এই সিদ্ধান্তে শুধু যে বিশ্বব্যাপী ছাত্র সমাজ বিপাকে পড়েছে তাই-ই নয়, সংকটের মুখোমুখি মার্কিন বিশ্ববিদ্যালয়-সহ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিও।

প্রতীকী ছবি
শেষ আপডেট: 28 May 2025 07:51
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আমেরিকায় (United States) পড়তে যেতে আগ্রহী ছাত্রছাত্রীদের জন্য দুঃসংবাদ। স্টুডেন্ট ভিসা (Students visa) দেওয়া বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (US President Donald Trump) । বিশ্বের সব দেশের জন্যই এই নিষেধাজ্ঞা বলবৎ করেছে হোয়াইট হাউস (White House) । বলা হয়েছে, এই সিদ্ধান্ত সাময়িক। তবে কতদিন কার্যকর থাকবে জানানো হয়নি।
বিভিন্ন দেশের মার্কিন দূতাবাসগুলিকে (US embassy and consulate) বলা হয়েছে, আমেরিকায় পড়তে আসতে আগ্রহীদের ভিসার দরখাস্ত নিয়ে আপাতত এগনোর দরকার নেই। ভিসা দেওয়ার আগে আবেদনকারীকে মুখোমুখি ডেকে কথা বলা বা ইন্টারভিউ পর্বও আপাতত স্থগিত রাখতে বলা হয়েছে।
এই সিদ্ধান্তে শুধু যে বিশ্বব্যাপী ছাত্র সমাজ বিপাকে পড়েছে তাই-ই নয়, সংকটের মুখোমুখি মার্কিন বিশ্ববিদ্যালয়-সহ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিও (US universities and institutions) । আনুমানিক হিসাব হল, শুধু মার্কিন বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতেই প্রতি বছর দশ লাখের বেশি বিদেশি ছেলেমেয়ে ভর্তি হয়। ভর্তির প্রক্রিয়া চলমান। আগামী মাস থেকে নতুন শিক্ষাবর্ষ চারু হওয়ার কথা। এই সময় ভিসা জটিলতায় ভর্তি আটকে থাকবে বহু পড়ুয়ার। আশঙ্কা করা হচ্ছে, ভর্তির সুযোগ পাওয়া অনেক পড়ুয়ার আমেরিকায় যাওয়া অনিশ্চিত হয়ে পড়তে পারে।
ভিসা নিয়ে কেন এমন সিদ্ধান্ত নিল মার্কিন প্রশাসন? ব্রিটিশ সংবাদপত্র দ্য গার্ডিয়ান জানিয়েছে, মার্কিন বিদেশ ও অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা মন্ত্রক সিদ্ধান্ত নিয়েছে, আবেদনকারীদের সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট ভাল করে চেক করা হবে। তারা কোন জাতীয় বিষয় বেশি পোস্ট, লাইক, শেয়ার করেন তা খতিয়ে দেখা হবে। সামাজিক মাধ্যমের কোনও গোষ্ঠীতে তারা যুক্ত কিনা, সেই গোষ্ঠীগুলির রাজনৈতিক, ধর্মীয় ও সামাজিক আদর্শ কী, খতিয়ে দেখা হবে তাও। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে মার্কিন বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে নিশানা করেন। তিনি বলেন, কিছু বিশ্ববিদ্যালয় অতি বাম মানসিকতার ছাত্রদের প্রশ্রয় দিচ্ছে। মার্কিন সেক্রেটারি অফ স্টেটস মার্কো রুবিও জানিয়েছেন, ইতিমধ্যে বহু পড়ুয়ার ভিসা বাতিল করা হয়েছে। তাদের নিজ দেশে ফিরে যেতে বলা হয়েছে।
সম্প্রতি আমেরিকায় প্যালেস্তান ইস্যুকে বিভিন্ন ক্যাম্পাসে বড় ধরনের বিক্ষোভ হয়। দেখা যায়, সেগুলির জন্য সমাজমাধ্যমকে ব্যবহার করা হয়েছে এবং আন্দোলনের সংশ্লিষ্টরা আগে থেকেই বিভিন্ন প্রতিবাদী মঞ্চ, সংগঠনের সমাজমাধ্যমের গোষ্ঠীর সদস্য।