
শেষ আপডেট: 6 October 2023 21:35
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দিল্লি হাইকোর্ট বলেছিল, স্ত্রী যদি ‘বিচ্ছিন্নভাবে’ পরকীয়ায় (Adultary) যুক্ত হন, অর্থাৎ স্বামীকে ত্যাগ করে তিনি যদি প্রেমিকের সঙ্গে স্থায়ীভাবে বসবাস না করেন, তাহলে তিনি খোরপোষ পাবেন। কিন্তু ঠিক তার উল্টোটাই বলল কর্নাটক হাইকোর্ট। একটি বিবাহবিচ্ছেদের মামলার রায় দিতে গিয়ে কর্নাটক হাইকোর্ট জানায়, স্ত্রী যদি স্বামীকে ঠকিয়ে পরকীয়া করে তাহলে বিচ্ছেদের পরে তিনি কোনওভাবেই স্বামীর থেকে খোরপোষের টাকা দাবি করতে পারেন না। ডোমেস্টিক ভায়োলেন্স অ্যাক্ট ১২-র অধীনে পরকীয়ায় লিপ্ত স্ত্রী খোরপোষ পাবেন না।
কর্নাটক হাইকোর্টে খরপোষের আপিল করে মামলা করেছিলেন এক মহিলা। নগর ও দায়রা আদালতে বিবাববিচ্ছেদের মামলা চলার সময় ওই মহিলার স্বামী খরপোষের টাকা দিতে অস্বীকার করেন। এরপরেই হাইকোর্টে আপিল করেন স্ত্রী। কিন্তু সব তথ্যপ্রমাণ খতিয়ে দেখে বিচারপতি রাজেন্দ্র বাদামিকার বলেন, ওই মহিলা বিয়ের পরেও অন্য এক পুরুষের সঙ্গে সম্পর্ক রেখে চলছিলেন। তিনি যে পরকীয়া করতেন সেটা প্রমাণিত। সে জন্যই স্বামীর থেকে বিচ্ছেদ চেয়েছিলেন এবং বিচ্ছেদের পরে খরপোষের টাকাও দাবি করেন।
বিচারপতির মন্তব্য, মামলাকারীর বয়ানেই স্পষ্ট তিনি তাঁর বিয়ের সম্পর্কে সৎ ছিলেন না। স্বামীকে ঠকাচ্ছিলেন। কাজেই ডোমেস্টিক ভায়োলেন্স অ্যান্ট ১২ অনুযায়ী ওই মহিলা স্বামীর থেকে খরপোষ দাবি করতে পারেন না।
ভারতীয় দণ্ডবিধির ১২৫ নম্বর ধারায় স্ত্রী, শিশু সন্তান ও বাবা-মাকে খোরপোষ দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। তাতে বলা আছে, কোনও স্ত্রী যদি স্বামীকে ছেড়ে প্রেমিকের সঙ্গে (Adultary) বসবাস করেন, যথেষ্ট কারণ ছাড়া স্বামীর সঙ্গে থাকতে অস্বীকার করেন, তাহলে তিনি স্বামীর থেকে খোরপোষ পাবেন না।