দুর্ঘটনাটি ঘটে জাতীয় সড়ক ৪৪-এ, যখন শিব শঙ্কর নামের ওই যুবকের বাইকটি বেসরকারি বাস লাক্সারি বাসের সঙ্গে ধাক্কা খায়। সংঘর্ষের পর বাইকটিকে প্রায় ২০০ মিটার টেনে নিয়ে যায় বাসটি এবং ঘর্ষণ ও বাইকের তেল লিক হওয়ার কারণে মুহূর্তের মধ্যে আগুন ধরে যায়।

ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 25 October 2025 15:35
দ্য ওয়াল ব্যুরো: অন্ধ্রপ্রদেশের কুর্নুলে (Andhra Pradesh) ভয়াবহ বাসদুর্ঘটনায় (Bus Accident) ২০ জনের মৃত্যুর ঘটনায় তদন্তে নয়া মোড় এসেছে। শুক্রবার ভোরে ঘটে যাওয়া ওই দুর্ঘটনার আগে মৃত বাইক আরোহীকে (Bike Rider) দেখা গেছে একটি ভাইরাল সিসিটিভি ফুটেজে (Viral CCTV Footage)। তাতে লক্ষ্য করা যায়, দুর্ঘটনার কিছুক্ষণ আগে সে বেপরোয়াভাবে বাইক চালাচ্ছিল।
দুর্ঘটনাটি ঘটে জাতীয় সড়ক ৪৪-এ, যখন শিব শঙ্কর নামের ওই যুবকের বাইকটি বেসরকারি বাস লাক্সারি বাসের সঙ্গে ধাক্কা খায়। সংঘর্ষের পর বাইকটিকে প্রায় ২০০ মিটার টেনে নিয়ে যায় বাসটি এবং ঘর্ষণ ও বাইকের তেল লিক হওয়ার কারণে মুহূর্তের মধ্যে আগুন ধরে যায়। ২২ বছরের বি শিব শঙ্কর মদ্যপ (Drunken) ছিলেন বলে সন্দেহ পুলিশের। তার সিসিটিভি ফুটেজ দেখে এমনই মনে করছে পুলিশ।
তেলঙ্গানার মন্ত্রী জুপল্লি কৃষ্ণা রাও ঘটনাটির জন্য বাসচালক ও ট্রাভেল সংস্থাকে দায়ী করে কঠোর পদক্ষেপের দাবি তুলেছেন। পুলিশ ইতিমধ্যেই দুই বাসচালক লক্ষ্মাইয়া ও শিব নারায়ণাকে অবহেলাজনিত মৃত্যুর অভিযোগে গ্রেফতার করেছে।
এদিকে, ভাইরাল হওয়া সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, রাত ২টা ২৩ মিনিটে শিব শঙ্কর ও তার এক সঙ্গী বাইক নিয়ে একটি পেট্রোল পাম্পে পৌঁছন। কিছু সময় অপেক্ষার পর শিব শঙ্কর কোনও কারণে বিরক্ত হয়ে চিৎকার করেন, তারপর বাইকটি ঘুরিয়ে চলে যান। তবে স্পষ্ট বোঝা যায়, তিনি একদমই ভারসাম্য রাখতে পারছিলেন না নিজের।
The CCTV video of the biker who is involved in #Kurnool #BusAccident 😔
Looks like #drunk 😶
Reason for 19 #innocent 😥 lifes 😫#FireAccident #BusAccident#Hyderabad #bangalore pic.twitter.com/VnED4tEtKT— cherry_Vibes😎 (@CAdusumall41381) October 25, 2025
তাঁর এই আচরণে পুলিশ সন্দেহ করছে, তিনি হয়তো মদ বা অন্য কোনও নেশার প্রভাবে ছিলেন। এদিকে দুর্ঘটনার সময় অর্থাৎ রাত ৩টা থেকে ৩.৩০-এর মধ্যে প্রবল বৃষ্টি ও অন্ধকারে দৃশ্যমানতা খুবই কম ছিল। সবমিলিয়েই এই দুর্ঘটনা ঘটে।
শিব শঙ্করের সঙ্গী বর্তমানে পুলিশের হেফাজতে রয়েছে। তাঁকে জেরা করে পুরো ঘটনার ধারাবাহিকতা বোঝার চেষ্টা চলছে। মৃত বাইকচালকের ভিসেরা পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে, যাতে তাঁর রক্তে অ্যালকোহলের উপস্থিতি যাচাই করা যায়। আপাতত তদন্তে একাধিক দিক উঠে আসছে -
১. বাইকটি দুর্ঘটনার আগেই রাস্তার ধারে পড়ে ছিল এবং বাসচালক বৃষ্টি ও অন্ধকারে তা দেখতে না পেরে দুর্ঘটনাটি ঘটান।
২. বাইকচালকের বেপরোয়া গতি বা নেশাগ্রস্ত অবস্থার কারণেই সংঘর্ষ ঘটে।
বাসে দমবন্ধ হয়ে ও ঝলসে মৃত্যু হয়েছে কমপক্ষে ১৯ জনের, জখম একাধিক। প্রাথমিক তদন্তে ইতিমধ্যে উঠে এসেছে ভয়াবহ তথ্য। আগুনের নেপথ্যে রয়েছে বাসে মজুত মোবাইলের ব্যাটারিও। পুলিশের প্রাথমিক রিপোর্ট বলছে, বাসটির ভিতরে ছিল ২৩৪টি রিয়েলমি স্মার্টফোনের চালান। ফরেনসিক বিশেষজ্ঞদের প্রাথমিক রিপোর্টে ইঙ্গিত মিলেছে, বাসে আগুন লাগার পর পরই এই স্মার্টফোনগুলির ব্যাটারিতে বিস্ফোরণ হয় এবং তার ফলেই আগুনের তীব্রতা মারাত্মকভাবে বেড়ে যায়।