.jpeg)
মোদী, হাসিনা ও ইউনুস।
শেষ আপডেট: 17 February 2025 10:18
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দ্বিপাক্ষিক নানা বিষয়ে কথা হল ভারতের বিদেশ মন্ত্রী এস জয়শঙ্কর এবং বাংলাদেশের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেনের। ওমানের রাজধানী ম্যাস্কটে রবিবার থেকে শুরু হয়েছে ভারত মহাসাগরীয় সম্মেলন। ওমান ও ভারত যৌথভাবে এই সম্মেলনের আয়োজন করেছে।
রবিবার সম্মেলনের ফাঁকে বৈঠকে বসেন জয়শঙ্কর এবং তৌহিদ। বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রকের তরফে প্রেস বিজ্ঞপ্তি দিয়ে জানানো হয়েছে কী কী বিষয়ে দু'জনের কথা হয়েছে। তালিকায় অগ্রাধিকার পেয়েছে বাংলাদেশ সরকারের উত্থাপিত বিষয়গুলি। যেমন গঙ্গার জল চুক্তি নবীকরণ, সীমান্ত সমস্যা ইত্যাদি। বলা হয়েছে, দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান চ্যালেঞ্জগুলি নিয়ে কথা হয়। কিন্তু শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশের হাতে পত্যর্পণ।নিয়ে আলেচনার হয়েছে বলে উল্লেখ নেই।
বাংলাদেশের অভ্যন্তরে আরও একটি বিষয়ে চর্চা শুরু হয়েছে, পররাষ্ট্র উপদেষ্টা জুলাই-অগাস্ট গণ বিপ্লব নিয়ে রাষ্ট্রসংঘের রিপোর্টের বিষয়টি জয়শঙ্করের সামনে উত্থাপন না করায়। ওই রিপোর্টে মানবতা বিরোধী অপরাধের জন্য সরাসরি শেখ হাসিনাকে দায়ী করা হয়েছে বলে বাংলাদেশ সরকারের দাবি। একই সঙ্গে বাংলাদেশ সরকারের তরফে দাবি করা হয়েছে, রাষ্ট্রসংঘের রিপোর্ট প্রকাশের পর ভারতের উপর হাসিনাকে ফেরানোর চাপ বাড়বে। কিন্তু ওই রিপোর্টের প্রসঙ্গও বাংলাদেশের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা ভারতের বিদেশ মন্ত্রীর কাছে তোলেননি।
তাৎপর্যপূর্ণ হল, বৈঠকের আলোচ্যগুলির কোনওটাই আশু সমাধানের বিষয় নয়। বিদেশ মন্ত্রকের কর্তাদের বৈঠকে এই জাতীয় বিষয়ে কথা হয়েই থাকে।
শুধু হাসিনা প্রসঙ্গ উহ্য রাখাই নয়, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে বাংলাদেশ নিয়ে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নালিশের বিষয়েও ঢাকা নীরবতা পালন করছে। প্রধানমন্ত্রী মোদীর বাংলাদেশ প্রসঙ্গে ট্রাম্পের সঙ্গে আলোচনার বিষয়টি সরকারিভাবে জানান বিদেশ সচিব বিক্রম মিস্রি। সে ব্যাপারে বাংলাদেশ সরকারের প্রতিক্রিয়া চেয়েও পাওয়া যায়নি।
ওমানে জয়শঙ্কর-তৌহিদ বৈঠক। রবিবার রাতে।
এই নীরবতা নিয়ে দেশেই অস্বস্তিতে পড়েছে সে দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রক। হাসিনাকে দেশে ফেরানোর দাবিতে ফের সরব হয়েছে বিএনপি সহ একাধিক দল। রাষ্ট্র সংঘের রিপোর্ট প্রকাশের পর খালেদা জিয়ার দল তাদের প্রতিক্রিয়ায় বলেছিল, ভারতের উচিত এবার শেখ হাসিনাকে ফিরিয়ে দেওয়া। বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতৃত্ব এবং জামায়াতে ইসলামিও একই দাবি তোলে। অথচ রা কাড়েনি বাংলাদেশ সরকার।
কেন হাসিনার পত্যর্পণ প্রসঙ্গ এড়িয়ে গেলেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা? ওয়াকিবহাল মহল মনে করছে, বিষয়টি অত্যন্ত জটিল। তাড়াহুড়ো করে কিছু হওয়ার নয়। এই অবস্থায় ঘন ঘন তাগাদা দিলে দু দেশের জন্যই তা অস্বস্তির কারণ হবে। বিরোধ আরও চওড়া হয়ে যেতে পারে। তার প্রভাব পড়তে পারে দ্বিপাক্ষিক অন্য বিষয়ে।
এদিকে, সোমবার থেকে দিল্লিতে শুরু হতে চলেছে দু দেশের সীমান্ত রক্ষী বাহিনীর ডিজি পর্যায়ের বৈঠক। সেখানে সীমান্ত হত্যা, বেড়া দেওয়ার মতো বিষয়ে চলমান বিবাদের সমাধান চাইবে বাংলাদেশ। অন্যদিকে, বিএসএফের দাবি, বাংলাদেশ থেকে অনুপ্রবেশ রুখতে আরও সতর্ক হোক সে দেশের সীমান্ত রক্ষী বাহিনী বিজিবি।