৩০ পেরোলে নিঃশব্দে পেশি ক্ষয় শুরু হতে পারে, যাকে বলা হয় সারকোপেনিয়া। শরীরের এই লক্ষণগুলো অবহেলা করলে বাড়তে পারে বড় স্বাস্থ্যঝুঁকি।

শরীরের নিঃশব্দ বদল ভুলেও এড়িয়ে যাবেন না
শেষ আপডেট: 20 March 2026 17:39
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ৩০ পেরোতেই শরীরের ভিতরে শুরু হয় নিঃশব্দ বদল। মেটাবলিজম (Metabolism) ধীরে ধীরে কমতে থাকে, আর তার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ে ওজন বৃদ্ধির (Weight Gain) ঝুঁকি। তবে এই পতন হঠাৎ নয়, বরং সময়ের সঙ্গে ধীরে ধীরে ঘটে—যার বড় কারণ জীবনযাত্রার পরিবর্তন (Lifestyle Changes) ও শরীরের গঠনগত বদল (Body Composition)।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ৩০-এর পর থেকে প্রতি দশকে ৩-৮ শতাংশ পর্যন্ত পেশির ভর (Muscle Mass) কমতে পারে, যদি নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম (Physical Activity) না থাকে। এই পেশি কমে যাওয়ার প্রক্রিয়াকে বলা হয় সারকোপেনিয়া (Sarcopenia), যা মেটাবলিজম কমিয়ে দেয়। কারণ পেশি টিস্যু (Muscle Tissue) বিশ্রামের সময়েও বেশি ক্যালোরি (Calories) খরচ করে, তুলনায় চর্বি (Fat Tissue) কম সক্রিয়। ফলে পেশি কমলে শরীরের ক্যালোরি খরচের হারও কমে যায়।
এছাড়া হরমোনাল পরিবর্তন (Hormonal Changes)—পুরুষদের ক্ষেত্রে টেস্টোস্টেরন (Testosterone) ও মহিলাদের ক্ষেত্রে ইস্ট্রোজেন (Estrogen) কমে যাওয়া—পেশি ও হাড়ের (Bone Health) উপর প্রভাব ফেলে। এর ফলে হাড়ের ঘনত্ব (Bone Density) কমতে থাকে, বাড়ে অস্টিওপোরোসিস (Osteoporosis)-এর ঝুঁকি। সমস্যা হল, এই পরিবর্তনগুলো অনেক সময়ই নিঃশব্দে ঘটে, বড় কোনও উপসর্গ ছাড়াই।
তবে কিছু সূক্ষ্ম লক্ষণ (Symptoms) থাকে, বলছেন চিকিৎসকরা। যেমন-
এই পরিস্থিতি সামাল দিতে সবচেয়ে জরুরি নিয়মিত স্ট্রেংথ ট্রেনিং (Strength Training)। সপ্তাহে ২-৩ দিন ওজন তোলা (Weight Lifting) পেশি ধরে রাখতে সাহায্য করে। পাশাপাশি প্রোটিন (Protein) ও ক্যালসিয়াম (Calcium)-সমৃদ্ধ খাদ্য মেটাবলিজম বাড়াতে ও হাড় মজবুত রাখতে সাহায্য করে। প্রতিদিনের ছোটখাটো নড়াচড়া (Daily Movement)—যেমন হাঁটা বা বেশি সময় দাঁড়িয়ে থাকা—তাও গুরুত্বপূর্ণ।
বয়স বাড়া স্বাভাবিক। কিন্তু সচেতন জীবনযাপনেই সম্ভব সুস্থ থাকা। এখন থেকেই অভ্যাস বদলালে শরীরও দেবে ইতিবাচক সাড়া।