‘ফরচুনার-ডিপ্লোমেসি’ (Fortuner Diplomacy) নিয়েই এখন নানা মহলে জোর চর্চা। ইচ্ছে করেই এই গাড়ি বেছে নেওয়া? নাকি নিছকই নিরাপত্তার হিসেব?
.jpeg.webp)
ফরচুনারে মোদী-পুতিন
শেষ আপডেট: 5 December 2025 17:09
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বছর চারেক পরে দিল্লিতে পা রেখেছেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন (Vladimir Putin)। লাল গালিচা, প্রটোকল ভেঙে বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর (Narendra Modi) উপস্থিতি, হাত মেলানো, উষ্ণ আলিঙ্গন— সবই ছিল আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। তবে তার চেয়েও বেশি চোখ টেনেছে যে ছবিটা, তা হল প্রধানমন্ত্রী মোদী (Modi Putin) নিজের রেঞ্জ রোভার (Range Rover) বা মার্সিডিজ নয়, বরং সাদা টোয়োটা ফরচুনার (Toyota Fortuner) বেছে নিলেন পুতিনকে সঙ্গে নিয়ে বাসভবনে যাওয়ার জন্য। এই ‘ফরচুনার-ডিপ্লোমেসি’ (Fortuner Diplomacy) নিয়েই এখন নানা মহলে জোর চর্চা। ইচ্ছে করেই এই গাড়ি বেছে নেওয়া? নাকি নিছকই নিরাপত্তার হিসেব?
সরকারি ভাবে কিছু বলা হয়নি এ ব্যাপারে। কিন্তু কূটনৈতিক মহলের জল্পনা, ইউক্রেন যুদ্ধকে কেন্দ্র করে পশ্চিমা দেশগুলির রাশিয়ার উপর নিষেধাজ্ঞার আঁচে সচেতনভাবেই এ বার ইউরোপীয় ব্র্যান্ড এড়ানো হয়েছে। কারণ, মোদীর ব্যবহৃত রেঞ্জ রোভার ব্রিটিশ নির্মাণ। অপরদিকে মার্সিডিজ-মেবাখ জার্মানের। ব্রিটেন ও জার্মানি— দু’দেশই রাশিয়ার বিরুদ্ধে কঠোর নিষেধাজ্ঞায় শামিল। ওয়াকিবহাল মহল মনে করছে পুতিনকে ইউরোপীয় ব্র্যান্ডের গাড়িতে বসানো ‘অস্বস্তিকর’ হত বলেই ফরচুনারকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
জাপানি ব্র্যান্ড টয়োটা সেই অর্থে ‘নিরাপদ’, আবার ভারতেও তৈরি হয় ফরচুনার। ফলে ‘মেড ইন ইন্ডিয়া–মনে জাপান’—এই দ্বৈত প্রতীকও অনেকেই দেখছেন।
যদিও, সরকারি সূত্র অবশ্য বলছে, এই সিদ্ধান্ত ছিল পুরোপুরি কারিগরির উপর নির্ভর করে। মোদীর রেঞ্জ রোভারে তৃতীয় সারির আসন নেই। ফলে দুই নেতা ও তাঁদের দোভাষীদের একসঙ্গে বসানো সম্ভব হত না। অথচ টয়োটা ফরচুনারে বাড়তি একটি সারি রয়েছে। দোভাষীরা আগেই চেপে বসেছিলেন। ভারত-রাশিয়া নিরাপত্তা দল যৌথভাবে ফরচুনারের অনুমোদন দেয় তারপরই।
এ-ও লক্ষণীয়, প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংহও রুশমন্ত্রী আন্দ্রে বেলোসোভকে নিয়ে যুদ্ধ স্মৃতিসৌধে গিয়েছিলেন সাদা ফরচুনারে। যদিও, প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক কর্নেল রোহিত দেব এক্স-এ লিখেছেন, পশ্চিমের উদ্দেশে বার্তা দেওয়াই আসল কারণ ছিল। বিজেপি মুখপাত্র শেহজাদ পুনাওয়ালা রহস্য করে লিখেছেন, "হ্যাঁ, সেই কিংবদন্তি টয়োটা ফরচুনার! বুদ্ধিমানরা কারণটা বুঝবেন নিশ্চয়ই।”
আরও এক জনের মতে, “ইউরোপীয় ব্র্যান্ডের বদলে জাপানি নেওয়া হয়েছে রুশ নিষেধাজ্ঞার আওতায় পশ্চিমা সংস্থাগুলিকে অস্বস্তিতে না ফেলতে।”
এই সফেদ গাড়ি নিয়ে ব্যাখ্যা হয়তো কোনওদিনই জানা যাবে না। কিন্তু কূটনৈতিক আঙিনায় প্রতীকই বড় ভূমিকা নেয়। মোদীর এই ফর্চুনারও যেন তারই এক চকচকে উদাহরণ।