অভিযোগ, সদ্য পাইলসের অস্ত্রোপচার হওয়া সত্ত্বেও উপরমহল থেকে তাঁর ছুটি বাড়ানো হয়নি। শেষ পর্যন্ত হতাশা, যন্ত্রণা ও ক্ষোভে তিনি চরম পদক্ষেপ নেন।

শেষ আপডেট: 5 March 2026 19:43
দ্য ওয়াল ব্যুরো: অসুস্থতার কারণে ছুটি না পেয়ে নিজের শারীরিক অক্ষমতার প্রমাণ দিতে হল শেষমেশ। তিনি যে চাকরিতে যোগ দেওয়ার জন্য 'আনফিট', তা বোঝাতে ঊর্ধ্বতন আধিকারিকের সামনে পোশাক খুলতে বাধ্য হলেন এক লোকো পাইলট - এমনই চাঞ্চল্যকর দাবি উঠেছে রেল কর্মীদের একাংশের তরফে (UP loco pilot denied sick leave undresses to prove)। ঘটনাটি ঘটেছে উত্তরপ্রদেশের (Uttar Pradesh) লখনউয়ে (Lucknow)।
অভিযোগ, সদ্য পাইলসের অস্ত্রোপচার হওয়া সত্ত্বেও উপরমহল থেকে তাঁর ছুটি বাড়ানো হয়নি (Indian Railways controversy)। শেষ পর্যন্ত হতাশা, যন্ত্রণা ও ক্ষোভে তিনি চরম পদক্ষেপ নেন (UP loco pilot Sick Leave Row)। প্যান্ট খুলে দাঁড়িয়ে পড়েন মুখ্য ক্রু কন্ট্রোলারের সামনে।
কী ঘটেছিল?
ওই ব্যক্তির নাম রাজেশ মীনা। তিনি লখনউয়ে কর্মরত এক লোকো পাইলট। সর্বভারতীয় লোকো রানিং স্টাফ অ্যাসোসিয়েশন (AILRSA)-এর নেতাদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে পাইলসে ভুগছিলেন মীনা।
প্রথমে ইন্দোরে চিকিৎসা করিয়েও বিশেষ উপকার পাননি। শেষমেশ গত ২২ ফেব্রুয়ারি লখনউয়ে তাঁর অস্ত্রোপচার হয়। অস্ত্রোপচারের জন্য ২২ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত তাঁকে ছুটি দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সপ্তাহের শেষে ক্ষত পুরোপুরি শুকোয়নি। শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় তিনি রেলওয়ের হেলথ ইউনিটে গিয়ে ছুটি বাড়ানোর আবেদন জানান।
চিকিৎসকের পরামর্শ, তবু মিলল না ‘সিক মেমো’
ইউনিয়নের দাবি, স্বাস্থ্যকেন্দ্রের চিকিৎসকেরা মীনাকে পরীক্ষা করে জানান, তাঁর আরও বিশ্রাম প্রয়োজন। তাঁকে ঊর্ধ্বতন আধিকারিকের কাছ থেকে ‘সিক মেমো’ সংগ্রহ করতে বলা হয়, যা মেডিক্যাল লিভ বাড়ানোর জন্য প্রয়োজনীয়। এরপর মীনা ক্রু কন্ট্রোলারের কাছে যান। পরে তিনি চিফ ক্রু কন্ট্রোলারের সঙ্গেও যোগাযোগ করেন। ইউনিয়নের তরফে ওই আধিকারিকের নাম রতন কুমার বলে চিহ্নিত করা হয়েছে।
মীনা প্রেসক্রিপশন, ল্যাব রিপোর্ট ও ড্রেসিং-সহ সমস্ত নথি পেশ করেন। অভিযোগ, তবুও প্রয়োজনীয় সিক মেমো দিতে অস্বীকার করা হয়।
বারবার আবেদন সত্ত্বেও ছুটি না মেলায়, এবং শারীরিক যন্ত্রণায় অতিষ্ঠ হয়ে মীনা নাকি চিফ ক্রু কন্ট্রোলারের সামনে নিজের প্যান্ট খুলে অপারেশনের ক্ষত দেখান, যাতে বোঝানো যায়, তিনি সত্যিই ডিউটির জন্য শারীরিকভাবে প্রস্তুত নন। ঘটনার একটি ভিডিও, যা সহকর্মীদের কেউ রেকর্ড করেছেন বলে দাবি, সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে। রেল কর্মীদের একাংশ এই ঘটনাকে ‘অমানবিক’ বলে আখ্যা দিয়েছেন।
ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে রেল কর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ বাড়তে থাকে।
ইউনিয়নের হস্তক্ষেপে মেলল ছুটি
পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠার পর ইউনিয়নের এক নেতার হস্তক্ষেপে শেষ পর্যন্ত রাজেশ মীনাকে ছুটি মঞ্জুর করা হয়।
AILRSA-র তরফে ঘটনায় জড়িত আধিকারিকের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপের দাবি জানানো হয়েছে। সংগঠনের বক্তব্য, এই ঘটনা রেল কর্মীদের জন্য গভীরভাবে অপমানজনক এবং অমানবিক।
প্রশ্নের মুখে কর্মপরিবেশ
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে আবারও প্রশ্ন উঠছে, রেল কর্মীদের চিকিৎসা সংক্রান্ত আবেদন কতটা সংবেদনশীলভাবে বিবেচনা করা হচ্ছে? একজন সদ্য অস্ত্রোপচার-সেরে ওঠা কর্মীকে কি এমন পরিস্থিতির মুখে পড়তে হবে, যেখানে নিজের শারীরিক ক্ষত দেখিয়ে প্রমাণ দিতে হয় যে তিনি সত্যিই অসুস্থ? উত্তরপ্রদেশের লখনউয়ের এই ঘটনা আপাতত ভারতীয় রেলের অন্দরে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে।