আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দিল, কোনও ‘বৃহত্তর জনস্বার্থ’ না থাকলে স্বামীর বেতন, পে-স্লিপের মতো তথ্য (Husband's salary and pay slip) আরটিআই তথা তথ্যের অধিকার আইনের (Right to Information Act) আওতায় প্রকাশযোগ্য নয়।

শেষ আপডেট: 20 February 2026 20:42
দ্য ওয়াল ব্যুরো: স্ত্রীর আবেদনে স্বামীর বেতন সংক্রান্ত তথ্য প্রকাশ করতে রাজ্য বাধ্য নয় বলে জানিয়ে দিল রাজস্থান উচ্চ আদালত (Rajasthan High Court)। আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দিল, কোনও ‘বৃহত্তর জনস্বার্থ’ না থাকলে স্বামীর বেতন, পে-স্লিপের মতো তথ্য (Husband's salary and pay slip) আরটিআই তথা তথ্যের অধিকার আইনের (Right to Information (RTI) Act) আওতায় প্রকাশযোগ্য নয়।
বিচারপতি কুলদীপ মাথুর বলেন, “এই ধরনের তথ্য ব্যক্তিগত। জনস্বার্থ বা জনকর্মের সঙ্গে এর সরাসরি কোনও সম্পর্ক নেই।”
ভিলওয়ারা পুলিশে কর্মরত স্বামীর বেতন সংক্রান্ত নথি চেয়ে স্ত্রীর করা RTI আবেদন আগেই কর্তৃপক্ষ খারিজ করেছিল। রাজস্থান স্টেট ইনফরমেশন কমিশনও সেই সিদ্ধান্ত বহাল রাখে। শেষ পর্যন্ত হাইকোর্টে মামলা হলেও আদালত রাজ্যের সিদ্ধান্তে কোনও বেআইনি দিক বা অনিয়ম খুঁজে পায়নি।
এই প্রসঙ্গে সুপ্রিম কোর্টের (Supreme court) আগের রায় গিরিশচন্দ্র দেশপান্ডে বনাম সিআইসি-র (Girish Ramchandra Deshpande Vs CIC) কথা উল্লেখ করে বলা হয়—কর্মচারীর পারফরম্যান্স ও বেতন সংক্রান্ত বিষয় মূলত নিয়োগকর্তা ও কর্মচারীর মধ্যেকার বিষয়, যা ‘ব্যক্তিগত তথ্য’-এর পরিধিতেই পড়ে।
মামলা স্থানান্তর নিয়ে আর আগের সুবিধা পাবে না স্ত্রী
অন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণে মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্ট জানিয়েছে, বৈবাহিক মামলায় স্থানান্তরের আবেদনে এখন আর স্ত্রীর সুবিধাই একমাত্র বা চূড়ান্ত বিবেচ্য বিষয় নয়। ভিডিও কনফারেন্সিংয়ের মতো বিকল্প ব্যবস্থা থাকলে তা বিবেচনায় নেওয়া হবে।
বিচারপতি দীপক খোট জানান, প্রযুক্তির সাহায্যে দূরবর্তী আদালতে হাজিরা দেওয়া সম্ভব। প্রয়োজন হলে যাতায়াত খরচ স্বামী বহন করবেন। হার্দা ও নারসিংহপুরের মধ্যে প্রায় ৩০০ কিলোমিটার দূরত্বের যুক্তি তুলে স্ত্রী মামলা স্থানান্তর চাইলেও আদালত নির্দেশ দেয়—শুনানির বড় অংশ ভিডিও কনফারেন্সিংয়ের মাধ্যমে হতে পারে, শুধু সাক্ষ্যগ্রহণের সময় শারীরিক হাজিরা প্রয়োজন।
কেন গুরুত্বপূর্ণ এই রায়গুলো?
এক, RTI আইনে ‘ব্যক্তিগত তথ্য’ বনাম ‘জনস্বার্থ’-এর সীমারেখা আরও স্পষ্ট হল। দুই, বৈবাহিক মামলায় প্রযুক্তিনির্ভর বিচারপ্রক্রিয়ার গুরুত্ব জোরালোভাবে উঠে এল। আইন ও ন্যায়বিচারের ক্ষেত্রে এই দুই রায়ই আগামী দিনে বহু মামলার দিশা নির্ধারণ করবে বলে মনে করা হচ্ছে।