জেলা পুলিশের পদস্থ আধিকারিক রাম বিনয় কুমার জানিয়েছেন, মামলাটি অত্যন্ত গুরুতর। পলাতকদের ধরতে তল্লাশি চলছে। কাউকেই ছাড়া হবে না।

প্রতীকী ছবি
শেষ আপডেট: 17 June 2025 17:07
দ্য ওয়াল ব্যুরো: 'বিবাহ বহির্ভূত' সম্পর্কের অভিযোগে স্ত্রীকে অকথ্য নির্যাতন। কাঠগড়ায় বছর ৪০ এর ব্যক্তি। বিহারের মুজফ্ফরপুর জেলার ঘটনায় শিউরে উঠছে দেশ।
স্ত্রীর সম্পর্ক রয়েছে অন্য কারও সঙ্গে। এমন সন্দেহের বশে তাঁকে গোপন ঘরে দু’দিন আটকে রাখেন ব্যক্তি। দফায় দফায় দেওয়া হয় ইস্ত্রির ছ্যাঁকা। গোপনাঙ্গে ঢোকানো হয় লঙ্কার গুঁড়ো। এতেও আশ না মিটলে তাঁকে বিদ্যুতের শক দিয়ে খুনের চেষ্টারও অভিযোগ উঠেছে।
পুলিশ সূত্রে খবর, অভিযুক্তর নাম শত্রুঘ্ন রাই (৪০)। মহিলার অভিযোগ, ১৩ জুন এই নৃশংস নির্যাতনের ঘটনা ঘটে। তাঁর আর্তনাদ সত্ত্বেও প্রতিবেশীরা ভয়ে এগিয়ে আসেননি। অবশেষে ১৫ জুন, তাঁর ভাই গিয়ে উদ্ধার করেন। শুধু স্বামী নয়, তাঁর পরিবারও সক্রিয়ভাবে এই ঘটনায় যুক্ত বলে দাবি করেছেন নির্যাতিতা।
এদিকে মহিলাকে প্রথমে প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ভর্তি করা হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে শ্রীকৃষ্ণ মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। মহিলা বলেন, 'গত ৬ মাস ধরে স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন আমার চরিত্র নিয়ে সন্দেহ করত। আমি নিজে থেকেই মেডিক্যাল পরীক্ষার প্রস্তাব দিই। তখন ওরা খুনের হুমকি দেয়। এরপর যা করল, তা পশুরাও করে না।'
১৬ জুন, নির্যাতিতা তাঁর স্বামী শত্রুঘ্ন রাই, শাশুড়ি দুখনি দেবী (৪৫), দেওর সুমেশ রাই (৩০) ও ননদ পুষ্পা দেবী (২৬)-এর বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করেন। অভিযুক্ত ব্যক্তিকে ইতিমধ্যেই গ্রেফতার করেছে পুলিশ। বাকিরা পলাতক।
জেলা পুলিশের পদস্থ আধিকারিক রাম বিনয় কুমার জানিয়েছেন, মামলাটি অত্যন্ত গুরুতর। গৃহ নির্যাতন ও শারীরিক নিগ্রহের ধারায় অভিযোগ দায়ের হয়েছে। পলাতকদের ধরতে তল্লাশি চলছে। কাউকেই ছাড়া হবে না।
এই ঘটনায় ক্ষোভে ফুঁসছে এলাকাবাসী। পুলিশের তরফে নির্যাতিতাকে সবরকম আইনি ও চিকিৎসা সহায়তার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।