.jpeg)
সংগৃহীত ছবি
শেষ আপডেট: 5 January 2025 17:41
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ৪০ ঘণ্টা 'ডিজিটাল অ্যারেস্ট' অভিনেতা তথা জনপ্রিয় সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সার অঙ্কুশ বহুগুনা। মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন বলে জানান তিনি। গোটা অভিজ্ঞতার একটি ভিডিও শেয়ার করেন সোশ্যাল মিডিয়ায়। 'সচেতনতার জন্যই এই ভিডিও' বলেন তিনি।
এক-দু'ঘণ্টা নয়, টানা ৪০ ঘণ্টা ডিজিটাল অ্যারেস্ট হন অভিনেতা। টাকাও যায় অ্যাকাউন্ট থেকে। পার্সেল ডেলিভারির নামে ফোন আসে। পাতা হয় ফাঁদ। তাতে পা দিয়ে লুপে পড়ে যান। বাকিটা তিনি নিজেই এখনও বিশ্বাস করতে পারছেন না। যেভাবে তিনি ৪০ ঘণ্টা সমস্ত কিছু থেকে দূরে চলে গেছিলেন, তা ভেবে নিজেই অবাক হচ্ছে।
ভিডিওতে ইনফ্লুয়েন্সার জানান, তাঁর কাছে প্রথমে একটি ফোন আসে, বলা হয়। একটি পার্সেল আছে, কুরিয়ারটি ক্যানসেল করা হয়েছে। সাহায্যের জন্য জিরো টিপুন। জিরো টিপেই সবচেয়ে প্রথম ভুলটি তিনি করেন, কারণ তিনি জানতেন, কোনও পার্সেল তিনি অর্ডার করেননি। এটি অটো জেনারেটেড কল ছিল।
View this post on Instagram
অভিনেতা জানান, এরপর তাঁর ফোনটি একটি কাস্টমার কেয়ারে ট্রান্সফার হয়। যেখানে উল্টোদিকের ব্যক্তি জানান, অঙ্কুশ নাম দিয়ে একটি কুরিয়ার চিনে যাচ্ছিল, যা ধরা পড়ে পুলিশের কাছে। পার্সেলটি থেকে প্রচুর নিষিদ্ধ বিভিন্ন জিনিস পাওয়া গেছে। অভিনেতা যেকোনও মুহূর্তে গ্রেফতার হতে পারেন। তিনি তখন লুপে পা দিয়ে দিয়েছেন। ভয়তে তিনি জানান তিনি নির্দোষ। নিজেকে নির্দোষ প্রমাণ করতে গিয়েই ৪০ ঘণ্টা আটকে থাকেন।
অভিজ্ঞতার কথা বলার সময় চোখে মুখে ভয়ের ও আতঙ্কের ছাপ স্পষ্ট তাঁর। বলেন, 'আন্তর্জাতিক চক্রের সঙ্গে আমার জড়িয়েছে, এমন বলা হয়। এছাড়াও আমার নামে একাধিক ক্রিমিনাল রেকর্ড আছে বলেও জানায় ওরা। সাহায্য চাইলে ওরাই মুম্বই পুলিশে যোগাযোগ করে (ভুয়ো পুলিশ)। ভিডিও কল করা হয় সেই ফেক পুলিশের তরফে। একদম পুলিশের পোশাক, পুলিশের সবকিছু ছিল তাদের কাছে। আমাকে বলে দেওয়া হয়, আমি যেন রুমের সমস্ত গ্যাজেট বন্ধ করে দি ও বাইরের কারও সঙ্গে যোগাযোগ না করি। যোগাযোগ করলেই গ্রেফতার অনিবার্য।'
ভয়ে অভিনেতা কারও সঙ্গে যোগাযোগও করেননি। তিনি লুপের পা দিতে থেকেছেন ৪০ ঘণ্টা ধরে। জানান, প্রতারকদের সমস্ত তথ্যও তিনি দেন। প্রতারকরা অঙ্কুশকে জানিয়ে দেন, তাঁর ঘরের নীচেই পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। বেরোলেই ধরে ফেলবে।
টাকা চাইলে টাকাও দিয়ে দেন অভিনেতা। কিন্তু ৪০ ঘণ্টা পর বুঝতে পারেন, তিনি আসলে বোকা হয়েছেন। প্রতারিত হয়েছেন। তখনই কোনওরকমে সেখান থেকে বেরিয়ে বন্ধুদের কাছে পৌঁছন। তাঁর মাথা করছিল না গোটা সময়টায়, এমনই বলেন ভিডিওতে।
এমনকি পুলিশের কাছে যাওয়ার সময়ও নাকি তাঁর মনে হচ্ছিল ওই অটো হয়তো প্রতারকরাই ঠিক করে রেখেছেন। তিনি আসলে ফেঁসে যাচ্ছেন। বন্ধুদের অভয়ে তিনি গোটা বিষয়টি থেকে বেরিয়ে আসতে পারেন।
পুরো বিষয়টি নিয়ে সকলকে সচেতন করেন তিনি। জানান, প্রথম ২-৩ মিনিটে যদি আপনি বুঝতে পেরে যান ভাল। নাহলে আপনি বাঁচতে পারবেন না। ওরা ভয়ঙ্কর। ব্রেন ওয়াশ করে দেয়।
ডিজিটাল দুনিয়ায় এই ডিজিটাল অ্যারেস্ট বিষয়টি খুবই প্রচলিত শব্দ। রোজই দেশের কোথাও না কোথাও কেউ না কেউ প্রতারিত হচ্ছেন। কিছুদিন আগে বাংলার নদিয়ায় একজন বৃদ্ধ ১ কোটি টাকা খুইয়েছেন। তার আগে এই রাজ্যে এমন অনেক ঘটনা হচ্ছে।