
শেষ আপডেট: 9 December 2023 20:30
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভারতের ইতিহাসে আয়কর হানায় কারও বাড়ি থেকে এত বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ কোনদিন উদ্ধার হয়েছে কিনা সন্দেহ!
সেই বুধবার তাঁর বাড়িতে হানা দিয়েছিলেন আয়কর আধিকারিকরা। তারপর কেটে গেছে ৩ দিন। ঝাড়খণ্ডের কংগ্রেসের রাজ্যসভার সাংসদ ধীরজ প্রসাদ সাহুর বাড়ি থেকে উদ্ধার হওয়া টাকার অঙ্ক পাহাড়প্রমাণ হয়ে উঠছে ক্রমশ। উদ্ধার হওয়া টাকার পরিমান এখনও পর্যন্ত ২৯০ কোটি টাকা ছাড়িয়ে গেছে। অবস্থা এমনই যে নোট গুনতে গিয়ে খারাপ হয়ে যাচ্ছে মেশিন। ৩ ডজন যন্ত্র ফেল করে গেছে, গণনা চালিয়ে যেতে অন্য রাজ্য থেকে মেশিন আনাচ্ছেন আধিকারিকরা।
শুক্রবার ধীরজের বাড়ি থেকে টাকা উদ্ধারের একটি ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে। তারপর থেকেই চাঙ্গা হয়ে উঠেছে অপা কাণ্ডের স্মৃতি। বছর দেড়েক আগেই প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের বান্ধবী অর্পিতা মুখোপাধ্যায়ের বাড়ি থেকে নগদ ৫০ কোটি টাকা উদ্ধার করেছিলেন কেন্দ্রীয় সংস্থার গোয়েন্দারা। যে ঘটনা রাজ্য তো বটেই, জাতীয় রাজনীতিতেও কার্যত সাড়া ফেলে দিয়েছিল। কিন্তু ধীরজের বাড়ি থেকে উদ্ধার হওয়া টাকার অঙ্ক ইতিমধ্যেই প্রায় ৩০০ কোটি ছুঁয়ে ফেলেছে, এখনও তা গোনা শেষ হয়নি। স্বভাবতই জাতীয় রাজনীতি এখন সরগরম এই কংগ্রেস সাংসদকে ঘিরে। প্রশ্ন উঠছে, কে এই ধীরজ সাহু?
ধীরজ ঝাড়খণ্ডের একজন কংগ্রেস সাংসদ। তাঁর পারিবারিক মদের ব্যবসা রয়েছে, যার ফ্যাক্টরি রয়েছে ওড়িশা এবং ঝাড়খণ্ড দুটি রাজ্যেই। ওড়িশার বালাঙ্গীর জেলায় বৌধ ডিস্টিলারি প্রাইভেট লিমিটেড নামে সেই সংস্থার অফিসে বুধবার হানা দিয়েছিলেন আয়কর আধিকারিকরা। সেখানকার কয়েকটি আলমারির মধ্যে ঠেসে ঢোকানো ছিল এই অবিশ্বাস্য অঙ্কের নগদ টাকা।
This is not the bank’s strong room; it’s Congress MP Dheeraj Sahu’s office, from where Rs 200 Crore cash was recovered during an Income Tax Department raid. While counting the money, two counting machines broke down, and 157 bags were used to transfer the cash into trucks. pic.twitter.com/MSRZk3Ebpc
— Gagandeep Singh (@Gagan4344) December 8, 2023
এছাড়া বৌধ ডিস্টিলারিজের আর একটি গ্রুপ কোম্পানি বলদেব সাহু প্রাইভেট লিমিটেডও ধীরজেরই ব্যবসা, সেখানেও চলছে অনুসন্ধান। ২০১০ সাল থেকেই ধীরজ ঝাড়খণ্ড থেকে রাজ্যসভায় কংগ্রেসের সাংসদ। পারিবারিক সূত্রেই ধীরজ একজন কংগ্রেসি। তাঁর বাড়ির সদস্যরা পেশাগতভাবে ব্যবসায়ী হলেও প্রত্যেকেই কংগ্রেসি ঘরানার রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত দীর্ঘদিন ধরে।
স্বভাবতই এমন হতবাক করা ঘটনায় বিরোধীদল বিজেপির আক্রমণের বর্শাফলকের অভিমুখ এখন জাতীয় কংগ্রেসের দিকে। আয়কর বিভাগের এই অভিযানের ঘটনা নিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী নিজে টুইট বার্তায় লেখেন, "দেশের মানুষের উচিত আগে এই নোটের স্তূপের দিকে তাকানো এবং তারপর 'সৎ' নেতাদের বক্তৃতা শোনা। জনসাধারণের কাছ থেকে যা লুট করা হয়েছে প্রতিটা কানাকড়ি ফেরত দিতে হবে, এটা মোদীর গ্যারান্টি।"
কেন্দ্রীয় মন্ত্রী অনুরাগ ঠাকুরের দাবি, এই কারণেই সনিয়া গান্ধী এবং রাহুল গান্ধী নোট বন্দির বিরুদ্ধে সুর চড়িয়েছিলেন। "এখনও গণনা চলছে। মেশিন ভেঙে গেছে আধিকারিকরা ক্লান্ত হয়ে পড়েছেন এবং হিসাব বহির্ভূত এই টাকা রাখার জন্য ব্যাগ পাওয়া যাচ্ছে না। তবু ঠাসা নোটের কোনও শেষ নেই," জানিয়েছেন তিনি। এই ঘটনায় ঝাড়খণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সরেনের পদত্যাগ দাবি করেছেন বিজেপির মুখপাত্র গৌরব ভাটিয়া।