
নিরপরাধ মুন্নি দেবী।
শেষ আপডেট: 18 April 2025 12:13
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বিদ্যুৎ চুরির মামলায় অভিযুক্ত এক মহিলাকে গ্রেফতার করার জন্য খুঁজছিল পুলিশ। উত্তরপ্রদেশের বরেলির বান্দিয়া গ্রামের মুন্নিকে ধরার জন্য অভিযান চালাতে গিয়েছিল তারা। গিয়ে গ্রেফতারও করে নিয়ে এল, ভরে দিল জেলেও। কিন্তু ছোট্ট একটা ভুলেই হল সর্বনাশ। অভিযুক্ত যে মুন্নি, সে ছোটের বৌ। আর গ্রেফতার করা হল যে মুন্নিকে, তাঁর নামটা একই হলেও, মানুষটা আলাদা। তাঁর স্বামী জানকি প্রসাদ।
১৩ এপ্রিল, ২০২৫-এ ঘটনাটি ঘটে। ২০২০ সালে একটি স্থানীয় আদালত বিদ্যুৎ চুরির মামলায় ছোটের স্ত্রী মুন্নির বিরুদ্ধে জামিন অযোগ্য ওয়ারেন্ট জারি করেছিল। সেই ওয়ারেন্ট কার্যকর করতে পুলিশ গ্রামে আসে, কিন্তু নাম মেলানো ছাড়া কোনওরকম যাচাই না করেই ধরে নেয় যে, ধৃত মহিলাই সেই মুন্নি।
নিরপরাধ মুন্নি দেবী এরপর চার দিন ধরে জেল হেফাজতে কাটান। এমন একটি অপরাধের জন্য এই সাজা পান, যার সঙ্গে তাঁর কোনও যোগই ছিল না। পুলিশের এই মারাত্মক ভুলের ফলে এক সাধারণ গৃহবধূকে প্রশাসনিক হেনস্থার শিকার হতে হয়।
চার দিন পর পুলিশ তাদের ভুল বুঝতে পেরে মুন্নি দেবীকে মুক্তি দেয়। অভিযোগ, এত বড় ভুলের জন্য তাঁর কাছে কোনও ক্ষমা চাওয়া হয়নি পুলিশের তরফে। উল্টে তাঁকে ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের 'চুপচাপ থাকতে ও সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা না বলতে' নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ।
মুন্নি দেবী নিজে জানান, তাঁদের গ্রামে মুন্নি নামে দু'জন মহিলা রয়েছেন। একজন হলেন তিনি নিজে, অন্যজন হলেন অভিযুক্ত ছোটের স্ত্রী। সেই জন্যই গুলিয়ে ফেলে পুলিশ।
এই ঘটনায় পুলিশের ভূমিকায় একাধিক প্রশ্ন উঠেছে। কীভাবে পুলিশ শুধুমাত্র নামের ভিত্তিতে কাউকে গ্রেফতার করতে পারে! স্বামীর নাম, বয়স, ঠিকানা কিংবা অন্য কোনও তথ্য যাচাই না করে এমন পদক্ষেপ কেন? মুন্নি দেবীর সম্মানহানি ও মানসিক ক্ষতির দায় কে নেবে?
পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তদন্ত চলছে। তবে এখনও পর্যন্ত কোনও লিখিত ক্ষমা বা ক্ষতিপূরণের আশ্বাস দেওয়া হয়নি। অভিযোগ, এই ঘটনা কেবল একটি প্রশাসনিক ভুল নয়, এটি একটি নাগরিকের ন্যায্য অধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা। একই নাম থাকার কারণে একজন নিরপরাধ মহিলা যখন জেল খাটেন, তখন প্রশ্ন ওঠে দেশের তদন্ত ব্যবস্থা, মানবাধিকার ও আইনি সচেতনতার দিক নিয়ে। এখন দেখার বিষয় হল, এই ঘটনায় উত্তরপ্রদেশ প্রশাসন কোনও দৃষ্টান্তমূলক পদক্ষেপ নেয় কিনা।