.jpeg)
ফাইল ছবি।
শেষ আপডেট: 12 April 2025 09:34
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রাজ্য বিধানসভায় (State Assembly) পাশ হওয়া বিলে সম্মতি দেওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে তিন মাস সময় পাবেন রাষ্ট্রপতি (President of India) । কোনও কারণে তিনমাসের মধ্যে সিদ্ধান্ত নিতে না পারলে ফাইলে উপযুক্ত কারণ উল্লেখ করতে হবে রাষ্ট্রপতিকে। রাষ্ট্রপতি ভবন (Office of President of India) রাজ্য সরকারকেও কারণ জানাতে বাধ্য থাকবে।
তামিলনাড়ু সরকার (Government of Tamil Nadu) এবং রাজ্যপালের (Governor) মামলায় গত মঙ্গলবার দীর্ঘ রায় দেয় সুপ্রিম কোর্টের (Supreme Court of India) দুই বিচারপতির বেঞ্চ। বিচারপতি জেবি পার্দিওয়ালা (Judge JB Pardiwala) ও বিচারপতি আর মহাদেবন (Judge R Mahadevan) তামিলনাড়ুর রাজ্যপাল এন রবির (Governor N Ravi) কড়া সমালোচনা করে রায় দেন। রাজ্যপাল রবির বিরুদ্ধে শীর্ষ আদালতে মামলা করেছিল তামিলনাড়ুর ডিএমকে সরকার। এমকে স্ট্যালিনের (MK Stalin) নেতৃত্বাধীন রাজ্য সরকারের অভিযোগ, রাজ্যপাল রবি রাজ্য বিধানসভায় পাশ হওয়া বারোটি বিল আটকে রেখেছেন। তিনি রাজ্য সরকারকে কিছুই জানাচ্ছেন না।
জবাবে রাজ্যপালের তরফে সুপ্রিম কোর্টকে জানানো হয়, বেশ কয়েকটি বিল রাষ্ট্রপতির বিবেচনার জন্য পাঠানো হয়েছে। প্রসঙ্গত, রাজ্য সরকারের বিলে রাজ্যপাল সম্মতি দেওয়ার আগে প্রয়োজন মনে করলে রাষ্ট্রপতির সম্মতি নিতে পারেন। বিশেষ করে কেন্দ্র ও রাজ্যের যৌথ তালিকাভুক্ত বিষয়ের ক্ষেত্রে রাজ্যপালের এমন পদক্ষেপ করার অধিকার আছে।
রাজ্যপাল রবি সুপ্রিম কোর্টের কাছে জবাবদিহি করলেও রাজ্য সরকারের তাঁর বিরুদ্ধে আদালতে যাওয়ার এক্তিয়ার নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন। সেই মামলায় গত মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্টের দুই বিচারপতির বেঞ্চের রায়ের একাংশ প্রকাশ পেয়েছিল। তাতে রাজ্যপালকে সতর্ক করে দিয়ে বলা হয়, উপযুক্ত সময়ের মধ্যে রাজ্যপালকে বিলের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। তিনি বিল অনন্ত কাল ফেলে রাখতে পারবেন না।
যদিও সংবিধানের সংশ্লিষ্ট ধারায় এই ব্যাপারে কোনও সময়সীমা বেঁধে দেওয়া নেই রাজ্যপালদের জন্য। সুপ্রিম কোর্টের বক্তব্য, সংবিধানের সংশ্লিষ্ট অনুচ্ছেদে ‘যথাযথ সময়’ শব্দ দুটি লেখা আছে। এর অর্থ রাজ্যপালদের বিল নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায় আছে। তাঁরা যথাযথ সময়ে বিলের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য। তামিলনাড়ু সরকার অভিযোগ করে রাজ্যপাল রবি তিন-সাড়ে তিন বছর যাবত বিলগুলির বিষয়ে কিছু জানাচ্ছেন না।
শুক্রবার রাতে সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে মামলায় পূর্ণাঙ্গ রায় আপলোড করা হয়েছে। তাতে দেখা যাচ্ছে শীর্ষ আদালত এই ব্যাপারে রাষ্ট্রপতিকেও ছাড় দেয়নি। রায়ে বলা হয়েছে, রাষ্ট্রপতিও বিলে সম্মতি দেওয়া বা না দেওয়ার বিষয়ে তিন মাসের মধ্যে সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য থাকবেন। তিনি অনন্তকাল বিল ফেলে রাখতে পারবেন না।
সুপ্রিম কোর্টের এই রায় নিয়ে সাংবিধানিক ও প্রশাসনিক মহলে চর্চা শুরু হয়েছে। অতীতে সুপ্রিম কোর্ট কখনও রাষ্ট্রপতিকে কোনও বিষয়ে সময়সীমা বেঁধে দেয়নি। রাষ্ট্রপতিকে সর্বদা বিচারের উর্ধ্বে রাখা হয়েছে। সেই ধারায় ইতি পড়ল বিচারপতি জেবি পার্দিওয়ালা এবং বিচারপতি আর মহাদেবনের রায়ে।
সংবিধানের ২০১ নম্বর অনুচ্ছেদে বিলের বিষয়ে রাষ্ট্রপতির করণীয় সম্পর্কে উল্লেখ আছে। সেখানে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে কোনও সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়নি। সুপ্রিম কোর্টের ব্যাখ্যা হল, রাষ্ট্রপতিও যথাযথ সময়ের মধ্যে সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য। সংবিধান তাঁকে বিবেচনাধীন বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে সীমাহীন সময় দেয়নি। শীর্ষ আদালতের বক্তব্য, সাংবিধানিক পদে আসীন পদাধিকারীরা কোনও কাজ ফেল রাখতে পারেন না। কারণ তাঁরাও গোটা ব্যবস্থার অংশ।
সুপ্রিম কোর্ট এই ব্যাপারে সারকারিয়া কমিশনের সুপারিশের উল্লেখ করেছে। ১৯৭৭ সালে তৎকালীন জনতা পার্টির সরকার বিগত ইন্দিরা গান্ধীর সরকারের সময়ে হওয়া সাংবিধানিক অনাচারের বিষয়ে তদন্ত এবং সেগুলি দূর করতে উপযুক্ত সুপারিশের জন্য বিচারপতি সারকারিয়ার নেতৃত্বে কমিশন গঠন করেছিল। সেই কমিশন বিল নিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে রাষ্ট্রপতিকে তিন মাস সময় বেঁধে দিয়েছিল।
তামিলনাড়ুর রাজ্যপালের রাজ্য সরকারের মামলা করার এক্তিয়ার নিয়ে উত্থাপিত প্রশ্নের জবাবে শীর্ষ আদালত কী বলেছে? দুই বিচারপতির বেঞ্চ বলেছে, রাজ্যপাল বিল আটকে রাখলে রাজ্য সরকারগুলির কাছে আদালতের দ্বারস্থ হওয়া ছাড়া আর কোনও পথ খোলা নেই।