Date : 14th Apr, 2026 | Call 1800 452 567 | info@thewall.in
গরমে মেজাজ হারালেন কর্মীরা! চুঁচুড়ায় নিজের দলের লোকেদেরই বিক্ষোভের মুখে দেবাংশুবার্নল-বোরোলিন বিতর্ক, ‘লুম্পেনদের’ হুঁশিয়ারি দিয়ে বিপাকে ডিইও, কমিশনকে কড়া চিঠি ডেরেক ও’ব্রায়েনেরভাঁড়ে মা ভবানী! ঘটা করে বৈঠক ডেকে সেরেনা হোটেলের বিলই মেটাতে পারল না 'শান্তি দূত' পাকিস্তানসরকারি গাড়ির চালককে ছুটি দিয়ে রাইটার্স থেকে হাঁটা দিলেন মন্ত্রীছত্তীসগড়ে পাওয়ার প্ল্যান্টে ভয়ঙ্কর বিস্ফোরণ! মৃত অন্তত ৯, ধ্বংসস্তূপের নীচে অনেকের আটকে পড়ার আশঙ্কাস্কি, ক্যান্ডেললাইট ডিনার আর পরিবার, বিয়ের জন্মদিনে কোন স্মৃতিতে ভাসলেন আলিয়া? পরপর দু’বার ছাঁটাই! চাকরি হারিয়ে 'বিহারি রোল' বানানো শুরু, এখন মাসে আয় ১.৩ কোটিনববর্ষে সস্তায় পেটপুরে খাওয়া! দুই বাংলার মহাভোজ একই থালিতে, হলিডে ইন-এ শুরু হচ্ছে ‘বৈশাখী মিলনমেলা’কষা মাংস থেকে কাটলেট! নববর্ষে তাজের সমস্ত হোটেলে জিভে জল আনা ভোজ, রইল সুলুকসন্ধানপিএসএল ছেড়ে আইপিএলে আসার কড়া মাশুল! ২ বছরের জন্য সাসপেন্ড কেকেআরের এই পেসার

'খুব কষ্ট পাচ্ছিল, কাঁদছিল,' বাড়িতে স্পা করতে আসা কর্মীর কথা লিখলেন মহিলা, সংস্থা বলল...

মুম্বইয়ের মহিলার ভাইরাল পোস্টে আরবান কোম্পানি বিপাকে, উঠে এল কর্মীদের প্রতি অমানবিক আচরণের অভিযোগ।

'খুব কষ্ট পাচ্ছিল, কাঁদছিল,' বাড়িতে স্পা করতে আসা কর্মীর কথা লিখলেন মহিলা, সংস্থা বলল...

কর্মীদের প্রতি অমানবিক আচরণের অভিযোগ আরবান কোম্পানির বিরুদ্ধে।

শেষ আপডেট: 20 April 2025 12:16

দ্য ওয়াল ব্যুরো: 'আরবান কোম্পানি' অ্যাপ পরিষেবাকে রীতিমতো মাথায় তুলেই রাখেন দেশের ওপরতলার শহুরে মানুষদের একাংশ। এক ক্লিকে বাড়িতে হাজির হয় বাথরুম পরিষ্কার থেকে শুরু করে এসি সারানোর কর্মীও। এই অ্যাপের মাধ্যমে বাড়িতে বসে পার্লারের পরিষেবা নেওয়াও এখন প্রায় ঘরে ঘরে। কিন্তু তা করতে গিয়েই, সংস্থার এক কর্মীর দুরবস্থার অভিজ্ঞতা প্রকাশ করলেন মুম্বইয়ের এক মহিলা। সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়ে যায় তাঁর পোস্ট। সেইসঙ্গেই কাঠগড়ায় ওঠে সংস্থা কর্তৃপক্ষও।

জানা গেছে, বাড়িতে হোম-স্পা করাতে গিয়ে অঞ্জলি কেলকার নামের ওই মহিলা গ্রাহক প্রত্যক্ষ করেন, রীতিমতো 'অমানবিক' পরিস্থিতিতে কাজ করতে হয় কর্মীদের। পরবর্তীতে এই পোস্ট নিয়ে দেশজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি হলে আরবান কোম্পানি প্রকাশ্যে ক্ষমা চেয়ে জানায়, তারা বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখছে এবং কর্মীদের সুরক্ষা ও উন্নয়নে কাজ করছে।

ঠিক কী ঘটেছিল?

অঞ্জলি কেলকার নিয়মিতভাবেই আরবান কোম্পানির পরিষেবা নেন। সম্প্রতি lfvf একটি হোম স্পা বুক করেন সন্ধ্যা ৭:৩০টা নাগাদ। সেটিই ছিল ওই দিনের একমাত্র ফাঁকা স্লট। সন্ধ্যা ৭:১৫ নাগাদ থেরাপিস্ট নিশা (নাম পরিবর্তিত) ফোন করে জানান, তাঁর ১৫-২০ মিনিট দেরি হবে, কারণ তাঁর আগের অ্যাপয়েন্টমেন্ট তখনই শেষ হয়েছে এবং একটানা বুকিংয়ের কারণে সারাদিন কিছুই খাননি তিনি।

