এই রিপোর্ট প্রকাশ্যে আসতেই তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে নয়াদিল্লি (MEA India on USCIR)। কেন্দ্রের বক্তব্য, এই রিপোর্ট পক্ষপাতদুষ্ট এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।

রিপোর্ট প্রকাশ্যে আসতেই তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে নয়াদিল্লি
শেষ আপডেট: 16 March 2026 22:43
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভারতে ধর্মীয় স্বাধীনতা লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে দেশটিকে “Country of Particular Concern” বা 'বিশেষ উদ্বেগের দেশ' হিসেবে চিহ্নিত করার সুপারিশ করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একটি সংস্থা (USCIRF India religious freedom report)। একই সঙ্গে ভারতের গুপ্তচর সংস্থা 'র' এবং হিন্দুত্ববাদী সংগঠনের আরএসএস-এর বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা জারির দাবিও জানানো হয়েছে (USCIRF sanctions RAW RSS)।
এই রিপোর্ট প্রকাশ্যে আসতেই তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে নয়াদিল্লি (MEA India on USCIR)। কেন্দ্রের বক্তব্য, এই রিপোর্ট পক্ষপাতদুষ্ট এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
সোমবার প্রকাশিত হয়েছে মার্কিন সংস্থা ইউনাইটেড স্টেটস কমিশন অন ইন্টারন্যাশনাল রিলিজিয়াস ফ্রিডম (USCIRF)-এর ২০২৬ সালের বার্ষিক রিপোর্ট। সেখানে দাবি করা হয়েছে, ভারতে ধর্মীয় স্বাধীনতার পরিস্থিতি উদ্বেগজনক এবং গত বছরও তা আরও খারাপ হয়েছে। সেই কারণ দেখিয়ে মার্কিন সরকারকে সুপারিশ করা হয়েছে, ভারতকে 'বিশেষ উদ্বেগের দেশ' হিসেবে চিহ্নিত করতে।
রিপোর্টে আরও বলা হয়েছে, ধর্মীয় স্বাধীনতা লঙ্ঘনের ঘটনায় জড়িত বা সেই ধরনের কর্মকাণ্ডে সহযোগিতা করেছে, এমন ব্যক্তি বা সংস্থার বিরুদ্ধে লক্ষ্যভিত্তিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা উচিত। সেই তালিকায় ভারতের বহির্গামী গোয়েন্দা সংস্থা 'র' (Research and Analysis Wing) এবং হিন্দুত্ববাদী সংগঠন আরএসএস (Rashtriya Swayamsevak Sangh)-এর নামও উল্লেখ করা হয়েছে। প্রস্তাবিত পদক্ষেপের মধ্যে রয়েছে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা সংস্থার সম্পত্তি জব্দ করা এবং ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা জারি করা।
এই রিপোর্ট প্রকাশের পরেই কড়া ভাষায় প্রতিক্রিয়া জানায় ভারতের বিদেশ মন্ত্রক। সংবাদমাধ্যমের প্রশ্নের জবাবে বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল জানান, সরকার এই রিপোর্ট এবং তাতে ভারতের যে ছবি তুলে ধরা হয়েছে, তা “সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাখ্যান” করছে।
জয়সওয়ালের অভিযোগ, সংশ্লিষ্ট কমিশন দীর্ঘদিন ধরেই ভারতের বিষয়ে “বিকৃত এবং বেছে নেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে” একটি ছবি তুলে ধরছে। তাঁর কথায়, “আমরা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক ধর্মীয় স্বাধীনতা কমিশনের সাম্প্রতিক রিপোর্টের কথা জানি। আমরা এর উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং পক্ষপাতদুষ্ট ব্যাখ্যাকে সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাখ্যান করছি।”
তিনি আরও বলেন, গত কয়েক বছর ধরে কমিশনটি নাকি নিরপেক্ষ তথ্যের বদলে “সন্দেহজনক উৎস এবং আদর্শগত বয়ান”-এর উপর নির্ভর করছে। এর ফলে কমিশনের বিশ্বাসযোগ্যতাই প্রশ্নের মুখে পড়ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
বিদেশ মন্ত্রকের বক্তব্য, ভারতের সমালোচনায় বারবার একতরফা অবস্থান নেওয়ার বদলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যেই ঘটে চলা কিছু ঘটনাতেও নজর দেওয়া উচিত। জয়সওয়ালের কথায়, আমেরিকায় একাধিক হিন্দু মন্দিরে ভাঙচুর বা হামলার ঘটনা ঘটেছে। পাশাপাশি সেখানে বসবাসকারী ভারতীয় বংশোদ্ভূত মানুষের বিরুদ্ধে অসহিষ্ণুতা এবং ভীতি প্রদর্শনের ঘটনাও বাড়ছে, যা গুরুত্ব দিয়ে দেখা দরকার।
এদিকে রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, ২০২৫ সালে ভারতে ধর্মীয় স্বাধীনতার পরিস্থিতি আরও অবনতি হয়েছে। সংস্থার অভিযোগ, দেশের কয়েকটি রাজ্যে ধর্মান্তর-বিরোধী আইন আরও কড়া করা হয়েছে বা নতুন করে চালু করা হয়েছে। এর ফলে কারাবাসের মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে এবং ধর্মীয় সংখ্যালঘু ও তাঁদের উপাসনাস্থলকে লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে।
রিপোর্টে আরও সুপারিশ করা হয়েছে, ভবিষ্যতে ভারতের সঙ্গে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা সহায়তা বা বাণিজ্য নীতির ক্ষেত্রেও ধর্মীয় স্বাধীনতার পরিস্থিতির উন্নতির বিষয়টি বিবেচনায় রাখা উচিত। পাশাপাশি মার্কিন কংগ্রেসকে ২০২৪ সালের ট্রানসেশনাল রিপ্রেশন রিপোর্টিং অ্যাক্ট ২০২৪ পাশ করার আহ্বান জানানো হয়েছে। এই আইনের মাধ্যমে বিদেশে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে ভারত সরকারের সম্ভাব্য পদক্ষেপের অভিযোগগুলি নথিভুক্ত করার কথা বলা হয়েছে।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, ইউনাইটেড স্টেটস কমিশন অন ইন্টারন্যাশনাল রিলিজিয়াস ফ্রিডম একটি স্বাধীন দ্বিদলীয় ফেডারেল কমিশন, যা আন্তর্জাতিক ধর্মীয় স্বাধীনতার পরিস্থিতি নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট, বিদেশমন্ত্রী এবং কংগ্রেসকে পরামর্শ দেয়। অতীতেও একাধিকবার তারা ভারতকে 'বিশেষ উদ্বেগের দেশ'-এর তালিকায় রাখার সুপারিশ করেছে।
তবে নয়াদিল্লি বরাবরই এই ধরনের রিপোর্টকে পক্ষপাতদুষ্ট এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে খারিজ করেছে। এবারের রিপোর্ট প্রকাশের পরেও সেই একই অবস্থান বজায় রাখল ভারত সরকার।