দাবি করেছিলেন, একসময় দেশের ১৩০টিরও বেশি জেলা নকশাল হানায় রক্তাক্ত হত, কিন্তু ‘‘সহিংস আন্দোলনের মেরুদণ্ড এখন কার্যত ভেঙে পড়েছে’’।

অমিত শাহ
শেষ আপডেট: 18 November 2025 14:31
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মাওবাদী সন্ত্রাসমুক্ত (Maoist) ভারত, লক্ষ্য ২০২৬ মার্চ। মাত্র ১৭ দিন আগে সর্বভারতীয় সংবাদ মাধ্যমের শীর্ষ বৈঠকে এমনই ঘোষণা করেছিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ (Amit Shah News)। দাবি করেছিলেন, একসময় দেশের ১৩০টিরও বেশি জেলা নকশাল হানায় রক্তাক্ত হত, কিন্তু ‘‘সহিংস আন্দোলনের মেরুদণ্ড এখন কার্যত ভেঙে পড়েছে’’। মঙ্গলবার সকালে সেই দাবিকে আরও জোরালো করল অন্ধ্রপ্রদেশ পুলিশের অভিযান (Andhra Pradesh Police)।
রাজ্য পুলিশ নিশ্চিত করেছে, দেশের অন্যতম মোস্ট-ওয়ান্টেড মাওবাদী নেতা মদভি হিডমা নিহত। অন্তত ২৬টি হামলার মূল চক্রী, বস্তার-অভিযানে নিরাপত্তা বাহিনীর মাথাব্যথার অন্যতম নাম হিডমার খতম হওয়াকে নকশালবিরোধী লড়াইয়ের বড় সাফল্য বলেই মনে করছে নিরাপত্তা মহল।
সর্বভারতীয় ওই সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে শাহ জানিয়েছিলেন, যে কোনও বিদ্রোহী মূলস্রোতে ফিরতে চাইলে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নির্দেশে সরকার তাঁদের চাকরি-সহ পূর্ণ পুনর্বাসন দেবে। কিন্তু যদি আত্মসমর্পণ না করা হয়, ‘‘অভিযান চলবে’’। এই ছিল শাহের সতর্কতা।
হিডমা ফেরেননি। আর মঙ্গলবার ভোর ৬টা থেকে ৭টার মধ্যে অন্ধ্রপ্রদেশের মাড়েডুমল্লি অরণ্যে, ছত্তীসগড়-তেলঙ্গানার সীমানায় নিরাপত্তাবাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হয়ে তাঁর মৃত্যু হয়। সঙ্গে নিহত পাঁচ জন মাওবাদীও। খবর দিয়েছেন অন্ধ্রপ্রদেশের পুলিশ মহাপরিচালক হরিশ কুমার গুপ্তা।
কে ছিলেন হিডমা?
১৯৮১ সালে তৎকালীন মধ্যপ্রদেশের সুকমায় জন্ম। পরে পিপলস লিবারেশন গেরিলা আর্মির একটি ব্যাটালিয়নের নেতৃত্ব পান। সিপিআই (মাওবাদী)-র কেন্দ্রীয় কমিটির সবচেয়ে কম বয়সি সদস্য ছিলেন হিডমা। এবং বাস্তার এলাকার একমাত্র আদিবাসী প্রতিনিধি। মাথার দাম ছিল ৫০ লক্ষ টাকা। তাঁর স্ত্রী রাজে ওরফে রাজাক্কাও একই সংঘর্ষে নিহত হয়েছেন।
বহুবর্ষের রক্তাক্ত ইতিহাস
হিডমার বিরুদ্ধে অভিযোগের তালিকা ভয়াবহ
২০১০ দান্তেওয়াড়া: ৭৬ জন সিআরপিএফ জওয়ানের মৃত্যুর দায়।
২০১৩, ঝিরম ঘাঁটি: কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্ব-সহ ২৭ জন নিহত।
২০২১, সুকমা-বিজাপুর আক্রমণ: শহিদ ২২ জওয়ান।
নিরাপত্তা চাপ ও দলে দলে আত্মসমর্পণের মধ্যে মাওবাদী সংগঠনের ভিত ক্রমেই দুর্বল হচ্ছিল। তার মধ্যেই এই মৃত্যু তাদের কাছে বড় ধাক্কা।
নকশালমুক্ত ভারতের পথে?
কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর লক্ষ্য, আগামী বছরের মার্চের মধ্যেই দেশকে নকশালমুক্ত করা। হিডমার মৃত্যু সেই লক্ষ্যপূরণের পথে সরকারের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়েছে।
ত্রিসীমান্তের জঙ্গলে দীর্ঘদিন ধরেই হিডমা দলীয় কার্যকলাপ চালাচ্ছেন। বিপুল অস্ত্রভাণ্ডার ও ঘন বনভূমির জন্য তাঁকে গ্রেফতার করা কঠিন হয়ে উঠেছিল।
নিরাপত্তা ব্যবস্থার শীর্ষ সূত্র বলছে, হিডমার মৃত্যু এই অঞ্চলে চলা মাওবাদী সন্ত্রাসকে বড় ধাক্কা দেবে। তবে এলাকাজুড়ে এখনও বিচ্ছিন্ন প্রতিরোধের সম্ভাবনা থাকায় অভিযান জারি রয়েছে।