সঙ্ঘ শিবিরের হিন্দুত্ববাদী সংগঠন ভিএইচপি বলেছে, মহারাষ্ট্রে কেবলমাত্র হিন্দুরাই ‘গরবা’ অনুষ্ঠানে যোগ দিতে পারেন।

গরবা নাচে আসা মানুষজন যে তার আগে পুজো করে এসেছেন, তা বোঝাতে তাঁদের মাথায় তিলক থাকা জরুরি।
শেষ আপডেট: 20 September 2025 18:00
দ্য ওয়াল ব্যুরো: নবরাত্রির মুখে বিশ্ব হিন্দু পরিষদের এক ‘ফতোয়া’য় বিতর্ক ছড়াল। সঙ্ঘ শিবিরের হিন্দুত্ববাদী সংগঠন ভিএইচপি বলেছে, মহারাষ্ট্রে কেবলমাত্র হিন্দুরাই ‘গরবা’ অনুষ্ঠানে যোগ দিতে পারেন। এছাড়াও, গরবা অনুষ্ঠানে যাতে অ-হিন্দুরা প্রবেশ না করতে পারে তারও নিদান দিয়েছে ভিএইচপি। পরিচয় নিশ্চিত করতে আধার কার্ড পরীক্ষা করে ঢুকতে দিতে হবে।
সংগঠনের এই ফতোয়াকে ঘিরে ইতিমধ্যেই ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে রাজনৈতিক মহলে। মহারাষ্ট্রের মন্ত্রী তথা বিজেপি নেতা চন্দ্রশেখর বাওয়ানকুলে জানিয়েছেন, গরবা নাচের উদ্যোক্তারা প্রবেশপথের শর্ত নিজেরা তৈরি করতে পারবেন। অবশ্য গরবা অনুষ্ঠানের জন্য পুলিশি অনুমতি নিতেই হবে বলে জানান মন্ত্রী।
ভিএইচপি-র এই নিদানে কংগ্রেস নেতা বিজয় ওয়াদেত্তিওয়ার কড়া সমালোচনা করে বলেন, হিন্দুত্ববাদীরা দেশকে আগুনের দিকে ঠেলে নিয়ে যাচ্ছে। ভিএইচপি একটি বিবৃতি জানিয়েছে, গরবা নাচের অনুষ্ঠানের আয়োজকরা যেন প্রবেশপথে আধার কার্ড পরীক্ষা করে লোক ঢোকান। গরবা নাচে আসা মানুষজন যে তার আগে পুজো করে এসেছেন, তা বোঝাতে তাঁদের মাথায় তিলক থাকা জরুরি।
বলা হয়েছে, ভিএইচপি এবং বজরঙ্গ দল রাজ্য জুড়ে গরবা অনুষ্ঠানগুলির উপর নজর রাখবে। হিন্দু পরিষদের মুখপাত্র শ্রীরাজ নায়ার সংবাদ সংস্থাকে বলেন, গরবা কোনও বিশেষ একটি নাচ নয়। দেবীকে তুষ্ট করার একটি ধর্মীয় রীতি। যারা মূর্তিপূজায় বিশ্বাস রাখে না, তারা যেন অনুষ্ঠানে ঢুকতে না পায়। যারা হিন্দু ধর্মে বিশ্বাস রাখে তারাই যেন গরবায় অংশ নিতে পারে। আমরা নজর রাখব, এটাকে যেন নিছক আনন্দ-বিনোদনের অনুষ্ঠান না করে ফেলা হয়।
মহারাষ্ট্র বিজেপির মিডিয়া সেলের প্রধান নবনাথ বান বলেন, গরবা একটি হিন্দু অনুষ্ঠান। হিন্দুরা যখন দেবী পুজো ও গরবা করবেন, তাতে যেন অন্য ধর্মের লোক ঢুকে না পড়ে। আমরা মাতৃরূপে দেবী পুজো করে থাকি। একইসঙ্গে তিনি হিন্দু পরিষদের এই অবস্থানের বিরোধিতা করায় উদ্ধব ঠাকরেপন্থী শিবসেনার নিন্দা করেন তিনি।