জ্যোতি মলহোত্রা একবার নয়, দু-বার পাকিস্তানে গেছিলেন। দিল্লির পাক হাইকমিশনের এক আধিকারিকের সাহায্যে তিনি সেখানে নিজের থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা করেন।

হরিশ মলহোত্রা এবং জ্যোতি
শেষ আপডেট: 20 May 2025 18:16
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মেয়ে দেশ-বিদেশ ঘুরে বেড়াত তা পরিবারের জানা থাকলেও সে যে পাকিস্তান গেছে তা নাকি কেউই জানত না। এমনকী তাঁর বাবাও নাকি কোনও খবরই পাননি! পাকিস্তানের হয়ে চরবৃত্তির (Pakistan Spy) অভিযোগে গ্রেফতার হওয়া জ্যোতি মলহোত্রাকে (Jyoti Malhotra) নিয়ে একের পর এক চাঞ্চল্য তথ্য সামনে আসছে। আর এই তথ্য দিয়েছেন খোদ তাঁর বাবা হরিশ (Harish Malhotra)। তাৎপর্যপূর্ণ বিষয়, মাত্র এক দিন আগেই তিনি মেয়ের পাকিস্তান সফর নিয়ে সম্পূর্ণ উল্টো কথা বলেছিলেন।
জ্যোতি মলহোত্রা একবার নয়, দু-বার পাকিস্তানে গেছিলেন। দিল্লির পাক হাইকমিশনের এক আধিকারিকের সাহায্যে তিনি সেখানে নিজের থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা করেন। পরে জানা গেছে, সে দেশে গিয়ে আইএসআই-এর একাধিক চরের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছিলেন জ্যোতি। গেছিলেন পাক-আফগান সীমান্তেও। এমনকী গুপ্তচর হওয়ার জন্য ট্রেনিংও নিয়েছিলেন। মেয়ের পাক সফর নিয়ে বাবা হরিশের প্রাথমিক বক্তব্য ছিল, কেউ পাকিস্তানে যেতেই পারে ঘুরতে। কোনও পরিচিত থাকলে ফোনও করতে পারে। কিন্তু একদিন পরই তাঁর বক্তব্য বদলে গেল।
মঙ্গলবার সর্বভারতীয় এক সংবাদমাধ্যমে সাক্ষাৎকার দিয়ে হরিশ বলেন, জ্যোতি তাঁকে জানিয়েছিল সে দিল্লি যাচ্ছে। কিন্তু সেখান থেকে কোথায় কোথায় গেছে তা তাঁরা জানতেন না। পাকিস্তানে যাওয়ার কথা তো নয়ই। পাশাপাশি হরিশের এও দাবি, মেয়ে দিল্লিতে চাকরি করে বলে জানিয়েছিল। সেই চাকরি কবে ছেড়ে দিয়ে দেশ-বিদেশ ঘুরে ভিডিও করত, তাও তাঁরা কেউ জানতেন না। এসব পরে নজরে আসে।
৩৩ বছর বয়সি জ্যোতিকে শুক্রবার হরিয়ানার নিউ অগ্রসেন এক্সটেনশন এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়। শনিবার আদালতে পেশের পর পাঁচ দিনের পুলিশ হেফাজতে পাঠানো হয়েছে। জ্যোতির বাবা এই প্রসঙ্গে বেশ ক্ষুব্ধই হয়েছিলেন। তাঁর বক্তব্য ছিল, জ্যোতির পাকিস্তানে যাওয়ার অনুমোদন ভারত-পাকিস্তান দু-পক্ষই দিয়েছিল। অথচ এখন তাঁর সফর নিয়ে বিতর্ক তৈরি করা হচ্ছে। তবে চোখের পলকেই কার্যত ডিগবাজি দিলেন তিনি। সাফ বললেন, তাঁদের কাউকে না বলেই পাকিস্তান গেছিল মেয়ে।
ইতিমধ্যে যে তথ্য সামনে আসছে তাতে এও জানা গেছে, লস্করের ঘাঁটিতে গুপ্তচর প্রশিক্ষণ হয়েছিল জ্যোতির। এছাড়া পাকিস্তান-আফগানিস্তান সীমান্তে যে জঙ্গি কার্যকলাপ চলে, তার সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন জ্যোতি। সেখানে কয়েকদিন ট্রেনিং নিয়েছিলেন। যে এলাকায় জ্যোতি গেছিলেন সেখানে জঙ্গিদের রমরমা বলা যেতে পারে। ওই অঞ্চলে সাধারণ মানুষের পদচিহ্ন পর্যন্ত পড়ে না। সেই প্রেক্ষিতে জ্যোতি মলহোত্রা ওখানে কী করে গেলেন, কার যোগসূত্রে গেলেন, সেটাই মূলত ভাবাচ্ছে গোয়েন্দাদের।