অনিল মেথানিয়া
শেষ আপডেট: 20 November 2024 12:32
দ্য ওয়াল ব্যুরো: গুজরাতে মেডিক্যাল কলেজের প্রথম বছরের ছাত্র অনিল মেথানিয়ার মৃত্যুর ঘটনায় শিউরে উঠেছে দেশ। জিএমইআরএস মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের প্রথম বর্ষের ছাত্র ছিলেন অনিল। অভিযোগ, ইন্ট্রডাকশন অর্থাৎ পরিচয় সারার নামে অনিল-সহ প্রথম বর্ষের কয়েকজন পড়ুয়াকে টানা তিন ঘণ্টা দাঁড় করিয়ে রাখে ওই কলেজেরই তৃতীয় বর্ষের পড়ুয়ারা। যার জেরেই এমন মর্মান্তিক পরিণতি হয় তাঁর। এবার অভিযুক্তদের কাঠগড়ায় তুলে অনিলের পরিবারের অভিযোগ, এঁরা সিনিয়র? আগামীদিনে এঁরা কীভাবে ডাক্তার হবে?
অনিলের তুতো ভাই গৌরব মেথানিয়ার দাবি, শনিবার রাতেই আমরা শেষবারের মতো একটা ফোনটা পেয়েছিলাম। ভাইকে হাসপাতালে ভর্তি করার খবর দিয়ে দ্রুত সেখানে যেতে বলা হয়েছিল। তবে গুজরাতের মেডিক্যাল কলেজ থেকে অনিলের পরিবার আরও ১৫০ কিলোমিটার দূরে সুরেন্দ্রনগর জেলায় থাকেন। স্বাভাবিকভাবেই ফোন পেয়ে হাসপাতালে দৌড়ে যান পরিবারের সদস্যরা। কিন্তু এতটা পথ যেতে ভোর চারটে বেজে গেছিল।
গৌরবের অভিযোগ, হাসপাতালে পৌঁছতেই আমরা জানতে পারি যে ভাই আর বেঁচে নেই। তাঁর দেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছিল। এরপর র্যাগিংয়ের বিষয়টি আমাদের সামনে আসে। এরপরই দোষীদের কঠোর শাস্তির কথা মনে করিয়ে অনিলের তুতো ভাই বলেন, যাদের অপরাধমূলক মানসিকতা রয়েছে, তারাই এমন জঘন্য ও পাশবিক কাজ করতে পারে। আগামীদিনে কীভাবে অভিযুক্তরা ডাক্তারি করবে তা নিয়েও ক্ষোভ উগড়ে দিয়ে তিনি পরিষ্কার জানান, এঁরা দেশের উন্নতি নয়, আরও ক্ষতি করবে।
এরপরই অপরাধীদের দ্রুত খুঁজে বের করে তাদের অবিলম্বে লেখাপড়া বন্ধ করিয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া উচিত বলে জানিয়েছেন গৌরব। তিনি মনে করিয়ে দেন, অনিল অত্যন্ত মেধাবী ছাত্র ছিল। পরিবারের প্রথম এমবিবিএস পাসও করেছিল সে। আগামীদিনে ভাল ডাক্তার হওয়ার স্বপ্ন দেখলেও বাস্তবে তা আর হল না। এক মুহূর্তে সব স্বপ্ন ভেঙে চুরমার হয়ে গেল।
অভিযোগ, ইন্ট্রডাকশন অর্থাৎ পরিচয় সারার নামে অনিল-সহ প্রথম বর্ষের কয়েকজন পড়ুয়াকে টানা তিন ঘণ্টা দাঁড় করিয়ে রাখে ওই কলেজেরই তৃতীয় বর্ষের পড়ুয়ারা। টানা তিন ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকার পর অজ্ঞান হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন অনিল। তাঁকে দ্রুত নিয়ে যাওয়া হয় হাসপাতালে। খবর পৌঁছয় পুলিশে। পুলিশ হাসপাতালে গেলে সেখানে পুলিশকে গোটা বিষয়টি জানান অনিল। পুলিশও রেকর্ড করে তাঁর বয়ান। এরপর তিনি মারা যান।