যবনেশ তাঁর স্ত্রীর কাছে মেয়ের মৃত্যুর কারণ জানতে চাইলে, নগিনা খুনের কথা স্বীকার করেন। তিনি জানান, দাঁতের মাজনের সঙ্গে ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে তিন সপ্তাহের শিশুকে খুন করেছেন।

প্রতীকী ছবি
শেষ আপডেট: 3 August 2025 17:36
দ্য ওয়াল ব্যুরো: প্রথম দুটি সন্তান মেয়ে, তিন সপ্তাহ আগে আরও এক কন্যা সন্তানের জন্ম দিয়েছেন উত্তরপ্রদেশের বাসিন্দা নগিনা (UP woman killed newborn)। তারপর থেকেই স্বামীর তিরস্কার আর শ্বশুরবাড়ির চাপ। ছেলে জন্ম দিতে না পারায় নানা কুকথা শুনতে হয় তাঁকে। মানসিক যন্ত্রণা সহ্য করতে না পেরে সদ্যোজাতকে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে খুন করতে বাধ্য হলেন জন্মদাত্রী মা।
পুলিশ সূত্রে খবর, ২০১৯ সালের ১২ এপ্রিল যবনেশ কুমারের সঙ্গে নগিনার বিয়ে হয়। দম্পতির দুটি মেয়ে আছে। গত ৮ জুলাই তৃতীয় কন্যা সন্তানের জন্ম দেন নগিনা। এরপর থেকেই শুরু হয় শ্বশুরবাড়ির নির্যাতন।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার দিন যবনেশের বাড়ির সকলে বাইরে গিয়েছিলেন। দুপুরে তাঁরা যখন ফেরেন, যবনেশের ভাইয়ের বউ লক্ষ্য করেন, সদ্যোজাত মেয়ে ঠান্ডা ও নিস্তেজ হয়ে পড়ে রয়েছে। সঙ্গে সঙ্গে তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। চিকিৎসকেরা জানান, শিশুটি অনেকক্ষণ আগেই মারা গিয়েছে। পরিবার ধরে নেয়, স্বাভাবিক কারণেই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। তাকে কবর করে দিয়ে আসা হয়।
এর দু'দিন পর যবনেশ তাঁর স্ত্রীর কাছে মেয়ের মৃত্যুর কারণ জানতে চাইলে, নগিনা খুনের কথা স্বীকার করেন (UP woman killed newborn)। তিনি জানান, দাঁতের মাজনের সঙ্গে ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে তিন সপ্তাহের শিশুকে খুন করেছেন। এই স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে পুলিশ নগিনার বিরুদ্ধে খুনের মামলা দায়ের করেছে এবং তাঁকে গ্রেফতার করে জেল হেফাজতে পাঠানো হয়েছে।
প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে, নগিনা দীর্ঘদিন ধরেই মানসিক চাপে ভুগছিলেন। ‘পুত্রসন্তান চাই’, স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির সদস্যদের এই প্রত্যাশাও তার উপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করেছিল। সেই থেকেই এই মর্মান্তিক পরিণতির বলি হতে হল শিশুটিকে।