পণ্য সরবরাহ করতে তাদের ওই হারে শুল্ক দিতে হবে। সবচেয়ে ক্ষতির মুখে পডার আশঙ্কা গার্মেন্টস বা তৈরি পোশাক শিল্পের। সেটাই বাংলাদেশের অর্থনীতির মেরুদণ্ড। আমেরিকায় বাংলাদেশের মোট রপ্তানির অর্ধেকের বেশি হল তৈরি পোশাক।
রপ্তানিকারক সংস্থাগুলির বক্তব্য, ট্রাম্প প্রশাসন তিন মাসের জন্য শুল্ক আরোপ স্থগিত রেখেছিল। এই তিন মাস দুই দেশের বাণিজ্য সংশ্লিষ্ট আধিকারিকেরা দফায় দফায় বৈঠক করেছেন। কিন্তু সরকারি কর্তারা বেসরকারি রপ্তানিকারকদের মতামত নেননি। তিন দিন আগে মার্কিন প্রশাসন ৩৫ শতাংশ শুল্ক চাপিয়ে দিলে সরকারের টনক নড়ে। প্রধান উপদেষ্টা মহম্মদ ইউনুসকে লেখা চিঠিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ৩৫ শতাংশ শুল্ক চাপানোর সপক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন।
ওয়াকিবহাল মহল মনে করছে, ট্রাম্পের শুল্ক নীতি বাংলাদেশের জন্য বড় ধরনের ধাক্কা হতে চলেছে। ইতিমধ্যে একাধিক মার্কিন সংস্থার অনুদান দেওয়া বন্ধ করে দিয়ে বাংলাদেশকে বিপাকে ফেলে দিয়েছেন ট্রাম্প। এবার চড়া হারে শুল্ক চালিয়ে গার্মেন্টস শিল্পকে বিপাকে ফেলে দিয়েছেন। এই হারে শুল্ক গিয়ে ব্যবসা করতে হলে বহু কোম্পানি বন্ধ হয়ে যাবে, কর্মী ছাঁটাই অবশ্যম্ভাবী বলে মনে করছে ওয়াকিবহালমহল। ইতিমধ্যে গাজিপুর, চট্টগ্রাম, ঢাকার পোশাক শিল্পের মালিকেরা শ্রমিক ছাঁটাইয়ের হুঁশিয়ারি দিয়েছে।
বাংলাদেশি পণ্যের বড় বাজার আমেরিকা। দেশটির রাজস্ব বোর্ড জানিয়েছে গত আর্থিক বছরে বাংলাদেশ থেকে আমেরিকা ৮৬৯ কোটি ডলারের পণ্য রপ্তানি করা হয় যার ৮৭ শতাংশের বেশি তৈরি পোশাক। এ ছাড়া নানা ধরনের চামড়াজাত পণ্য বেশি রপ্তানি হয়।
পোশাক মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশে গার্মেন্টস ম্যানুফ্যাকচারিং অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মাহমুদ হাসান খান মার্কিন শুল্ক নিয়ে ইউনুস সরকারের ভূমিকায় অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তাঁর কথায়, আমেরিকার সঙ্গে দর কষাকষি নিয়ে উৎপাদক ও রপ্তানিকারকদের অন্ধকারে রাখা হয়েছে। তাঁর পরামর্শ দর কষাকষিতে লবিস্ট নিয়োগ করা হোক। আলোচনায় রপ্তানিকারক ও উৎপাদকদের যুক্ত করুক সরকার।