ভিডিওর ব্যাপারে জানতে পারার পরই রেলওয়ে X-এ জানায়, সংশ্লিষ্ট চ্যানেল এবং ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করা হয়েছে (woman cooks Maggi in train Railway action)।'

শেষ আপডেট: 22 November 2025 12:08
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ট্রেনে সফর (train journey) মানেই নানারকম খাবার, ছোটখাট সেই পিকনিকের মজাই আলাদা। সাধারণত যাত্রীরা বাড়ি থেকে খাবার নিয়ে আসেন, নয়তো ট্রেনে বা স্টেশনেই খাবার কিনে নেন (train journey foods)। সেই চলতি নিয়ম ভেঙে এক মহারাষ্ট্রীয় মহিলা ট্রেনের কামরার ভেতরেই ইলেকট্রিক কেটলে রান্না শুরু করে দিলেন (woman cooks Maggi in train)। আর সেই দৃশ্যই মুহূর্তে ভাইরাল হয়ে পড়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় (viral video in social media)। অনেকেই যাত্রীদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। সেই ঘটনায় এবার কড়া পদক্ষেপ করল রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ (central railway action train safety)।
ভাইরাল ভিডিওর ব্যাপারে জানতে পারার পরই সেন্ট্রাল রেলওয়ে X-এ বিবৃতি দিয়ে জানায়, সংশ্লিষ্ট চ্যানেল এবং ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করা হয়েছে (woman cooks Maggi in train Railway action)।'
তারা আরও জানিয়েছে, 'ট্রেনের ভিতরে ইলেকট্রনিক কেটলি ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। এটি বিপজ্জনক, বেআইনি এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ।' রেলওয়ের বক্তব্য, 'এভাবে বৈদ্যুতিক যন্ত্র ব্যবহার করলে শর্ট সার্কিট বা আগুন লাগার আশঙ্কা থাকে, যা শুধু ব্যবহারকারীর নয়, পুরো ট্রেনের যাত্রীদের জন্য বিপদ ডেকে আনতে পারে।'
তাদের বার্তা, “যাত্রীরা যেন এমন বিপজ্জনক আচরণ থেকে বিরত থাকেন। কেউ এ ধরনের ঘটনা লক্ষ্য করলে সঙ্গে সঙ্গে কর্তৃপক্ষকে জানানোর অনুরোধ করা হচ্ছে, যাতে সবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায়।”
Action is being initiated against the channel and the person concerned.
Using electronic kettle inside trains is strictly prohibited.
It is unsafe, illegal, and a punishable offence. It can lead to fire incidence and be disastrous for other passengers also.
May also cause… https://t.co/di9vkxrDLv— Central Railway (@Central_Railway) November 21, 2025
ঠিক কী ঘটেছিল?
ভাইরাল ওই ভিডিওতে দেখা যায়, এক মহিলা যাত্রী ট্রেনের এসি কামরায় ইলেকট্রিক পয়েন্টে কেটলি লাগিয়ে তাতে ম্যাগি বানাচ্ছেন। শুধু তাই নয়, তিনি সেই মুহূর্ত উপভোগও করছেন এবং ক্যামেরার সামনে হাসিখুশি মুখে পোজও দিচ্ছেন।
সোশ্যাল মিডিয়ার প্রতিক্রিয়া
ভিডিওটি শেয়ার করে এক ব্যবহারকারী লিখেছেন, “এটা বড়সড় সেফটি হ্যাজার্ড। পুরো ট্রেনকে বিপদে ফেলতে পারে। তাই আমাদের দেশে ভাল কিছু পাওয়া যায় না। সুবিধা দিলেই মানুষ অপব্যবহার করবে। মূল সমস্যা সিভিক সেন্সের অভাব।”
তার উত্তরে আরেকজন প্রশ্ন করেন, “কীভাবে? ট্রেনে তো ডিসি কারেন্ট থাকে, ল্যাপটপ চার্জ করা যায়। তাহলে এটা বিপজ্জনক কেন?”
আরেকজন পুরনো অভিজ্ঞতা শেয়ার করে লেখেন, “অনেক বছর আগে চেন্নাই থেকে টাটানগর যাওয়ার সময় এক পরিবার ট্রেনেই পুজোআচ্চা করছিল - ধূপকাঠি, কর্পূর সব জ্বলছিল। টিটিকে বলেছিলাম, তিনি গিয়ে সতর্ক করেন। ইন্টারনেট-যুগের আগের ঘটনা। কিন্তু আদতে কিছুই বদলায়নি, মানুষের সেন্স এখনও কম।”
অনেকে প্রশ্ন তুলেছেন, যখন কেটলি ট্রেনে ব্যবহার নিষিদ্ধ, তখন এগুলো যাত্রীদের সঙ্গেই কেন বোর্ড করতে দেওয়া হয়? আবার কারও বক্তব্য, অনেক যাত্রী মনে করেন, টিকিটের দাম দিয়েছেন মানেই কামরাটা যেন তাদের নিজের বাড়ি, তাই যা খুশি তাই করতে পারবেন।
একজন তো পরামর্শ দিয়েছেন, “রেলওয়ে যদি সত্যিই চায় মানুষ নিয়ম মেনে চলুক, তাহলে আগে অনবোর্ড পাওয়ার আউটলেটের ক্ষমতা বাড়াক এবং সেই বিষয়ে প্রচার করুক।”