আদিত্যনাথের দাবি, উত্তরপ্রদেশে ইতিমধ্যেই হালাল সার্টিফিকেটপ্রাপ্ত পণ্যের বিক্রিতে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে এবং রাজ্যে আর কেউ সেই পণ্য বিক্রি করার সাহস দেখাবে না।

যোগী আদিত্যনাথ
শেষ আপডেট: 22 October 2025 16:44
দ্য ওয়াল ব্যুরো: উত্তরপ্রদেশের (Uttar Pradesh) মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ (Yogi Adityanath) ফের তোপ দাগলেন 'হালাল সার্টিফিকেশন' (Halal Certificate) নিয়ে। তাঁর অভিযোগ, হালাল সার্টিফিকেটপ্রাপ্ত পণ্যের বিক্রি থেকে যে বিপুল অর্থ আদায় হয়, তা সন্ত্রাসবাদ, ধর্মান্তকরণ এবং তথাকথিত ‘লাভ জিহাদ’-এর কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে।
গোরক্ষপুরে (Gorakhpur) আরএসএসের (RSS) শতবর্ষ উপলক্ষে আয়োজিত ‘বিচার-পরিবার কুটুম্ব স্নেহ মিলন’ এবং ‘দীপোৎসব সে রাষ্ট্ৰোৎসব’ অনুষ্ঠানে যোগদান করে যোগী বলেন, “যখনই কিছু কিনবেন, দেখে নেবেন সেটায় যেন হালাল সার্টিফিকেশন না থাকে। সাবান থেকে শুরু করে জামাকাপড়, এমনকী দেশলাই - সবেতেই এখন হালাল ট্যাগ (Halal Tag) দেওয়া হচ্ছে। এই প্রক্রিয়ায় প্রায় ২৫ হাজার কোটি টাকার ব্যবসা হচ্ছে, অথচ এর কোনও সরকারি স্বীকৃতি নেই।”
আদিত্যনাথের দাবি, উত্তরপ্রদেশে ইতিমধ্যেই হালাল সার্টিফিকেটপ্রাপ্ত পণ্যের বিক্রিতে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে এবং রাজ্যে আর কেউ সেই পণ্য বিক্রি করার সাহস দেখাবে না।
ভারতের ইতিহাস নিয়েও মন্তব্য করেন যোগী। বলেন, পূর্বপুরুষরা রাজনৈতিক ইসলামের বিরুদ্ধে লড়েছেন, কিন্তু ইতিহাসে সেই অধ্যায়কে ইচ্ছে করেই আড়াল করা হয়েছে। ছত্রপতি শিবাজি মহারাজ, গুরু গোবিন্দ সিং, মহারানা প্রতাপ, মহারানা সাঙ্গা - তাঁরা সকলে সেই সংগ্রামের প্রতীক। যোগী আরও বলেন, “ব্রিটিশ ও ফরাসি উপনিবেশের কথা যেমন ইতিহাসে আলোচিত হয়, রাজনৈতিক ইসলামের বিরুদ্ধে সংগ্রামকে তেমন গুরুত্ব দেওয়া হয় না। অথচ সেটিই আমাদের ধর্মীয় বিশ্বাসকে সবচেয়ে বেশি আঘাত করেছে।”
আরএসএসের শতবর্ষ উপলক্ষে মুখ্যমন্ত্রী সংগঠনের ভূমিকার প্রশংসা করেন। বলেন, “রাম মন্দির নিয়ে যখন সমাজবাদী পার্টি, কংগ্রেস ও আইএনডিআই জোট প্রশ্ন তুলছিল, তখনও আরএসএসের কর্মীরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস রেখেছিলেন যে মন্দির হবেই।”
এই প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রীর রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী সমাজবাদী পার্টির সভাপতি অখিলেশ যাদবের সঙ্গে তাঁর দ্বন্দ্বও ফের সামনে এসেছে। দু’জনের মধ্যে সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় বিষয় নিয়ে চলা টানাপোড়েন নতুন করে রাজনৈতিক রং পেয়েছে।
রাজনৈতিক মহলের মতে, হালাল সার্টিফিকেশন নিয়ে এই সিদ্ধান্ত শুধু প্রশাসনিক নয়, বরং ২০২৭ সালের রাজ্য নির্বাচনের আগে ভোট-রাজনীতিতেও গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।