
সংগৃহীত ছবি
শেষ আপডেট: 18 November 2024 12:43
দ্য ওয়াল ব্যুরো: শুক্রবার উত্তরপ্রদেশের ঝাঁসি মহারানি লক্ষ্মীবাঈ মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে আগুন লাগে। ঝলসে মৃত্যু হয় ১০ শিশুর। সেদিন মৃত্যুর সংখ্যা আরও বাড়তে পারত যদি না থাকতেন এই ব্যক্তি। নিজে জীবনের পরোয়া না করে শনিবার বাঁচিয়েছেন ৭ শিশুকে। তাঁর যমন দুই কন্যা সন্তানও ওইদিন ছিল ওই হাসপাতালেই। তারাও ভর্তি ছিল শিশুবিভাগে। কিন্তু নিজের সন্তানদেরই ওইদিন বাঁচাতে পারেননি তিনি।
শুক্রবার রাত সাড়ে ১০টা নাগাদ ঝাঁসি মহারানি লক্ষ্মীবাঈ মেডিক্যাল কলেজের এনআইসিইউ (নিওনেটাল ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিট)-তে আগুন লাগে। সেসময় ঘুমোচ্ছিল প্রায় সব শিশুই। ভিতরে ছিল ৪৭ জন। হঠাৎই আগুন লাগে ওয়ার্ডে। সেসময় সন্তানদের ঘুম পাড়িয়ে হাসপাতালের বাইরেই ছিলেন ইয়াকুব মনসুরি। তাঁর সঙ্গে ছিলেন আরও কয়েকজন।
আগুন লেগেছে বুঝতে পেরে, যে যার সন্তানকে বাঁচাতে ছোটেন। কিন্তু ধোঁয়ার তীব্রতা এতোটাই ছিল যে শিশুদের উদ্ধার করতে অনেকটা বেগ পেতে হয়। ইয়াকুব তাঁর যমজ দুই কন্যা সন্তানকে বাঁচাতে গেলেও ধোঁয়া আর আগুনের চোটে তাদের ওয়ার্ডেই ঢুকতে পারেনি।
পরে অন্য ওয়ার্ডের জানালার কাচ ভেঙে সাত শিশুকে তিনি উদ্ধার করেন। বাকিদের উদ্ধার করেন হাসপাতালের চিকিৎসক ও নার্সরা। পরে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় দমকল। তাঁর দুই কন্যা সন্তানের ততক্ষণে মৃত্যু হয়েছে। দেহ উদ্ধার হয় ও তিনি শনাক্ত করেন।
ইয়াকুব বলেন, 'আগুনের তীব্রতা এতোটাই ছিল যে, ভিতরে যাওয়ার সাহসও দেখাচ্ছিল না কেউ। ধোঁয়া আর আগুনের হলকানিতে উদ্ধার করা প্রায় অসম্ভব ছিল। আমি আমার মেয়েদের ওয়ার্ডে ঢুকতেই পারিনি। বাকি বাবা-মায়েদেরেও একই অবস্থা হয়। সবাই চেষ্টা করেন নিজেদের সন্তানকে বাঁচাতে। কিন্তু সম্ভব হয়নি। তারপরই আমরা বাকি শিশুদের বাঁচাতে উদ্যোগ নি।'
ইয়াকুব শেষে জানান, 'আমার দুই কন্যা সন্তান ছিল। ওদের বাঁচাতে পারিনি। আমি বিচার চাই। শুধু ওদের জন্য নয়। বিচার চাই প্রত্যেকটা শিশুর।'