
সঞ্জয় রাউতের কথাকে মুঘল সংস্কৃতির সঙ্গেও তুলনা টানেন ফড়নবিশ।
শেষ আপডেট: 1 April 2025 14:04
দ্য ওয়াল ব্যুরো: প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর উত্তরসূরী কে? সোমবার উদ্ধব ঠাকরে-পন্থী শিবসেনা নেতা সঞ্জয় রাউতের মন্তব্যকে ঘিরে বিতর্ক জমে ওঠার মধ্যেই এনিয়ে ইঙ্গিতপূর্ণ কথা বললেন উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ। গত রবিবার নাগপুরে বিজেপির চালিকাশক্তি রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেববক সঙ্ঘের সদর কার্যালয়ে গিয়েছিলেন মোদী। প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী অটলবিহারী বাজপেয়ীর পর ২৪ বছর বাদে কোনও প্রধানমন্ত্রী পা রাখেন নাগপুরে আরএসএসের অফিসে। আর তা নিয়ে ঠেস মেরে রাউত বলেন, মোদী সেখানে গিয়েছিলেন সেপ্টেম্বরে তাঁর অবসরের কথা জানিয়ে দিতে। রুদ্ধদ্বার বৈঠকে সরসঙ্ঘ চালকদের সঙ্গে পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী মুখ নিয়ে আলোচনা হয় বলে তিনি বিশেষ সূত্রে জানতে পেরেছেন।
সঞ্জয় রাউতের ওই সাংবাদিক সম্মেলনের পরেই মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবিশ ফুঁসে ওঠেন। মোদীকে দলের পিতৃতুল্য বলে বর্ণনা করে ২০২৯ সালে তাঁর নেতৃত্বেই বিজেপি লোকসভা ভোটে লড়াই করবে বলে জানিয়ে দেন। যে প্রসঙ্গে সঞ্জয় রাউতের কথাকে মুঘল সংস্কৃতির সঙ্গেও তুলনা টানেন ফড়নবিশ। তর্কবিতর্ক যাই হোক না কেন, মোদীর উত্তরসূরী নিয়ে ইতিমধ্যেই নানান জল্পনা শুরু হয়ে গিয়েছে। সেই তালিকা প্রথম সারিতে যাঁরা রয়েছেন, তাঁদের উল্লেখযোগ্য হলেন মোদীর সেকেন্ড-ইন-কমান্ড কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ও উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ।
সেই আদিত্যনাথই মঙ্গলবার তাঁর রাজনৈতিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা-অভিলাষের কথা খোলসা করে জানিয়ে দেন সকলের সামনে। মোদীর উত্তরাধিকারত্ব নিয়ে তাঁর সম্পর্কে যে জল্পনা চলছে, তা নিয়ে খোলাখুলি জানিয়ে দেন মনের কথা। তাঁকে দেশের ভবিষ্যৎ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে জনমনে একটা আশার আলো দেখা দিয়েছে, সে নিয়ে প্রশ্ন করা হলে যোগী জানিয়ে দেন, তিনি নিজেকে পূর্ণ সময়ের রাজনীতিক বলেই মনে করেন না। রাজনীতিকে সর্বক্ষণের কাজ বা রাজনীতিতে সর্বক্ষণের কর্মী তিনি নন।
যোগী জবাবে আরও বলেন, আমি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী। দল আমাকে মুখ্যমন্ত্রী করেছে রাজ্যের মানুষের কাজ করার জন্য। আর রাজনীতিও আমার কাছে পূর্ণ সময়ের কাজ নয়। আসলে আমি যোগী। বাস্তব ঘটনা হল, যতক্ষণ আমরা এখানে আছি, ততক্ষণ আমাদের কাজ করে যেতে হবে। এখানেও সময়ের একটি শেষ আছে। যোগীর কাছে জানতে চাওয়া হয়, বিজেপি হাইকমান্ডের সঙ্গে আপনার বিরোধের কথা শোনা যায়, তা কি সত্যি? উত্তরে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, মতপার্থক্যের প্রশ্ন ওঠে কোথা থেকে? আমি এই চেয়ারে বসে আছি দলেরই কারণে। কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে সংঘাত করে আমি এখানে থাকতে পারতাম নাকি?
প্রধানমন্ত্রী পদের অন্যতম দাবিদার যোগী আরও বলেন, দ্বিতীয় বিষয় হচ্ছে লোকসভা ভোটের টিকিট দেওয়ার হকদার হল সংসদীয় বোর্ড। দলের সেই বোর্ডে আলোচনার মধ্যে প্রার্থী বাছাই করে টিকিট দেওয়া হয়। তাই কারও কিছু বলার থাকলে বলতেই পারে, কারও মুখ তো আর বন্ধ করতে পারি না।