
শেষ আপডেট: 30 October 2023 11:11
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ঠেলাগাড়িতে চাপিয়ে স্ত্রী ও দুই মেয়েকে রেললাইন পার করার চেষ্টা করছিলেন নরেশ। লেভেল ক্রসিং থাকা সত্ত্বেও রেলগেট টপকে লাইনে নেমেছিলেন তিনি। ছোট মতো ঠেলাটাও লাইনে নামিয়েছিলেন তিনি। তাতে দুই বাচ্চা মেয়ে ও বৌকে বসিয়ে ঠেলে লাইন পার করার চেষ্টা করেন। কিন্তু নরেশ জানতেন না, উল্কাগতিতে ছুটে আসছে দ্রুতগামী বন্দে ভারত ট্রেন। তাড়াহুড়ো করে ঠেলা ঠেলেও পরিবারকে বাঁচাতে পারেননি তিনি।
উত্তরপ্রদেশের কসমপুর এলাকায় ঘটনাটি ঘটেছে। ট্রেন দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয়েছে নরেশের স্ত্রী মোনা (৪০) ও দুই কন্যাসন্তান মনীষা (১৪) এবং চারুর (৭)। কঙ্কর খেরা গ্রামের বাসিন্দা তিনি। ঠেলাগাড়ি করে স্ত্রী এবং দুই কন্যাসন্তানকে নিয়ে রেললাইন পার করছিলেন নরেশ। লেভেল ক্রসিং দেওয়া থাকলেও লাইন পার করছিলেন তিনি। সেই সময় বন্দে ভারত এসে পিষে দেয় মোনা ও দুই মেয়েকে।
চোখের সামনে পরিবারকে শেষ হয়ে যেতে দেখে শোকে পাথর হয়ে গেছেন নরেশ। তিনি বলেছেন, “চোখের সামনে তখন বিভীষিকা। ভেবেছিলাম রেলগেট টপকে ছোট ঠেলায় বসিয়ে তাড়াতাড়ি ওদের পার করিয়ে দেব। কিন্তু বন্দে ভারত ট্রেন তখন কাছাকাছি চলে এসেছিল। তাড়াতাড়ি করেও পারিনি বাঁচাতে।”
পুলিশ জানিয়েছে, ঠেলাগাড়ির পিছনের আসনে দুই কন্যাকে নিয়ে বসেছিলেন মোনা। ট্রেনটি তীব্র গতিতে ছুটে এসে ঠেলাগাড়ির পিছনে ধাক্কা মারে। রেললাইনে দুই মেয়েকে নিয়ে ছিটকে পড়েন নরেশের স্ত্রী মোনা। দুরন্ত গতির ট্রেন তাঁদের পিষে দিয়ে চলে যায়। পুলিশ সুপার পীযূষকুমার সিংহ জানিয়েছেন, মৃতদেহগুলি ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে।
কসমপুরের ওই লেভেল ক্রসিংয়ে রক্ষীরা থাকেন সবসময়। বন্দে ভারত ওই লাইন দিয়ে যায় বলে সেখানে নিরাপত্তাও খুব কড়া। কিন্তু কীভাবে রেলগেট টপকে নরেশ লাইন পার করার চেষ্টা করলেন সে নিয়ে তদন্ত শুরু করছে পুলিশ। সেমি হাইস্পিড ট্রেন দ্রুত ব্রেক কষতে পারে না। তাই লাইনে ওই পরিবারকে দেখেও চালক কিছু করতে পারেননি।