বাসে দমবন্ধ হয়ে ও ঝলসে মৃত্যু হয়েছে কমপক্ষে ১৯ জনের, জখম একাধিক। প্রাথমিক তদন্তে ইতিমধ্যে উঠে এসেছে ভয়াবহ তথ্য। আগুনের নেপথ্যে রয়েছে বাসে মজুত মোবাইলের ব্যাটারিও।

মৃত তরুণী
শেষ আপডেট: 25 October 2025 12:13
দ্য ওয়াল ব্যুরো: কালো ধোঁয়া আর পোড়া গন্ধে এখনও ভরে আছে অন্ধ্রপ্রদেশের (Andhra Pradesh) কুর্নুলের (Kurnool) বাতাস। বাস দুর্ঘটনায় (Bus Accident) এক মুহূর্তে ছাই হয়ে গেছে অসংখ্য তরুণ-তরুণীর স্বপ্ন। শুক্রবার ভোররাতে ঘটে যাওয়া সেই ভয়াবহ ঘটনা শুধু প্রাণ কেড়ে নেয়নি, ধ্বংস করে দিয়েছে বহু পরিবারের ভবিষ্যৎ।
এই দুর্ঘটনায় অনেকের মতোই প্রাণ হারিয়েছেন ২৩ বছরের অনুশা (Anusha) যিনি বেঙ্গালুরুর একটি নামী সংস্থায় (Bengaluru Techie) কর্মরত ছিলেন। তাঁর সাফল্য এতদিন ছিল পরিবারের গর্ব। তবে আজ সেই গর্বই যেন পরিণত হয়েছে গভীর আফসোসে।
“ইস, যদি মেয়েটা বেঙ্গালুরুতে চাকরি না পেত!” চোখের জল মুছতে মুছতে বলছিলেন অনুশার বাবা। কণ্ঠে ছিল অনুশোচনা। “শেষবার ওকে আমরা বাসস্ট্যান্ডে পৌঁছে দিয়েছিলাম,” কাঁপা কাঁপা গলায় এই কথা বলে বেশ কিছুক্ষণ চুপ করে যান।
অনুশার মা যেন এখনও বিশ্বাস করতে পারছেন না। ফিসফিস করে বলে ওঠেন, “ওকে বলেছিলাম দু’দিন থেকে যেতে... যদি থেকে যেত, হয়তো আজ বেঁচে থাকত।” দীপাবলির ছুটি কাটিয়ে মেয়েটি ফিরছিল কর্মস্থলে, কিন্তু গন্তব্যে পৌঁছল না আর কখনও।
অন্য এক পরিবারেও নেমে এসেছে একই বিপর্যয়। মেঘনাথ, মাত্র পাঁচ মাস আগে কাজ শুরু করেছিলেন বেঙ্গালুরুতে। দুর্ঘটনার খবর শোনার পর তাঁর মা কুর্নুলে পৌঁছে যান, কিন্তু চোখে-মুখে ছিল অবিশ্বাস। “আমার ছেলে এমন করে চলে যেতে পারে না,” - বলে লুটিয়ে পড়েন তিনি। “ও ছাড়া আমি কী করে বাঁচব?” অঝোরে কাঁদতে থাকেন শোকে ভেঙে পড়া মা।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আর এক যাত্রী, গুণা সাই, যিনি প্রায়ই এই রুটে ভ্রমণ করতেন, বর্ণনা করলেন ভয়ঙ্কর সেই রাতের। “সবদিকে ধোঁয়া আর আগুন। কেউ কিছু দেখতে পাচ্ছিল না,” বলেন তিনি। “আমি জানলা ভেঙে ঝাঁপ দিয়েছিলাম। ভিতরে কোনও নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল না। কাঁচ ভাঙার জন্য হাতুড়িও পাইনি।”
বাসে দমবন্ধ হয়ে ও ঝলসে মৃত্যু হয়েছে কমপক্ষে ১৯ জনের, জখম একাধিক। প্রাথমিক তদন্তে ইতিমধ্যে উঠে এসেছে ভয়াবহ তথ্য। আগুনের নেপথ্যে রয়েছে বাসে মজুত মোবাইলের ব্যাটারিও। পুলিশের প্রাথমিক রিপোর্ট বলছে, বাসটির ভিতরে ছিল ২৩৪টি রিয়েলমি স্মার্টফোনের চালান। ফরেনসিক বিশেষজ্ঞদের প্রাথমিক রিপোর্টে ইঙ্গিত মিলেছে, বাসে আগুন লাগার পর পরই এই স্মার্টফোনগুলির ব্যাটারিতে বিস্ফোরণ হয় এবং তার ফলেই আগুনের তীব্রতা মারাত্মকভাবে বেড়ে যায়।
জানা গেছে, ফোনগুলি হায়দরাবাদের ব্যবসায়ী মাঙ্গানাথ ওই বাসে করে পাঠাচ্ছিলেন ই-কমার্স সংস্থা ফ্লিপকার্টের বেঙ্গালুরু শাখায়। সেখান থেকে ফোনগুলি অনলাইন গ্রাহকদের কাছে সরবরাহ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু রাস্তাতেই শেষ ৪৬ লক্ষ টাকার ফোন।
শুক্রবারই জানা গেছিল, বাসটি একটি মোটরবাইককে (Bike) ধাক্কা দেয়। ধাক্কার ফলে বাইকটি বাসের তলায় গিয়ে আটকে পড়ে এবং বাসের জ্বালানি ট্যাংকে আঘাত লাগে। সঙ্গে সঙ্গে বিস্ফোরণ ঘটে, মুহূর্তে আগুন (Firebreak) ছড়িয়ে পড়ে গোটা গাড়িতে। আরও জানা গিয়েছে, শর্ট সার্কিটের কারণে বাসের দরজা আটকে গিয়েছিল। ফলে ঘুমন্ত যাত্রীরা ভেতরে বন্দি হয়ে পড়েন।