অঞ্জলির নিজের সময় নিয়ে সমস্যা থাকলেও, তিনি সম্মতি দেন মানবিকতার খাতিরে। অঞ্জলি তাঁর পোস্টে লেখেন, 'শেষমেশ নিশা রাত সওয়া ৮টা নাগাদ পৌঁছন, খুবই বিমর্ষ চেহারা ছিল তাঁর, চোখেও জল ছিল। আমি ওঁকে জল ও কিছু খাবার দিলাম, তখন একটু শান্ত হলেন তিনি।'

এরপরই নিশা তাঁর দুঃসহ অভিজ্ঞতার কথা অঞ্জলির কাছে বেন বলে জানিয়েছেন অঞ্জলি। তিনি লিখেছেন, কর্মীরা অসুস্থ বা ক্লান্ত হলেও বুকিং বাতিল করতে পারেন না। যদি তিনটি অ্যাপয়েন্টমেন্ট বাতিল করেন, তাহলে তাঁর প্রোফাইল সাময়িকভাবে সাসপেন্ড হয়ে যেতে পারে, ফলে উপার্জনে বড় ধাক্কা লাগে।

নিশার অভিযোগ অনুযায়ী, শহরের ট্রাফিকের কারণে অনেক সময় পৌঁছতে দেরি হলে, সে জন্য কমে যায় গ্রাহকদের রেটিং। তা ছাড়া এক অ্যাপয়েন্টমেন্ট থেকে আরেকটিতে যাওয়ার মাঝে কোনও ‘টাইম বাফার’ রাখা হয় না। তাই অনেকসময়ই রীতিমতো প্রাণ হাতে করে দ্রুত পৌঁছতে হয়। এর উপর স্পা ও ম্যাসাজের কাজ লাগাতার করে যাওয়া যথেষ্ট শ্রমসাধ্য। একটুও রেস্ট মেলে না মাঝে।

শুধু তাই নয়, এই কাজ করতে গিয়ে তাঁরা নিজেরাই বহন করেন ভারী ম্যাসাজ টেবিল ও অন্যান্য সরঞ্জাম। নিশা জানিয়েছেন, এই ধরনের একটানা শারীরিক পরিশ্রমের কারণে তাঁর হার্নিয়াও ধরা পড়েছে।

অঞ্জলি আরও লেখেন, 'খুব ক্লান্ত হলেও নিশা জেদ করে পুরো সেশনটি শেষ করেন এবং খুব দক্ষতার সঙ্গেই করেন। কিন্তু ওঁর অভিজ্ঞতা আমায় খুবই ধাক্কা দেয়।'

দেখুন অঞ্জলির সেই পোস্ট।

তিনি প্রশ্ন তোলেন, এই ধরনের কাঠামোর মধ্যে দিয়ে কোনও পরিষেবা প্ল্যাটফর্ম কীভাবে টিকে থাকতে পারে? আরবান কোম্পানির নীতিমালা ও সহায়ক ব্যবস্থাগুলোর পুনর্মূল্যায়নের দাবি তোলেন তিনি।

অঞ্জলি লেখেন, 'এমন একটি পারফরম্যান্স সিস্টেম তৈরি করা হয়েছে যেখানে কর্মীদের ব্যর্থ হওয়াই স্বাভাবিক, আর তার উলটোদিকে কোম্পানি লাগাতার চাপ তৈরি করে রেখেছে। এটা কি অমানবিক নয়? কর্মীদের কি যথাযথ কারণ দেখিয়ে কাজ প্রত্যাখ্যান করার অধিকার থাকা উচিত নয়? শহরগুলোর ট্রাফিকের কথা মাথায় রেখে কি প্রতিটি অ্যাপয়েন্টমেন্টের মাঝে নির্দিষ্ট সময়ের ব্যবধান থাকা উচিত নয়? আর আমাদের, গ্রাহকদের, কি আরও সংবেদনশীল হওয়া উচিত নয়?'

তিনি আরবান কোম্পানিকে সরাসরি লেখেন, 'আপনার টিমই আপনার সবচেয়ে বড় সম্পদ। তাঁদের যত্ন নিন।'

অঞ্জলির এই পোস্ট সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হতেই আরবান কোম্পানি একটি বিবৃতি দেয়। তারা জানায়, 'নিশার সঙ্গে আপনি যে মানবিক বার্তা আদানপ্রদান করেছেন, তা আমাদের হৃদয় ছুঁয়ে গেছে... এমন ঘটনা আমাদের মনে করিয়ে দেয়, আমাদের সার্ভিস পার্টনাররা কতটা প্রতিকূলতার মধ্যে কাজ করেন এবং আমাদের, একটি প্ল্যাটফর্ম হিসেবে, তাঁদের পাশে থাকার দায়বদ্ধতা কতটা!'

তারা আরও জানায়, তারা সিস্টেম উন্নয়নের লক্ষ্যে কাজ করছে। বিশেষত বুকিং, সময়সূচি এবং কর্মীদের কল্যাণ সম্পর্কিত বিষয়গুলি আরও সুসংহত করা হবে। তারা একথাও স্বীকার করে, অঞ্জলির অভিজ্ঞতা এমন কিছু বাস্তব সমস্যার ইঙ্গিত দেয়, যেগুলি আরও মনোযোগ দাবি করে।


```