পুলিশ জানিয়েছে, খুনের ঘটনা আড়াল করতে দুর্ঘটনার মতো পরিস্থিতি তৈরি করে শ্বশুরবাড়ির লোকরা।

সংগৃহীত ছবি
শেষ আপডেট: 17 September 2025 17:29
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সন্তান না হওয়ায় (infertility issues) ক্রমাগত চাপ বাড়ছিল বাড়ির বউয়ের ওপর। শেষমেশ ‘ঝামেলা’ থেকে মুক্তি পেতে তাঁকে খুন করল শ্বশুরবাড়ির লোকরা (in-laws)। রাজস্থানের (Rajasthan) দীগ জেলায় কাকরা গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। মহিলার দেহ সন্দেহজনক অবস্থায় বাড়ির ভেতর থেকে উদ্ধার হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, খুনের ঘটনা আড়াল করতে দুর্ঘটনার মতো পরিস্থিতি তৈরি করে শ্বশুরবাড়ির লোকরা। দেহ পুড়িয়ে প্রমাণ লোপাট করার চেষ্টা করে অভিযুক্তরা। তাঁরা গ্রামবাসীদের বলেন, ওই গৃহবধূর মৃত্যু নাকি আগুনে পুড়ে হয়েছে। কিন্তু গ্রামবাসীদের সন্দেহ হলে তাঁরাই দ্রুত পুলিশকে খবর দেন, ফলে সম্পূর্ণ শরীর পুড়িয়ে ফেলার আগেই পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছয়।
খোহ থানার পুলিশ ফোনে শ্বশুরবাড়ির লোকজনকে শেষকৃত্য না করতে সতর্ক করেছিল। কিন্তু তাঁরা তড়িঘড়ি দেহ নিয়ে শ্মশানে যাওয়ার চেষ্টা করেন। এর আগেই খোহ থানার পুলিশ সেখানে পৌঁছে অর্ধদগ্ধ দেহটি উদ্ধার করে দীগ হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।
খোহ থানার ওসি মহেন্দ্র শর্মা বলেন, “কাকরা গ্রামে সরলা নামের এক মহিলাকে খুন করার খবর পেয়েছিলাম। অভিযোগ পেয়ে দেখা যায় বাড়ির মধ্যেই দেহ পুড়িয়ে ফেলার চেষ্টা চলছে।”
সরলা মূলত নগর থানা এলাকার রৌনিজা গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন। ২০০৫ সালে তাঁর বিয়ে হয় কাকরার বাসিন্দা অশোকের সঙ্গে। তাঁদের কোনও সন্তান ছিল না।
ঘটনার পর সরলার পরিবারের সদস্যরা দীগ হাসপাতালে পৌঁছে অশোক ও তাঁর পরিবারের বিরুদ্ধে খুনের অভিযোগ আনেন। সরলার ভাই বিক্রান্ত জানান, নিঃসন্তান হওয়ার জন্য অশোক প্রায়ই তাঁর দিদিকে মারধর করত, নানাভাবে হেনস্থা করতেও বাকি রাখেনি। তিনি বলেন, “বিয়ের পর থেকেই দাদা-বউদি মিলে আমার বোনকে প্রতিদিন মারত, কারণ সে সন্তানের জন্ম দিতে পারছিল না। আমরা একাধিকবার গ্রামে গিয়ে বোঝানোর চেষ্টা করেছি, কিন্তু কয়েকদিন শান্ত থাকলেও অশোক আবার একই ব্যবহার শুরু করত।”
বিক্রান্ত আরও অভিযোগ করেন, “অশোক আমার বোনকে বাড়ির ভিতর পুড়িয়ে মারে এবং তারপর দাহের আয়োজন শুরু করে। আমরা কিছুই জানতাম না। পরে খবর পেয়ে কাকরায় ছুটে যাই, কিন্তু ততক্ষণে পুলিশ দেহ নিয়ে দীগ হাসপাতালে চলে গেছে।”
সরলার পরিবারে দুই ভাই এবং তিন বোন রয়েছেন। কাকরা গ্রামে বর্তমানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। খুনের প্রকৃত কারণ খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু হয়েছে।