ভিডিওটিতে দেখা গিয়েছে বাসে সাগরিকার পেছনে বসে রয়েছেন অসুস্থ তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র। পুলিশের সঙ্গে তুমুল বচসার পর অজ্ঞান হয়ে যান কৃষ্ণনগরের তৃণমূল সাংসদ।

ভিডিও শেয়ার করে অভিযোগ সাগরিকার
শেষ আপডেট: 11 August 2025 13:59
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ‘ভোট চুরি’ (Vote Chori) নিয়ে বিক্ষোভে দিল্লিতে মহিলা সাংসদদের (MP) সঙ্গে দুর্ব্যবহারের অভিযোগ তুললেন তৃণমূল সাংসদ সাগরিকা ঘোষ (Sagarika Ghosh)। সোমবার বিক্ষোভস্থল থেকে শেয়ার করা এক ভিডিওতে তিনি বলেন, “মহিলা সাংসদদের ধাক্কা দেওয়া হয়েছে। শুধু তাই নয়, চুল ধরে টেনে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।” ভিডিওটিতে দেখা গিয়েছে বাসে সাগরিকার পেছনে বসে রয়েছেন অসুস্থ তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র। পুলিশের সঙ্গে তুমুল বচসার পর অজ্ঞান হয়ে যান কৃষ্ণনগরের তৃণমূল সাংসদ।
— Sagarika Ghose (@sagarikaghose) August 11, 2025
নয়া দিল্লির (Dekhi Police) যুগ্ম পুলিশ কমিশনার দীপক পুরোহিত জানিয়েছেন, আটক হওয়া ইন্ডিয়া জোটের নেতাদের কাছাকাছি একটি থানায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, “আমরা এখনও আটক হওয়া সাংসদদের সংখ্যা গুনছি। এখানে বিক্ষোভের অনুমতি ছিল না, তবে আমাদের আগেই খবর দেওয়া হয়েছিল… যদি তাঁরা সিদ্ধান্ত নেন, আমরা তাঁদের নির্বাচন কমিশনের দফতরে নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করব। নির্বাচন কমিশন দফতরে যথাযথ পুলিশি বন্দোবস্ত রয়েছে।”
বিহারে এসআইআর প্রক্রিয়ায় ইতিমধ্যেই ভোটার তালিকা থেকে ৬৫ লক্ষ নাম মুছে ফেলা হয়েছে। চলতি বছরের শেষেই সেখানে বিধানসভা ভোট। বছর ঘুরতেই বিধানসভা নির্বাচন হবে পশ্চিমবঙ্গ, কেরল, অসম এবং তামিলনাড়ুতেও। বিরোধী শিবিরের অভিযোগ, বিজেপির সুবিধা করে দিতে নির্বাচন কমিশনকে ব্যবহার করা হচ্ছে।
এই ‘ভোট চুরি’ (Vote Chori) মিছিলের নেতৃত্ব দিতে গিয়ে দিল্লি পুলিশের (Delhi Police) হাতে আটক হন বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী (Rahul Gandhi)। সোমবার নির্বাচন কমিশনের দফতরের উদ্দেশে এই পদযাত্রা শুরু করেছিলেন তিনি। রাহুলের পাশাপাশি আটক হয়েছেন কংগ্রেস নেত্রী প্রিয়ঙ্কা গান্ধী, সমাজবাদী পার্টির সভাপতি অখিলেশ যাদব-সহ সমস্ত বিরোধী সাংসদ। দিল্লি পুলিশ সমস্ত বিরোধী সাংসদদের দু'টি বাসে তুলে নিয়ে যায়। অন্যদিকে, পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তির মধ্যেই তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র, মিতালি বাগ (Mahua Moitra) অজ্ঞান হয়ে পড়েন।
এদিন সকালে লোকসভা ও রাজ্যসভার অধিবেশন শুরু হতেই এসআইআর ইস্যুতে সরব হন বিরোধী সাংসদেরা। তুমুল হইচইয়ে দুপুর ২টো পর্যন্ত দুই কক্ষের কার্যসূচি মুলতুবি হয়ে যায়। এর পরেই রাহুল গান্ধী (Rahul Gandhi), প্রিয়ঙ্কা গান্ধী (Priyanka Gandhi), ডেরেক ও ব্রায়েন, অখিলেশ যাদব-সহ প্রায় ৩০০ জন সাংসদের মিছিল সংসদ ভবন থেকে রওনা হয়। কিন্তু কিছু দূর যেতেই ব্যারিকেড তুলে পথ আটকে দেয় দিল্লি পুলিশ।
মিছিল আটকাতেই শুরু হয় রাস্তায় বসে বিক্ষোভ। ‘ভোট চুরি’ বন্ধের দাবিতে দেশজুড়ে বিভিন্ন ভাষায় স্লোগান শোনা যায়। মহুয়া মৈত্র, সাগরিকা ঘোষ-সহ মহিলা সাংসদেরা ব্যারিকেডের ওপর উঠে প্রতিবাদ জানান। পোস্টার ও ব্যানারে কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়। তৃণমূল সাংসদদের হাতে থাকা ব্যানারে লেখা— ‘চুপি চুপি ভোটের কারচুপি’।
বিক্ষোভে অংশ নেওয়া দলগুলির মধ্যে ছিল দেশের নানা প্রান্তের আঞ্চলিক ও জাতীয় দল। যদিও বর্তমানে ‘ইন্ডিয়া’ জোটের বাইরে থাকলেও সোমবারের কর্মসূচিতে শামিল অরবিন্দ কেজরিওয়ালের আম আদমি পার্টিও (আপ)।