ভেনেজুয়েলার (Venezuela) সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ও সামরিক ঘটনার সঙ্গে ভারতের তুলনা টেনে এক বিস্ফোরক মন্তব্য করে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিলেন কংগ্রেস নেতা ও প্রাক্তন মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী পৃথ্বীরাজ চহ্বাণ।

ডোনাল্ড ট্রাম্প, নরেন্দ্র মোদী ও নিকোলাস মাদুরো।
শেষ আপডেট: 6 January 2026 17:13
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভেনেজুয়েলার (Venezuela) সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ও সামরিক ঘটনার সঙ্গে ভারতের তুলনা টেনে এক বিস্ফোরক মন্তব্য করে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিলেন কংগ্রেস নেতা ও প্রাক্তন মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী পৃথ্বীরাজ চহ্বাণ। মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার আগে প্রধানমন্ত্রীর সচিবালয়ের প্রতি মন্ত্রী ছিলেন পৃথ্বীরাজ। তাঁর প্রশ্ন—“ভেনেজুয়েলায় যা হয়েছে, তেমন কিছু কি ভারতে হতে পারে? ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump) কি আমাদের প্রধানমন্ত্রীকে (Narendra Modi) অপহরণ করতে পারেন?”—এই মন্তব্য ঘিরেই দেশজুড়ে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তরজা এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপক কটাক্ষ।
মুম্বইয়ে এক আলোচনাসভায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক সামরিক অভিযানের প্রসঙ্গ টেনে চহ্বাণ এই মন্তব্য করেছেন। তাঁর ইঙ্গিত ছিল, ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে (Nicolas Maduro) ঘিরে মার্কিন পদক্ষেপ যদি বাস্তব হয়, তা হলে তো কোনওদিন ভারতের মতো দেশের ক্ষেত্রেও ভবিষ্যতে এমন ‘অপ্রত্যাশিত’ ঘটতে পারে! এই প্রশ্ন তোলা কি অনুচিত?
সোশ্যাল মিডিয়ায় হাস্যরস ও কটাক্ষ
চহ্বাণের এই মন্তব্য সামনে আসতেই সোশ্যাল মিডিয়ায় শুরু হয় তীব্র প্রতিক্রিয়া। বহু ব্যবহারকারী একে “অবাস্তব”, “অযৌক্তিক” এবং “হাস্যকর” বলে ব্যঙ্গ করেন। পরমাণু শক্তিধর দেশ ভারতের সঙ্গে ভেনেজুয়েলার তুলনা টানাকে অনেকেই রাজনৈতিক অপরিপক্বতা বলেও আক্রমণ করেন।
একাধিক পোস্টে চহ্বাণের বক্তব্যকে ‘জোক’, ‘ফুল’, এমনকি ‘জাতির জন্য অপমানজনক’ বলেও আখ্যা দেওয়া হয়।
প্রাক্তন ডিজিপি এসপি বৈদের তীব্র আক্রমণ
এই মন্তব্যের কড়া সমালোচনা করেছেন জম্মু ও কাশ্মীরের প্রাক্তন ডিজিপি এসপি বৈদ। তাঁর কথায়, “ট্রাম্প ভেনেজুয়েলায় যা করেছেন, তা ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ক্ষেত্রেও হতে পারে—এমন চিন্তাভাবনা গোটা দেশের জন্য অপমানজনক। কথা বলার আগে অন্তত একবার ভাবা উচিত। না কি এটাই এখন কংগ্রেসের প্রকৃত আদর্শ?”
জাতীয় নিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক কূটনীতি বিষয়ে দীর্ঘ অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে বৈদ বলেন, ভারতের মতো সার্বভৌম ও শক্তিশালী রাষ্ট্রের সঙ্গে এ ধরনের তুলনা একেবারেই দায়িত্বজ্ঞানহীন।
শুল্ক যুদ্ধ ও আমেরিকা প্রসঙ্গেই চহ্বাণের বক্তব্য
কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে ইতিমধ্যেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মন্তব্যকে কেন্দ্র করে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে আক্রমণ করেছেন। বিশেষ করে রাশিয়া থেকে তেল আমদানি এবং তার জেরে আমেরিকার উচ্চ শুল্ক চাপানোর প্রসঙ্গ ঘিরে বিতর্ক চলছে।
চহ্বাণের অভিযোগ, “৫০ শতাংশ শুল্ক বসালে ভারত–মার্কিন বাণিজ্য কার্যত অসম্ভব হয়ে পড়বে। সরাসরি নিষেধাজ্ঞা না দিয়ে শুল্ককে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।” তাঁর মতে, এর ফলে ভারতের রফতানিকারকেরা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন এবং বিকল্প বাজার খুঁজে নিতে বাধ্য হবেন।
‘মোগাম্বো খুশ হুয়া’ মন্তব্যে আগুনে ঘি
খাড়গে এই প্রসঙ্গে ট্রাম্পের একটি অডিও ক্লিপের উল্লেখ করে দাবি করেন, যেখানে ট্রাম্প বলেছেন— প্রধানমন্ত্রী মোদী তাঁকে “খুশি করতে চান”। এই মন্তব্যকে কটাক্ষ করে খাড়গে বলেছিলেন, “এটা শুনে আমার ‘মিস্টার ইন্ডিয়া’ ছবির সংলাপ মনে পড়ে গেল—‘মোগাম্বো খুশ হুয়া’।” এই মন্তব্যও রাজনৈতিক মহলে নতুন করে বিতর্কের আগুন জ্বালিয়েছে।
স্তব চিত্র: শুল্ক সত্ত্বেও আমেরিকায় রফতানি বেড়েছে
সব বিতর্কের মাঝেই সরকারি পরিসংখ্যান কিন্তু অন্য ছবি দেখাচ্ছে। নভেম্বর মাসে আমেরিকায় ভারতের পণ্য রফতানি বেড়েছে ২২.৬১ শতাংশ। চলতি অর্থবর্ষের এপ্রিল থেকে নভেম্বর পর্যন্ত আমেরিকায় ভারতের মোট রফতানি বেড়েছে ১১.৩৮ শতাংশ, যার আর্থিক মূল্য প্রায় ৫৯ বিলিয়ন ডলার।
ভেনেজুয়েলায় মার্কিন অভিযান নিয়ে এরই মধ্যে সর্বস্তরে সমালোচনা চলছে। এভাবে কোনও সার্বভৌম দেশের রাষ্ট্রপতিকে গ্রেফতার করা যায় কিনা সে প্রশ্নও উঠছে। যেন অনেকটাই দেশ দখলের মতো ব্যাপার হল। আগামী দিনে এই প্রবণতা বাড়লে অন্য সার্বভৌম রাষ্ট্রও বিপদে পড়তে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। সেই প্রেক্ষাপটেই এদিন মন্তব্য করেছেন পৃথ্বীরাজ। সম্ভবত আন্তর্জাতিক স্তরে দেশকে খাটো করার অভিপ্রায় তাঁর ছিল না। বরং ভেনেজুয়ালায় মার্কিন অভিযানের সমালোচনা করে তিনি বোঝাতে চেয়েছেন, নয়াদিল্লির কি চুপ করে থাকাটা ঠিক হচ্ছে!