ভারত-পাক যুদ্ধের আবহে একাধিকবার সাংবাদিক বৈঠক করেছে ভারতীয় সেনা। আর এখান থেকেই সোফিয়া কুরেশি, ভ্যোমিকা সিং নামের এক একজন বীর যোদ্ধার কথা জানতে পেরেছে দেশ।

ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 14 May 2025 07:31
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভারত-পাক যুদ্ধের আবহে (India Pakistan Conflict) একাধিকবার সাংবাদিক বৈঠক করেছে ভারতীয় সেনা (Indian Army)। আর এখান থেকেই সোফিয়া কুরেশি, ভ্যোমিকা সিং নামের এক একজন বীর যোদ্ধার কথা জানতে পেরেছে দেশ। এমনই আর এক নাম হল এ কে ভারতী (AK Bharti)। তিনি এয়ার মার্শাল, ডিরেক্টর জেনারেল অফ এয়ার অপারেশন। পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ভারতের যে অভিযান সেই 'অপারেশন সিঁদুর'-এর (Operation Sindoor) অন্যতম মুখ তিনিই। তাঁর জন্য গর্বিত বাবা-মার খুশির অন্ত নেই।
বিহারের পূর্ণিয়া জেলার জুন্নি কালা গ্রামের বাসিন্দা অবদেশ কুমার ভারতী (এ কে ভারতী)-র বাবা-মা। পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ভারতের এই সাফল্যের পর তাঁরা যে প্রচণ্ড আনন্দিত তাতে কোনও সন্দেহ নেই। তবে তাঁরা সবথেকে বেশি খুশি ছেলের ভূমিকায়। 'অপারেশন সিঁদুর'-এর অন্যতম কারিগর যে তাঁদের ছেলে এটা জেনে গর্বে বুক ভরে গেছে এয়ার মার্শালের বাবা-মার।
এ কে ভারতীর বাবা-মা জানাচ্ছেন, ছোট থেকেই মেধাবী ছাত্র ছিলেন তিনি। স্বপ্ন ছিল একদিন ভারতীয় সেনাবাহিনীতে যোগ দেবেন। নির্দিষ্টভাবে এয়ার ফোর্সেই যোগ দিতে চেয়েছিলেন তিনি। আজ সেটাই শুধু হয়নি, সন্ত্রাসবাদের আঁতুড়ঘর পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ভারতের সফল অভিযানের অন্যতম রচয়িতা তিনিই। ভারতীর বাবা-মা বক্তব্য, গোটা বিশ্ব জেনে গেছে কাদের ছেলে দেশকে গর্বিত করেছে। তাঁর মা ঊর্মিলা দেবী জানাচ্ছেন, ছোট থেকে অত্যন্ত সাধারণ জীবনধারণে অভ্যস্ত ভারতী। এখনও তেমন জীবনযাপন করেন।
এয়ার মার্শাল ভারতী ১৯৮৭ সালে ভারতীয় বায়ুসেনায় যুক্ত হয়েছিলেন। ২০০৮ সালে তিনি প্রেসিডেন্টস এয়ার ফোর্স মেডেল পান। এরপর ২০২৩ সালে এয়ার মার্শাল পদে উন্নীত হন। তার আগে ভারতী সুখোই ৩০-এর কম্যান্ডিং অফিসার ছিলেন এবং এক সময়ে প্রয়াগরাজের সেন্ট্রাল এয়ার কম্যান্ডের সিনিয়র স্টাফ অফিসার পদেও দায়িত্ব পালন করেছেন।
'অপারেশন সিঁদুর' অভিযান নিয়ে ভারতীর বাবা-মার বক্তব্য, ''আমাদের গর্বের শেষ নেই। এটা ভেবে আরও ভাল লাগছে যে, বিহারের এক গ্রামের ছেলে কী করেছে তা গোটা পাকিস্তান সহ বিশ্ব জানল। আমাদের গ্রাম তো বটেই, গোটা দেশের নাম আরও উজ্জ্বল করেছে ভারতী।'' প্রসঙ্গত, সাংবাদিক বৈঠক থেকে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে অভিযান সম্পর্কে এ কে ভারতী জানিয়েছিলেন, তাঁদের লড়াই পাক সেনার বিরুদ্ধে নয়। লড়াই জঙ্গিদের বিরুদ্ধে। পাকিস্তানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা রুখেছে ভারতীয় সেনা। সে যে দেশেরই মিসাইল হোক না কেন, ভারত যে পাল্টা দিতে তৈরি তা স্পষ্ট করেছিলেন তিনি।