চলতি বছরের মে মাসে ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর সময় S-400–এর কার্যক্ষমতা নিয়ে বায়ুসেনা সন্তোষ প্রকাশ করে। আদমপুরে মোতায়েন একটি ইউনিট ৩১৪ কিলোমিটার দূর থেকে পাকিস্তানের একটি বিমান গুলি করে নামিয়েছে বলে সূত্রের দাবি।

ভ্লাদিমির পুতিন এবং নরেন্দ্র মোদী
শেষ আপডেট: 1 December 2025 16:04
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন (Russian President Vladimir Putin) ৪ ও ৫ ডিসেম্বর ভারতে আসছেন ২৩তম বার্ষিক দ্বিপাক্ষিক শিখরে যোগ দিতে। ইউক্রেন যুদ্ধ (Russia Ukraine War) এবং ভারতের ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর (Operation Sindoor) পর এই প্রথমবার দেশের মাটিতে পুতিনের পা পড়তে চলেছে। ফলে নয়াদিল্লি-মস্কো সম্পর্কের নতুন রূপরেখা নিয়ে কূটনৈতিক মহলে জোর আলোচনা। মোদী–পুতিন বৈঠকের (Narendra Modi-Vladimir Putin Meeting) কেন্দ্রবিন্দুতে থাকছে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা, বিশেষ করে নতুন S-400 চুক্তির (S-400 Deal) সম্ভাবনা।
রাশিয়া ইতিমধ্যেই ভারতকে দু’তিনটি অতিরিক্ত S-400 রেজিমেন্ট দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে। ভারতীয় বায়ুসেনার (IAF) অস্ত্রভাণ্ডারের এখনও বড় অংশ (৬০-৭০ শতাংশ) রাশিয়া নির্ভর হলেও গত দশকে রাশিয়ার শেয়ার উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। তবুও দু’দেশের দীর্ঘদিনের বিশ্বাস ও প্রযুক্তিগত সামঞ্জস্য ভারতীয় প্রতিরক্ষার কৌশলগত ভিত্তি হয়ে রয়েছে।
এতদিন পর্যন্ত রাশিয়াই ছিল ভারতের প্রধান অস্ত্র সরবরাহকারী। কিন্তু ‘আত্মনির্ভর ভারত’ প্রকল্প (Atmanirbhar Bharat) শুরু হওয়ার পর আমদানি কমিয়ে দেশীয় উৎপাদনের দিকে জোর দিয়েছে ভারত। স্টকহোম ইন্টারন্যাশনাল পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউট (SIPRI)-র তথ্য বলছে, ২০০৯ সালে ভারতের মোট অস্ত্র আমদানির ৭৬ শতাংশ ছিল রাশিয়া থেকে। ২০২৪ সালে তা নেমেছে ৩৬ শতাংশে। এর মধ্যেই ফ্রান্স, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সহযোগিতা বেড়েছে। তা সত্ত্বেও ব্রহ্মোস ক্ষেপণাস্ত্র, T-90 ট্যাঙ্ক, MiG-29, Kamov হেলিকপ্টারের মতো প্রকল্পে রাশিয়া এখনও মুখ্য অংশীদার।
চলতি বছরের মে মাসে ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর (Operation Sindoor) সময় S-400–এর কার্যক্ষমতা নিয়ে বায়ুসেনা সন্তোষ প্রকাশ করে। আদমপুরে মোতায়েন একটি ইউনিট ৩১৪ কিলোমিটার দূর থেকে পাকিস্তানের একটি বিমান গুলি করে নামিয়েছে বলে সূত্রের দাবি। পাশাপাশি একই সঙ্গে ৩০০-র বেশি বিমান লক্ষ্য ট্র্যাক করা এবং পাঁচ মিনিটের কম সময়ে যুদ্ধ-প্রস্তুত হয়ে ওঠার ক্ষমতা এই ব্যবস্থাকে ভারতের প্রতিরক্ষা জালে ‘ফোর্স মাল্টিপ্লায়ার’ করে তুলেছে।
রাশিয়ার প্রতিরক্ষা সংস্থা রোস্তেক ইতিমধ্যেই নতুন S-400 চুক্তি নিয়ে নয়াদিল্লির সঙ্গে প্রাথমিক আলোচনা শুরু করেছে। সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য প্রস্তাব, মিসাইল ও সাপোর্ট সিস্টেমে ৫০ শতাংশ প্রযুক্তি হস্তান্তর। এতে ভারতীয় সংস্থা, বিশেষ করে ভারত ডায়নামিক্স লিমিটেড (BDL), স্থানীয়ভাবে 48N6 মিসাইল তৈরি করতে পারবে। ফলে খরচ কমবে, উৎপাদন দ্রুত হবে এবং ভারতীয় প্রতিরক্ষা শিল্প আরও শক্তিশালী হবে।
ভারতের আগের পাঁচ রেজিমেন্টের ৫.৪৩ বিলিয়ন ডলারের চুক্তির মধ্যে তিনটি রেজিমেন্ট পাওয়া গেছে। বাকি দুটি আসার কথা ২০২৬-এর প্রথমার্ধে। নতুন চুক্তিতে সময়মতো সরবরাহ ও রক্ষণাবেক্ষণের ওপর জোর দেওয়া হবে।
২০২৫ সালের SIPRI রিপোর্ট বলছে, ২০২০–২০২৪ সময়কালে ভারতের রাশিয়া-নির্ভর প্রতিরক্ষা আমদানি দাঁড়িয়েছে ৩৬ শতাংশে - এক দশকের মধ্যে সর্বনিম্ন। ২০১৫–২০১৯-এ যা ছিল ৫৫ শতাংশ, আর ২০১০–২০১৪-য় ছিল ৭২ শতাংশ।
তবুও ভারত–রাশিয়া প্রতিরক্ষা সম্পর্ক একেবারেই শিথিল হয়নি। বরং ব্রহ্মোস, AK-203 রাইফেল, নৌবাহিনীর স্টেলথ ফ্রিগেট - সব মিলিয়ে যৌথ উৎপাদনের প্রকল্প দু’দেশের সম্পর্ককে আরও গভীর করে তুলছে।
পুতিনের সফরের সময় S-400–এর সম্প্রসারিত চুক্তি ছাড়াও ভবিষ্যৎ যৌথ প্রকল্প নিয়ে চূড়ান্ত আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল। লক্ষ্য - ২০২৬ সালের মধ্যেই নতুন সব সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করা।
ভারত ও রাশিয়ার কৌশলগত সম্পর্ক নতুন দিশা পাবে কিনা, সে প্রশ্নের উত্তর মিলবে ৪-৫ ডিসেম্বরের শিখর বৈঠকেই।