
শেষ আপডেট: 28 March 2024 10:24
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল যাতে সুবিচার পান সে ব্যাপারে নিজেদের অবস্থান থেকে সরতে নারাজ জো বাইডেন প্রশাসন। বুধবার দিল্লিতে পররাষ্ট্রমন্ত্রকে মার্কিন দূতাবাসের পদস্থ কর্তাকে ডেকে ভারতে অভ্যন্তরীণ বিষয়ে নাক না গলাতে সতর্ক করার কয়েক ঘণ্টার মধ্য হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, তারা চায়, দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী যেন দ্রুত ন্যায় বিচার পান। গোদের উপর বিষফোঁড়ার মতো মোদী সরকারে অস্বস্তি বাড়িয়ে কংগ্রেসের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট সিল প্রসঙ্গও যুক্ত করেছে বাইডেন প্রশাসন।
বুধবার মার্কিন কূটনীতিককে ডেকে দিল্লির পররাষ্ট্রমন্ত্রকের কর্তারা ধমক দেওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে ওয়াশিংটনে রোজকার মিডিয়া ব্রিফিংয়ের মার্কিন বিদেশ দফতরের মুখপাত্র ম্যাথু মিলার সাংবাদিকদের বলেন, ‘নয়াদিল্লিতে কূটনৈতিক পর্যায়ের বৈঠকে কী কথা হয়েছে তা আমরা প্রকাশ্যে জানাতে চাই না। তবে এটুকু জানাতে চাই, আমরা আমাদের অবস্থান থেকে সরছি না। দিল্লির মুখ্যমন্ত্রীর গ্রেফতারির ঘটনাটিতে আমরা নজর রাখছি। আমরা মনে করি, সকলের মতো কেজরিওয়ালেরও দ্রুত, স্বচ্ছ বিচার পাওয়ার অধিকার আছে।’
মিলার এই সঙ্গে যোগ করেন, ‘আমাদের নজরে আছে কংগ্রেসের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট সিল করার বিষয়টিও। এরফলে কংগ্রেসের নির্বাচনী প্রচার চালাতে সমস্যা হবে। আমরা মনে করি, প্রত্যেকেরই স্বচ্ছ এবং দ্রুত বিচার প্রাপ্য।’
এ দেশে নির্বাচন চলাকালে ভারত ও আমেরিকার মধ্যে এই কূটনৈতিক দ্বৈরথের প্রেক্ষাপটে আছে গত মঙ্গলবার মার্কিন বিদেশ মন্ত্রকের কেজরিওয়ালের গ্রেফতারি নিয়ে সরব হওয়ার ঘটনা। সেদিন বাইডেন প্রশাসনের তরফে জানানো হয়, ‘দিল্লির মুখ্যমন্ত্রীর দ্রুত, ন্যায্য বিচার পাওয়ার অধিকার আছে।’
পরদিন বুধবারই দিল্লির পররাষ্ট্রমন্ত্রকে ডেকে পাঠানো হয় ভারতে মার্কিন দূতাবাসের কার্যনির্বাহী সরকারী প্রধান গ্লোরিয়া বারবেনাকে। তাঁকে বলে দেওয়া হয়, আমেরিকা যেন ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে নাক না গলায়। এটা নয়াদিল্লির পছন্দ নয়। ঘটনা হল, তার আগের দিন অর্থাৎ সোমবার একই কথা বলে সতর্ক করা হয় দিল্লিতে কর্মরত জার্মান দূতকেও।
কেজরিওয়াল ইস্যুতে জার্মানিই প্রথম দেশ যারা বিবৃতি দেয়। বার্লিনে দেশটির বিদেশ মন্ত্রক এক বিবৃতি জারি করে বলে, আমরা মৌলিক গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও বিচার বিভাগের স্বাধীনতায় বিশ্বাস করি। দিল্লির মুখ্যমন্ত্রীর বিচারের ক্ষেত্রে এই দুটি বিষয়ে ভারত যত্নবান হবে, এটাই প্রত্যাশিত।
দিল্লির দূতকে সতর্ক করার পর জার্মানি নতুন করে আর প্রতিক্রিয়া দেয়নি। কিন্তু আমেরিকা পাল্টা সরব হয়েছে। কূটনীতির অঙ্গনে যাকে তোপ দাগাই বলে। ভারতে বিরোধী দলগুলির মোদীর সরকারের বিরুদ্ধে তোলা অভিযোগগুলি নিয়ে সরব হয়েছে ওয়াশিংটন।
স্বভাবতই ভোটের আবহে মোদী সরকারের অস্বস্তি বাড়ছে সন্দেহ নেই। নরেন্দ্র মোদী বিশ্ব দরবারে কথায় কথায় ভারতকে গণতন্ত্রের জননী হিসাবে তুলে ধরেছেন। নিজের দেশে তাঁকেই গণতন্ত্রকে হত্যার দায়ে বিরোধীরা বারে বারে কাঠগড়ায় তুলেছে।
কংগ্রেসের ব্যাঙ্ক অ্যাকান্ট সিল হালের ঘটনা। মাস ছয় আগে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট কংগ্রেসের অধুনা বন্ধ মুখপত্র ন্যাশনাল হেরাল্ডের প্রায় ছয়শো কোটি টাকার সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে নিয়েছে। অন্যদিকে, আয়কর দফতরের নির্দেশে সিল হওয়া ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে প্রায় তিনশো কোটি টাকা রয়েছে। কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়্গের বক্তব্য, কংগ্রেসের নির্বাচনী প্রচারে বাধা সৃষ্টির লক্ষ্যেই এই সিদ্ধান্ত। অন্যদিকে, সনিয়া গান্ধীর বক্তব্য, কংগ্রেসকে অর্থ শূন্য করে দিতেই বিজেপি সরকার এই সব পদক্ষেপ করেছে।