গত সপ্তাহে চিনে অনুষ্ঠিত এসসিও মঞ্চের বিদেশ মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে যোগ দিয়েছিলেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং। ওই মঞ্চের অন্যতম সদস্য পাকিস্তান, চিন, রাশিয়া।

বক্তব্য রাখছেন এস জয়শঙ্কর
শেষ আপডেট: 3 July 2025 08:58
দ্য ওয়াল ব্যুরো: চিনে এসসিও (SCO) সম্মেলনের পর আমেরিকায় অনুষ্ঠিত কোয়াডের (Quad-Quadrilateral Security Dialogue) যৌথ বিবৃতিতেও পাকিস্তানের নিন্দা অম্তর্ভুক্ত করাতে ব্যর্থ হল ভারত (India failed to include criticism of role of Pakistan in joint statement) । তবে সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশন বা এসসিও-র যৌথ বিবৃতিতে ভারত স্বাক্ষর না করলেও কোয়াডের ক্ষেত্রে করেছে। কোয়াডের বিবৃতিতে পহেলগাম হত্যাকাণ্ডের কড়া সমালোচনা নথিভুক্ত হওয়ার বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর (India’s foreign minister S Jai Shankar) তাতে সই করেন।
গত সপ্তাহে চিনে অনুষ্ঠিত এসসিও মঞ্চের বিদেশ মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে যোগ দিয়েছিলেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং। ওই মঞ্চের অন্যতম সদস্য পাকিস্তান, চিন, রাশিয়া। স্বভাবতই পহেলহাম-সহ দেশের নানা জায়গায় পাক মদতপুষ্ট জঙ্গি গোষ্ঠীর তৎপরতা নিয়ে নয়াদিল্লির অভিযোগ তেমন আমল পায়নি। এসসিও-র যৌথ বিবৃতিতে এমনকী পহেলগাম হত্যাকাণ্ডের নিন্দাও স্থান পায়নি। সদস্য দেশগুলি ঘটনার আন্তর্জাতিক গুরুত্ব মানতে চায়নি।
অন্যদিকে, কোয়াড হল ভারত আমেরিকা, অস্ট্রেলিয়া ও জাপানের একটি নিরাপত্তা বিষয়ক মঞ্চ। মূলত ভারত মহাসাগরীয় এলাকায় চিনের ত্রমবর্ধমান তৎপরতা ঠেকাতেই এই বোঝাপড়ার মঞ্চ গড়া হয়েছে। ওয়াশিংটনে কোয়াডের বিদেশ মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে অংশ নেন দেশগুলির বিদেশমন্ত্রীরা। বৈঠক শেষে তৈরি যৌথ বিবৃতিতে পহেলগামের হত্যাকাণ্ডকে আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য দুশ্চিন্তার বলে মন্তব্য করা হলেও ঘটনার পিছনে পাকিস্তানের ভূমিকা নিয়ে ভারতের অভিযোগকে গ্রহণ করেনি বাকি তিন দেশ।
এই ব্যাপারে জয়শঙ্করের তৎপরতা ব্যর্থ হলেও তিনি বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেন। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, পহেলগামের ঘটনার নিন্দাসূচক মন্তব্য ভারতের জন্য ইতিবাচক। তাছাড়া পর পর দুটি আন্তর্জাতিক মঞ্চের যৌথ বিবৃতিতে ভারত সই না করলে বিশ্বে ভুল বার্তা যাবে। ভারত কোণঠাসা, পাকিস্তানকে কোণঠাসা করতে গিয়ে ভারত বিপাকে পড়েছে, এমন বার্তাই যেত।
চিনে অনুষ্ঠিত এসসিও সম্মেলনের বিবৃতিতে পাকিস্তানের বালুচিস্তানে জঙ্গি ও বিচ্ছিন্নতাবাদী তৎপরতার নিন্দা করা হলেও জম্মু-কাশ্মীরের নাশকতামূলক ঘটনাগুলির উল্লেখ ছিল না। খসড়া প্রস্তাবে চোখ বুলিয়ে প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ জানিয়ে দেন ভারত এই বিবৃতিকে সই করবে না। কূটনীতিতে ভারতের এই সিদ্ধান্তকে যেমন সঠিক বলা হচ্ছে, একই সঙ্গে এই পরিস্থিতিকে কুটনৈতিক ব্যর্থতা হিসাবেও দেখা হচ্ছে।
সেখানে কোয়াডের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘আমরা ২২ এপ্রিল, ২০২৫ তারিখে জম্মু ও কাশ্মীরের পহেলগামে সন্ত্রাসী হামলার তীব্র নিন্দা জানাই, যেখানে ২৫ জন ভারতীয় নাগরিক এবং একজন নেপালি নাগরিক নিহত হন এবং আরও বেশ কয়েকজন আহত হন। আমরা নিহতদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাই...।’ প্রস্তাবে আরও বলা হয়েছে, ‘আমরা এই নিন্দনীয় কাজের অপরাধী, সংগঠক এবং অর্থায়নকারীদের অবিলম্বে বিচারের আওতায় আনার আহ্বান জানাই এবং আন্তর্জাতিক আইন এবং প্রাসঙ্গিক জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের অধীনে তাদের বাধ্যবাধকতা অনুসারে জাতিসংঘের সকল সদস্য রাষ্ট্রের প্রতি আহ্বান জানাই।’