
পাক মদতে জঙ্গি কার্যকলাপ নিয়ে ভারত বরাবরই ঘরে-বাইরে ইসলামাবাদকে নিশানা করে এসেছে।
শেষ আপডেট: 30 August 2024 14:07
দ্য ওয়াল ব্যুরো: প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী আন্তর্জাতিক কূটনীতির ঢেঁকির খেলায় যখন ভারসাম্য রক্ষা করে চলছেন, তখন আমন্ত্রণ পেয়েও কি পা রাখবেন পড়শি পাকিস্তানে? জম্মু-কাশ্মীর এবং পাক মদতে জঙ্গি কার্যকলাপ নিয়ে ভারত বরাবরই ঘরে-বাইরে ইসলামাবাদকে নিশানা করে এসেছে। ভূস্বর্গের ভোটের পরেই অক্টোবরে পাকিস্তানে বসতে চলেছে সাংহাই কোঅপারেশন অর্গানাইজেশনের বৈঠক। তাতে যোগ দিতে মোদীকে সেদেশে যাওয়ার আমন্ত্রণ জানিয়েছে পাকিস্তান।
আগামী ১৫-১৬ অক্টোবর এসসিও- বৈঠক হতে চলেছে। এবছর পাকিস্তান উদ্যোক্তা দেশ। এই বৈঠকে হাজির থাকতে গোষ্ঠীভুক্ত দেশগুলির রাষ্ট্রপ্রধানদের সরকারিভাবে আমন্ত্রণ জানিয়েছে পাকিস্তান। ইসলামাবাদের বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র মুমতাজ বালুচ জানান, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকেও আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। তিনি আরও জানান, ইতিমধ্যেই কিছু দেশ আসার বিষয়ে নিশ্চয়তার কথা জানিয়ে দিয়েছে। সাংবাদিকদের একজন তাঁর কাছে জানতে চান, ভারতের সঙ্গে চুক্তির বিষয়ে কিছু আলোচনা হয়েছে কিনা। জবাবে বালুচ বলেন, ভারতের সঙ্গে পাকিস্তানের সরাসরি কোনও দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তি নেই।
প্রসঙ্গত, সাংহাই কোঅপারেশন অর্গানাইজেশন ২০০১ সালে চিন প্রতিষ্ঠিত একটি গোষ্ঠী। যার সদস্য হল ভারত, রাশিয়া, চিন, পাকিস্তান, কাজাখস্তান, কিরঘিজস্তান, তাজিকিস্তান এবং উজবেকিস্তান। ২০১৭ সালে ভারত ও পাকিস্তান এসসিও-র স্থায়ী সদস্যের মর্যাদা পায়। উল্লেখ্য, কাজাখস্তানে অনুষ্ঠেয় এসসিও বৈঠকে মোদী যাননি। যদিও তার পরেই তিনি রাশিয়া সফরে যান। সেবার ভারতের প্রতিনিধিত্ব করেছিলেন বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর।
আসলে ভারত এখন বিশ্বগুরুর স্বপ্ন চোখে আন্তর্জাতিক দুই বৃহৎ শক্তির সঙ্গে হুঁকো খেতে চাইছে। তাই মোদী একইসঙ্গে রাশিয়ায় গিয়ে ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গেও দেখা করছেন। কিন্তু, ইউক্রেনের উপর আক্রমণ নিয়ে টুঁ শব্দটি করছেন না। আবার ইউক্রেনের রাষ্ট্রপ্রধানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে ধরি মাছ না ছুঁই পানির ভাবখানা ধরে রেখে বলছেন, আমরা কোনও পক্ষেই নেই। আমরা শান্তির পক্ষে।
মোদী যেমন রাশিয়াকে চটিয়ে চিনের বিরাগভাজন হতে চাইছেন না, তেমনই আমেরিকার আঙুল ছাড়তে নারাজ নয়াদিল্লি। এই কূটনীতিতে নরেন্দ্র মোদী ইউপিএ জমানার কংগ্রেস প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংয়ের পদাঙ্ক অনুসরণ করে ভারসাম্যের খেলা খেলে চলেছেন। প্রধানমন্ত্রী হওয়ার ১০ বছরের মধ্যেই মোদী ৬ বার রাশিয়া এবং ৮ বার আমেরিকা সফর সেরে ফেলেছেন।
কারণ, পাকিস্তানকে বাগে রাখতে হলে আমেরিকা-রাশিয়ার লেজ ধরে রাখা ছাড়া গত্যন্তর নেই ভারতের। অন্যদিকে, চিনকে সন্তুষ্ট রাখতে রাশিয়ার পক্ষে থাকাই সুবিধাজনক রাস্তা নয়াদিল্লির। বিশেষত, ইউক্রেনের কিছু আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞ সম্ভবত পাকিস্তানপন্থীদের পক্ষে সরব। তাঁরা ক্রিমিয়াকে কাশ্মীরের সঙ্গে তুলনা করছেন। প্রশ্ন তুলেছেন, ক্রিমিয়া কি তবে ইউরোপের কাশ্মীর হতে চলেছে? ২০১৭ সাল থেকে কিয়েভ পাকিস্তানি সাঁজোয়া গাড়ির জন্য ইঞ্জিন বেচছে ইসলামাবাদকে। এছাড়াও পাকিস্তানের যুদ্ধাস্ত্র আধুনিকীকরণ ও অত্যাধুনিক ট্যাঙ্ক বিক্রির প্রস্তাবও দিয়ে রেখেছে। এই অবস্থায় পাকিস্তানকে চাপে রাখতে আমেরিকা ও ইউরোপকে পাশে পাওয়াই মূল লক্ষ্য ভারতের। যেমনটা করেছিলেন প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং। তিনি রাশিয়া গিয়েছিলেন ৯ বার সমানুপাতিকভাবে আমেরিকাও গিয়েছিলেন ততবারই। ফলে পাকিস্তানের আমন্ত্রণ রাখতে এবার মোদী কী সিদ্ধান্ত নেন, সেদিকেই তাকিয়ে আছে আন্তর্জাতিক রাজনীতি।