
বিদেশি পর্যটকদের কাছেও এই গুহা অন্যতম আকর্ষণের।
শেষ আপডেট: 19 December 2024 13:05
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মুম্বই পর্যটকদের কাছে এলিফান্টা কেভস একটি অন্যতম দ্রষ্টব্য স্থান। প্রতিদিন শয়ে শয়ে পর্যটক, ভ্রমণ মরসুমে হাজারো পর্যটক গেটওয়ে অফ ইন্ডিয়ার কাছে অ্যাপোলো বন্দর থেকে পার্শ্ববর্তী রায়গড় জেলার উরানের ঘারাপুরী দ্বীপে ইউনেস্কোর ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ এলিফান্টা কেভস দেখতে যান। শুধু দেশের নয়, বিদেশি পর্যটকদের কাছেও এই গুহা অন্যতম আকর্ষণের। গুহার শহর নামে এই দ্বীপকে পোরি দ্বীপ নামেও ডাকা হয়।
খ্রিস্টপূর্ব দ্বিতীয় শতক থেকে পাহাড় কেটে এলিফান্টা গুহা নির্মাণকার্য চলেছে পঞ্চম থেকে ষষ্ঠ শতকের মাঝামাঝি পর্যন্ত। এর প্রধান গুহাটি প্রবেশপথ থেকে শেষ পর্যন্ত ৩৯ মিটার দীর্ঘ। প্রধান ফটকটি অনেকটা হাতির মুখে মতো বলে এর নাম রাখা হয় এলিফান্টা কেভ। এর প্রকৌশলগত মিল রয়েছে ইলোরার দুমার লেনা কেভের আদলে। ৭ মিটার উচ্চতার 'সদাশিব' এক নম্বর গুহার প্রবেশপথেই পড়বে। এখানে শিবের সৃষ্টি, পালন ও ধ্বংস দেবতার ত্রিমূর্তির সম্মিলিত রূপ ধরা পড়বে। শিবভক্ত বা পুণ্যার্থীদের কাছেও এই গুহা সে কারণে অন্যতম ধর্মীয় স্থান।
বুধবার বিকেলে নৌবাহিনীর একটি প্রশিক্ষণের স্পিডবোট নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেরি সার্ভিসের একটি লঞ্চ নীলকমলকে ধাক্কা মারলে ডুবে ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। নজিরবিহীন সেই নৌকাডুবির পর দেশি-বিদেশি পর্যটকদের এলিফান্টা কেভস দর্শনের নিরাপত্তা নিয়ে ফের প্রশ্ন উঠেছে। কারণ এই গুহা-দর্শনে যাওয়ার একমাত্র উপায় হল জলপথ। গেটওয়ে অফ ইন্ডিয়ার কাছে থেকে লঞ্চে করে আরব সাগরের উপর দিয়ে যেতে হয়। সকাল ৯টা নাগাদ ফেরি শুরু হয়ে দুপুর পর্যন্ত শেষ লঞ্চটি রওনা দেয়। সে কারণে প্রতিদিনই প্রচুর মানুষের ভিড় হয় লঞ্চগুলিতে।
লঞ্চগুলি চালায় গেটওয়ে এলিফান্টা জল-বাহাতুক সহকারী সংস্থা। প্রায় ১০০টি ফেরি বোট রোজ অন্তত ১০-১৫টি চক্কর লাগায় এলিফান্টা কেভস যাতায়াতে। একেকটিতে ৫০-১০০ জন যাত্রী তোলা হয়। প্রতিদিন আন্তর্জাতিক পর্যটকদের নিয়ে যাওয়া-আসা করা এক গাইড বললেন, যা ঘটেছে তা তিনি কোনওদিন ভাবতেও পারেননি। মুম্বই বিশেষজ্ঞ অজিত জোশি বলেন, আরব সাগরের উপর থেকে মুম্বই শহরকে দেখতে পাওয়াও এই যাত্রার এক বিরাট আনন্দ।
এই দ্বীপের এলিফান্টা কেভস নামটি পর্তুগিজদের দেওয়া। প্রবেশপথের মুখে মনোলিথিক ব্যাসাল্ট ভাস্কর্য দেখে এই নামকরণ করে পর্তুগিজরা। তারা ঠিক করে এটি তুলে তাদের দেশে নিয়ে যাবে কিন্তু সে ভাবনা পরিত্যাগ করতে হয়। কারণ তাদের কাছে এই মূর্তি বেঁধে নিয়ে যাওয়ার মতো মোটা লোহার শিকল ছিল না। পরে এই ভাস্কর্যকে ভিক্টোরিয়া গার্ডেনে নিয়ে আসা হয়। তারও পরে ব্রিটিশরা ভিক্টোরিয়া অ্যান্ড অ্যালবার্ট মিউজিয়াম বা বর্তমানের ডঃ ভাউ দাজি লাড মিউজিয়ামে নিয়ে আসা হয়। তবে এখন সেটি রয়েছে মুম্বইয়ের বীরমাতা জিজাবাই ভোসালে উদ্যান এবং চিড়িয়াখানায়।
মুম্বই থেকে ফেরি বোট ছেড়ে প্রায় ঘণ্টাখানেক সমুদ্র ভ্রমণের পর এলিফান্টা কেভসের ঘাটে গিয়ে পৌঁছায়। সেখান থেকে হেঁটে গুহা অবধি যেতে হয়। তবে একটি ন্যারো গেজ টয়ট্রেন ফেরিঘাটের কাছ থেকে ছেড়ে গুহা অবধি নিয়ে যায়। মুম্বই পোর্ট ট্রাস্টের পরিকল্পনার মধ্যে রয়েছে যে, মুম্বইয়ের হাজি বন্দর থেকে সরাসরি রোপওয়ে তৈরি করে দ্বীপে যাত্রী নিয়ে যাওয়ার। যদি এটা তৈরি হয়ে যায়, তাহলে এই দ্বীপে যেতে ১৪ মিনিট সময় লাগবে। এবং সমুদ্রপথ এড়িয়ে সেটাই হবে দ্বিতীয় রাস্তা গুহায় যাওয়ার।