
যোগী আদিত্যনাথ
শেষ আপডেট: 19 February 2025 16:20
দ্য ওয়াল ব্যুরো: কোটি কোটি মানুষের ভিড়ে মল-মূত্রের থেকে বিপুল ব্যাকটেরিয়া ছড়াচ্ছে মহাকুম্ভে। তাই ত্রিবেণী সঙ্গমের জল যে একপ্রকার দূষিত তা ন্যাশনাল গ্রিন ট্রাইব্যুনালের রিপোর্টে প্রকাশ পেয়েছে। তবে এই রিপোর্টের তথ্য কার্যত উড়িয়ে দিয়েছেন উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ। বরং তাঁর পাল্টা দাবি, কুম্ভের জল এতটাই পরিষ্কার যে সেটা খাওয়া যেতে পারে।
রাজ্যের বিধানসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে মহাকুম্ভ প্রসঙ্গে মন্তব্য করেছেন যোগী আদিত্যনাথ। তাঁর দাবি, বিরোধী রাজনৈতিক শিবির ভুল তথ্য ছড়াচ্ছে, মহাকুম্ভকে বদনাম করার চেষ্টা করছে। কুম্ভের জলে স্নান করা পুরোপুরি সুরক্ষিত এবং এর জল এখনও পান যোগ্য।
আদিত্যনাথের কথায়, ''এখনও পর্যন্ত ৫৬.২৫ কোটি মানুষ মহাকুম্ভে পুণ্যস্নান করেছেন। এই ধরনের মিথ্যে খবর ছড়িয়ে দেওয়া মানে সেই ৫৬ কোটি মানুষের বিশ্বাস নিয়ে খেলা। সনাতন ধর্ম এবং হিন্দুদের বিশ্বাসকে আঘাত করা।'' তিনি এও দাবি করেছেন, যারা ত্রিবেণী সঙ্গমে ডুব দিয়েছেন তা সে সাধারণ মানুষ থেকে সেলেব্রিটি যেই হোন, সকলেই উত্তরপ্রদেশ প্রশাসনের প্রশংসা করেছেন।
ন্যাশনাল গ্রিন ট্রাইব্যুনাল তাদের রিপোর্টে বলেছিল, বায়োকেমিক্যাল অক্সিজেনের নিরিখে মহাকুম্ভের জল স্নানের উপযুক্ত নয়। গত ১২-১৩ জানুয়ারি সেখানে পরীক্ষানিরীক্ষা করার সময় দেখা গেছে নদীর জলে গুণমান জৈব রাসায়নিক অক্সিজেন চাহিদা মানদণ্ডের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ ছিল না।
রিপোর্টে এও বলা হয়েছে, মহাকুম্ভের জলে ব্যাকটেরিয়ার পরিমাণ এবং ঘনত্ব বেড়েছে ব্যাপক পরিমাণে। তবে শুধুমাত্র প্রয়াগরাজের ত্রিবেণী সঙ্গমেই নয়, সেখানকার কোনও ঘাটেরই জল স্নান করার উপযুক্ত নয় বলেও রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে।
এই কুম্ভ ১৪৪ বছরের বিরল যোগে হচ্ছে। গত ১৩ জানুয়ারি থেকে শুরু হয়েছে কুম্ভমেলা। তা চলবে ২৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। ইতিমধ্যে মেলায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে, পদপিষ্টের ঘটনাতেও প্রাণ হারিয়েছেন মোক্ষলাভের আশায় যাওয়া একাধিক পুণ্যার্থীরা। তবে তাতেও ভিড়ে সামান্যতম ভাঁটা পড়েনি মহাকুম্ভে। এই ব্যাকটেরিয়ার রিপোর্টেও যে খুব বেশি প্রভাব পড়েছিল পুণ্যার্থীদের মধ্যে তাও নয়। এখন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী যে দাবি করলেন তাতেও পুণ্যার্থীরা যে স্বস্তি পেলেন তা বলা বাহুল্য।