মার্কিন দূতাবাস ঠিক এই ভাষাতেই সেদেশে বসবাসকারী ভারতীয়দের ভিসা প্রত্যাহারের নতুন ফতোয়া জারি করল।

মহিলাকে পাকড়াও করে হাতকড়া পরাচ্ছে পুলিশ।
শেষ আপডেট: 17 July 2025 11:47
দ্য ওয়াল ব্যুরো: চুরি-ছিনতাই কিংবা কাউকে আঘাত করার মাশুল চোকাতে হবে। এরকম কোনও অপরাধমূলক কাজে জড়িত থাকলে সেই ব্যক্তির আজীবনের ভিসা বাতিল করতে পারবে মার্কিন প্রশাসন। মার্কিন দূতাবাস ঠিক এই ভাষাতেই সেদেশে বসবাসকারী ভারতীয়দের ভিসা প্রত্যাহারের নতুন ফতোয়া জারি করল। আমেরিকার একটি স্টোর থেকে চুরি করতে গিয়ে এক ভারতীয় মহিলা ধরা পড়ার পর আচমকা এই নির্দেশ জারি করেছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন।
উল্লেখ্য, ইলিনয়েসের একটি টার্গেট স্টোর থেকে ভারতীয় এক মহিলা প্রায় ১.১ লক্ষ টাকার সামগ্রী চুরি গিয়ে হাতেনাতে পুলিশের হাতে ধরা পড়েন। তারপরেই এক সতর্কতা জারি করা হয়েছে সেদেশে থাকা ভারতীয়দের জন্য। নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, ডাকাতির জন্য সারাজীবনের ভিসা বাতিল করা হতে পারে। এমনকী তিনি যাতে আর কোনও দিন আমেরিকায় ঢুকতে না পারেন, সে ব্যবস্থাও হবে।
দূতাবাসের তরফে বিদেশিদের প্রতি আমেরিকায় বসবাসকালীন সেদেশে আইনশৃঙ্খলা মেনে চলার পরামর্শ দিয়েছে। এক্সবার্তায় ভারতের মার্কিন দূতাবাস লিখেছে, হেনস্তা, আঘাত, চুরি কিংবা চোখে ধুলো দিয়ে ছিনতাই করলে কেবলমাত্র আইনের ভাষায় বিচার হবে না। আপনি আপনার ভিসাও খোয়াতে পারেন। এতে আপনার ভিসা বাতিল করা হবে এবং ভবিষ্যতেও আর কোনওদিন মার্কিন ভিসার আবেদনই করতে পারবেন না। আমেরিকা আইনশৃঙ্খলার মূল্য দেয় এবং বিদেশিদের কাছে অনুরোধ তাঁরাও যেন মার্কিন আইন মেনে চলেন।
প্রসঙ্গত, এক ভারতীয় মহিলা ইলিনয়েসের একটি টার্গেট স্টোরে প্রায় সাত ঘণ্টা ধরে উইনডো শপিং করছিলেন। সেখান থেকে তিনি প্রায় ১,৩০০ ডলারের (ভারতীয় মুদ্রায় ১.১ লক্ষ টাকা) সামগ্রী সংগ্রহ করেন। কিন্তু, কোনওটারই দাম না মিটিয়ে বেরিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করার সময় পুলিশ তাঁকে ধরে। ঘটনাটি গত ১ মে ঘটলেও তা জানাজানি হয়, একটি ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর।
স্টোরের এক কর্মী ওই ভিডিওতে জানান, আমরা দীর্ঘক্ষণ ধরে ওই মহিলার উপর নজর রাখছিলাম। তিনি প্রায় সাত ঘণ্টা ধরে বিভিন্ন কাউন্টারে ঘোরাঘুরি করছিলেন। পুলিশে খবর দিলে তিনি বেরিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। তখন ওই ভারতীয় মহিলার সঙ্গে দোকান কর্মীদের বিবাদ বাধে। পুলিশের বডিক্যামে সেই তর্কাতর্কি ধরাও পড়েছে।
ঝগড়ার সময় মহিলা সমস্ত টাকা মিটিয়ে দেওয়ার কথা জানানোর আগেই পুলিশ তাঁকে হ্যান্ডক্যাপ পরিয়ে দেয়। একজন মহিলা পুলিশের সঙ্গে এক পুরুষ পুলিশ কর্মীকেও তাঁকে টেনে নিয়ে যেতে দেখা যায়। মহিলা পুলিশ কর্মীকে বলতে শোনা যায়, আপনাদের ভারতেও কি চুরি করার অনুমতি আছে? আমার মনে হয় নেই। ভারতীয় মহিলার বিরুদ্ধে অপরাধের অভিযোগ আনা হলেও তাঁকে এখনও পর্যন্ত গ্রেফতার করা হয়নি। কেননা, অভিযোগের পুরোটাই অনুমানের উপর নির্ভর করে গঠন করা হয়েছে।