
শেষ আপডেট: 19 January 2024 13:33
সোমবার প্রাণ প্রতিষ্ঠা। তার আগে মাঘ মাসের তৃতীয়ায় অযোধ্যায় নতুন তৈরি রাম মন্দিরের গর্ভগৃহে এসে গেলেন রাম লালা। তাঁর প্রথম দর্শনের ছবি কর্তৃপক্ষের থেকে সংগ্রহ করল দ্য ওয়াল।
সম্ভবত কষ্টিপাথরের তৈরি এই রামলালার মূর্তি। তার বিশদ বিবরণ এখনও রাম মন্দির তীর্থক্ষেত্রে ট্রাস্ট দেয়নি। যে ছবি এদিন পাওয়া গিয়েছে তাতে দেখা যাচ্ছে, গর্ভগৃহে মূর্তি প্রতিষ্ঠার তোড়জোর চলছে। এই মূর্তি বসাতেই লেগে গিয়েছে ৪ ঘণ্টারও বেশি সময়।
তবে রামলালার মূর্তির মুখ এখনও ঢেকে রাখা হয়েছে। প্রাণ প্রতিষ্ঠার দিন সকালে তা উন্মোচন করা হবে। এভাবে মূর্তির মুখ ঢেকে রাখা হিন্দু পুজার্চনার প্রচলিত ধারা। বলা হয়, পুজোর আগে মূর্তির মুখ দেখা যাবে না। কলকাতার রাস্তাতেও দেখা যায় কুমোরটুলি থেকে মা দুর্গা বা সরস্বতীর মূর্তি নিয়ে যাওয়ার সময়ে মুখ ঢেকে রাখা হয়।
তীর্থক্ষেত্র ট্রাস্টের সূত্রে বলা হচ্ছে, এই রামলালার বয়স মাত্র ৫ বছর। অর্থাৎ তিনি নাবালক, বালক রাম। তিনি সাবালক নন। চোদ্দ বছর বনবাসের পর সীতা ও লক্ষ্ণণকে নিয়ে অযোধ্যা নগরীতে ফিরে আসা রাম তিনি নন।
আসলে বাবরি মসজিদ তথা রাম মন্দির মামলায় গোড়া থেকেই বলা হয়েছিল, রাম এখানে নাবালক। তাই তিনি তো মামলা করতে পারবেন না। তাঁর অভিভাবক দরকার। সেই কারণে রামের হয়ে মামলা করেছিলেন সাধু সন্তরা এবং বিশ্বহিন্দু পরিষদ।
অযোধ্যার এই রাম বালক বলেই গর্ভগৃহে তিনি একা বিরাজমান থাকবেন। তাঁর পাশে সীতাকে দেখা যাবে না। লক্ষ্ণণ বা রামের অন্য ভাইয়েদের মূর্তিও সেখানে থাকতে পারে। কিন্তু মূল মূর্তির পাশে সীতাকে দেখা যাবে না।
আর মাত্র ৭২ ঘণ্টা পর রাম মন্দিরের প্রাণ প্রতিষ্ঠা হবে। তার আগে চলছে চূড়ান্ত পর্বের প্রস্তুতি। গোটা অযোধ্যা নগরী মুড়ে ফেলা হয়েছে নিরাপত্তা বাহিনীর প্রহরায়। সেই সঙ্গে চলছে সাফ সাফাইয়ের কাজ। প্রস্তুতি খতিয়ে দেখতে উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ এদিনও এসেছিলেন অযোধ্যায়।
অযোধ্যায় রাম মন্দির-বাবরি মসজিদের বিতর্ক শতাব্দী প্রাচীণ। সেদিক থেকে আগামী সোমবার ২২ তারিখ প্রাণ প্রতিষ্ঠার দিন প্রকৃত অর্থে এদেশের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও রাজনীতির ক্ষেত্রে এক ঐতিহাসিক মুহূর্ত হতে চলেছে। অবশেষে রাম লালা বিরাজমান হবেন তাঁর নিজগৃহে। তারই কাউন্টডাউন এখন শুরু হয়ে গিয়েছে রামনগরীতে।